ভারত এবং পাকিস্তানের মধ্যে যুদ্ধ থামিয়েছেন বলে দীর্ঘ দিন ধরে দাবি করে আসছেন আমেরিকার প্রেসি়ডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ভারত প্রথম থেকেই এই দাবি নস্যাৎ করে দিয়েছিল। এ বার পাকিস্তানের বিদেশমন্ত্রী ইশাক দার দাবি করলেন, যুদ্ধবিরতির জন্য পাকিস্তান কারও দ্বারস্থ হয়নি। কাউকে মধ্যস্থতা করতে বলেনি। তারা কেবল আমেরিকাকে জানিয়েছিল, তারা যুদ্ধের নয়, শান্তির পক্ষে।
সম্প্রতি পাক সংবাদমাধ্যমকে দার বলেন, ‘‘ভারতের সঙ্গে আলোচনার আয়োজন করে দেওয়ার জন্য পাকিস্তান কাউকে অনুরোধ করেনি। আমি আমেরিকার ফোন পেয়েছিলাম। আমাকে সংঘর্ষবিরতিতে রাজি হতে বলা হয়েছিল। পাকিস্তান যে যুদ্ধ চায়নি, আমি সেই অবস্থান স্পষ্ট করে দিই।’’ পাক বিদেশমন্ত্রী আরও জানান, ভারতের সেনা অভিযান ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর পর পাকিস্তানের সেনাবাহিনী যখন প্রত্যক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে, তখন আমেরিকা থেকে ফোন করে নিরপেক্ষ কোথাও আলোচনায় বসার অনুরোধ করা হয়। তিনি তাতে রাজি হয়েছিলেন বলে দাবি দারের। তাঁর কথায়, ‘‘ভারতের সঙ্গে একটাই বিষয়ে কথা হতে পারে। আমি ওদের জানিয়েছিলাম, কাশ্মীর-সহ যে সমস্ত বিষয় ঝুলে আছে, সেগুলি নিয়ে আলোচনা করব।’’ ভারতের সঙ্গে কাশ্মীর-সহ যে কোনও বিষয়ে আলোচনায় বসতে এখনও প্রস্তত ইসলামাবাদ, দাবি করেছেন পাক বিদেশমন্ত্রী।
আরও পড়ুন:
এখন প্রশ্ন, আমেরিকাকে মধ্যস্থতা করার প্রস্তাব তবে দিল কে? ভারত এবং পাকিস্তানের মধ্যে টানা চার দিনের সংঘাতের পর সংঘর্ষবিরতি হয়েছে ১০ মে। সে দিনই ভারতের বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছিল, দুই দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমে এই সংঘর্ষবিরতির সিদ্ধান্ত। এতে বাইরের কারও ভূমিকা নেই। আবার একই সঙ্গে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট বার বার দাবি করছিলেন, তিনি ‘বাণিজ্যের টোপ দিয়ে’ ভারত ও পাকিস্তানকে যুদ্ধবিরতিতে রাজি করিয়েছেন। অনেকেই মনে করছিলেন, পাকিস্তানের অনুরোধে আমেরিকা এ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করে। কিন্তু পাক বিদেশমন্ত্রী সেই সম্ভাবনা উড়িয়ে দিলেন। যদিও পাকিস্তানের দাবি, আমেরিকার মধ্যস্থতাতেই এই যুদ্ধবিরতি সম্ভব হয়েছে। তবে কি ট্রাম্প নিজে থেকেই এই সংঘর্ষে মধ্যস্থতার চেষ্টা করেছিলেন? প্রশ্ন উঠছে।
গত ২২ এপ্রিল পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলার পর ভারত ওই ঘটনায় পাকিস্তানকে দায়ী করে এবং তাদের বিরুদ্ধে একাধিক পদক্ষেপ করে। সিঁদুর অভিযানে ভারতের হামলায় ধ্বংস হয়ে যায় পাকিস্তানের একাধিক জঙ্গি ঘাঁটি। এর পরেই দুই দেশের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়েছিল। আপাতত সংঘর্ষবিরতি জারি থাকলেও নয়াদিল্লি এবং ইসলামাবাদের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের কোনও উন্নতি হয়নি। উভয়পক্ষই একে অপরের একাধিক যুদ্ধবিমান ধ্বংসের দাবি করেছে।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- সংঘর্ষবিরতিতে রাজি ভারত এবং পাকিস্তান। গত ১০ মে প্রথম এই বিষয় জানান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। পরে দুই দেশের সরকারের তরফেও সংঘর্ষবিরতির কথা জানানো হয়।
- সংঘর্ষবিরতি ঘোষণার পরেও ১০ মে রাতে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে গোলাবর্ষণের অভিযোগ ওঠে। পাল্টা জবাব দেয় ভারতও। ইসলামাবাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ ওঠে। তবে ১১ মে সকাল থেকে ভারত-পাক সীমান্তবর্তী এলাকার ছবি পাল্টেছে।
-
ভারত-পাকিস্তান দ্বিপাক্ষিক বিষয়, তৃতীয় পক্ষের হস্তক্ষেপ চায় না নয়াদিল্লি, জানিয়েছে আমেরিকা: পাক বিদেশমন্ত্রী
-
পাকিস্তানের বিরুদ্ধে দুরন্ত লড়াই, অগ্নিবীরদের ভাগ্য খুলে যেতে পারে, ৪ বছরের মেয়াদ বাড়বে? কী পরিবর্তন হতে পারে? চর্চা
-
ভারতের হামলায় কি গুঁড়িয়ে গিয়েছে আমেরিকায় তৈরি পাক যুদ্ধবিমান এফ-১৬? এক বাক্যে জবাব মার্কিন বিদেশ দফতরের
-
৩ মাস ধরে পালানোর চেষ্টা, শেষে চিনা যন্ত্র চালু করতেই গোয়েন্দাদের জালে পহেলগাঁওয়ের জঙ্গিরা
-
গোপন সুড়ঙ্গের মুখ কৌশলে বন্ধ করে ‘ফাঁদ’ পাতে সেনা? কেন তিন মাসেও কাশ্মীর ছাড়তে পারেনি পহেলগাঁওয়ের জঙ্গিরা