বাড়িতে তিনটে ছোট ছোট মেয়ে অপেক্ষা করছে তাঁর জন্য। স্বামী অসুস্থ। তাঁকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য বার বার অভিযুক্তদের কাছে কাকুতি-মিনতি করেছিলেন। পুলিশের কাছে এমনই দাবি করেছেন নির্যাতিতা। কিন্তু তাঁর কথা তো শোনা হয়ইনি, বরং মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ। হিন্দুস্তান টাইমস-কে নির্যাতিতা বলেন, ‘‘আমি ওদের (অভিযুক্তদের) বলেছিলাম আমাকে ছেড়ে দিন। আপনাদের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেব না। শুধু আমাকে যেতে দিন।’’ কিন্তু তার পরেও অত্যাচার চলে বলে অভিযোগ। দিল্লিতে চলন্ত বাসে গণধর্ষণকাণ্ডের ঘটনায় উঠে এল ভয়াবহ তথ্য।
পুলিশ সূত্রে খবর, এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই বাসচালক এবং কন্ডাক্টরকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাঁরা দু’জনেই উত্তরপ্রদেশের বাসিন্দা। ধৃতদের বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠানো হয়েছে। সুলতানপুরী এলাকায় দাদার বাড়িতে গিয়েছিলেন নির্যাতিতা। দাদা বাড়ি বদলাচ্ছিলেন, তাই তাঁকে সাহায্য করার জন্য গিয়েছিলেন তিনি। সেই কাজ সেরে তিনি বাড়ির ফেরার জন্য একটি টোটোতে ওঠেন। সেটিতে চেপে নির্যাতিতা সরস্বতী বিহার পর্যন্ত আসেন। সেখান থেকে বাস ধরে বাড়ি ফেরার কথা ছিল তাঁর।
সংবাদমাধ্যমকে নির্যাতিতা বলেন, ‘‘বাসস্ট্যান্ডে আমি দাঁড়িয়েছিলাম। একটি বেসরকারি বাস এসে দাঁড়ায়। বাসের ভিতরে থাকা ব্যক্তির কাছে সময় জানতে চেয়েছিলাম। তিনি আমাকে বলেন, বাসে উঠে আসুন, কথা আছে। আমি বাসে উঠে পড়ি। যেই না বাসে উঠেছি, আমাকে ধাক্কা মেরে ভিতরে দিকে ঠেলে দেওয়া হয়। আর বাসটাও চলতে শুরু করে।’’ নির্যাতিতার দাবি, বাসে তিনি ছাড়াও আরও দু’জন ছিলেন। যে ব্যক্তির কাছে সময় জানতে চেয়েছিলেন, সেই ব্যক্তি তাঁকে বাসের পিছনের দিকে আসনে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করেন। বাস তখন চলছিল। তাঁর অভিযোগ, নাংলোই রেলস্টেশনে একটু দূরে বাসটিকে দাঁড় করানো হয়। তার পর চালকও তাঁকে ধর্ষণ করেন।
তিনি চিৎকার করতে গেলে মুখ চেপে ধরা হয়। নির্যাতিতা বলেন, ‘‘আমি ওঁদের (অভিযুক্তদের) বলেছিলাম আপনাদের বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ জানাব না। তার পরই ওঁরা আমাকে ছাড়েন। তার পরই আমি পুলিশকে ফোন করি।’’ তত ক্ষণে বাসচালক এবং আরও দু’-তিন জন ব্যক্তি ঘটনাস্থল ছাড়েন। কিন্তু কন্ডাক্টর তখনও সেখানে ছিলেন। পুলিশ এসে কন্ডাক্টরকে গ্রেফতার করে। নির্যাতিতাকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। তাঁকে হাসপাতালে মেডিক্যাল পরীক্ষার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়। প্রসঙ্গত, গত ১২ মে রাজধানীতে চলন্ত বাসে গণধর্ষণের অভিযোগ ওঠে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে মহিলাদের নিরাপত্তা নিয়ে আবার বড় প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।