বিদেশে পণ্য রফতানির ক্ষেত্রে বিরল মাইলফলক স্পর্শ করেছে ভারত। চার রাজ্যে বিপুল জয়ের পর প্রথম ‘মনের কথা’য় সে কারণে দেশবাসীকে অভিনন্দন জানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বললেন, ‘‘গত সপ্তাহে ভারত ৩০ লক্ষ কোটি টাকার (৪০০ বিলিয়ন ডলার) রফতানি লক্ষ্য অর্জন করেছে। আপাতদৃষ্টিতে মনে হতে পারে, এটা অর্থনীতির কোনও ব্যাপার। কিন্তু না, এটা আসলে ভারতের ক্ষমতা ও যোগ্যতার বিষয়। এর অর্থ হল, গোটা বিশ্বে ভারতের পণ্যের চাহিদা ক্রমেই বাড়ছে।’’
মার্চের শেষ রবিবার প্রধানমন্ত্রীর রেডিও অনুষ্ঠান ‘মন কি বাত’-এ মোদী বলেন, ‘‘অর্থনৈতিক উন্নয়নের পথে ভারত দৃঢ় পদক্ষেপে এগিয়ে চলেছে। যখন প্রত্যেক ভারতীয় ‘ভোকাল ফর লোকাল’-এর কথা বলবেন, তখন সেই ‘লোকাল’-এর ‘গ্লোবাল’ হয়ে উঠতে বিশেষ সময় লাগবে না।’’
প্রসঙ্গত, গত বছরের তুলনায় এ বার ভারতের বিদেশে পণ্য রফতানি ৩৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এই প্রথম একটি অর্থবর্ষে ভারতের পণ্য রফতানি ৩০ লক্ষ কোটি টাকা পেরিয়ে গিয়েছে।
কিন্তু কী ভাবে এই বিরল কৃতিত্ব অর্জন সম্ভব হল? মনের কথায় তা-ও জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘‘আজ, আমাদের ছোট উদ্যোগপতিরাও দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের লক্ষ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিচ্ছে। ‘ই-মার্কেটপ্লেস’-এর উপর ভিত্তি করে তারাও সরকারের হাত মজবুত করছে। এ বিষয়ে আমাদের সহায় হয়েছে প্রযুক্তির ব্যবহার।’’ মোদী বলেন, ‘‘আগে মনে করা হত, বড় বড় লোকেরাই কেবল সরকারকে পণ্য বিক্রি করতে পারে। কিন্তু এখন সরকারের ‘ই-মার্কেটপ্লেস’-এর মাধ্যমে সেই ধারণার আমূল বদল সম্ভব হয়েছে। যা দেশে নয়া উদ্দীপনার সঞ্চার করেছে।’’
Earlier it was believed only big people could sell products to the Government but the GeM Portal has changed this, illustrating the spirit of a New India! #MannKiBaat pic.twitter.com/GnNmYt6gnh
— PMO India (@PMOIndia) March 27, 2022
শুধু রফতানি ক্ষেত্রে কৃতিত্ব অর্জনের কথাই নয়, প্রধানমন্ত্রী মনের কথায় ঘুরেফিরে এসেছে অম্বেডকর, জ্যোতিরাও ফুলের বিরল কৃতিত্বের কথাও। তাঁদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে তিনি বলেন, ‘‘আমি নিজেকে অত্যন্ত সম্মানিত মনে করছি, কারণ আমি বাবা সাহেব অম্বেডকরের স্মৃতিবিজড়িত ‘পঞ্চতীর্থে’ যাওয়ার সৌভাগ্য পেয়েছি। আমি সকলকেই অনুরোধ করব, এই জায়গাটি ঘুরে দেখার জন্য। জ্যোতিরাও এবং সাবিত্রীবাই ফুলের কাজের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘‘আসুন আমরা ওঁদের দেখানো পথে মেয়েদের শিক্ষাদানের প্রক্রিয়াকে আরও সুসংহত এবং শক্তিশালী করে তুলি। কারণ নারী ক্ষমতায়ন না হলে দেশ এগোবে না।’’