Advertisement
E-Paper

ওড়িশার কঙ্কালকাণ্ড: কবর খোঁড়ার আগে ৩২ মিনিট ব্যাঙ্কে ছিলেন জিতু! সিসি ক্যামেরার ফুটেজে কী দেখা গেল

ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী মোহনচরণ মাঝি ইতিমধ্যে কেওনঝড়ের ওই ঘটনায় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রীর দফতর জানিয়েছিল, রাজস্ব দফতরের বিভাগীয় কমিশনারকে তদন্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যত দ্রুত সম্ভব তাঁকে রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০১ মে ২০২৬ ১১:৫৫
দিদির কঙ্কাল কাঁধে নিয়ে ব্যাঙ্কের পথে জিতু মুন্ডা। মঙ্গলবার এই দৃশ্য ছড়িয়ে পড়ে সমাজমাধ্যমে।

দিদির কঙ্কাল কাঁধে নিয়ে ব্যাঙ্কের পথে জিতু মুন্ডা। মঙ্গলবার এই দৃশ্য ছড়িয়ে পড়ে সমাজমাধ্যমে। ছবি: সংগৃহীত।

ওড়িশার কেওনঝড়ের ঘটনায় ব্যাঙ্কের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ ইতিমধ্যে তদন্তকারীদের হাতে এসেছে। তাতে দেখা যাচ্ছে, গত সোমবার ৩২ মিনিট ওই ব্যাঙ্কটিতে ছিলেন প্রৌঢ় জিতু মুন্ডা। ব্যাঙ্কের ম্যানেজার এবং অন্য কর্মীদের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টাও করেন তিনি।

কেওনঝড়ের দিয়ানালি গ্রামের বাসিন্দা জিতুর দিদির কয়েক মাস আগেই মৃত্যু হয়েছে। দিদির স্বামী-সন্তানের মৃত্যু হয়েছে আগেই। এ অবস্থায় ব্যাঙ্কে দিদির অ্যাকাউন্টে গচ্ছিত ১৯,৩০০ টাকা তুলতে গিয়েছিলেন জিতু। কিন্তু ম্যানেজার জানিয়ে দেন, টাকা দিতে পারবেন না। আগে প্রমাণ দিতে হবে, তার পর বাকি প্রক্রিয়া শুরু হবে। কিন্তু জিতুর কাছে দিদির মৃত্যুর শংসাপত্র ছিল না। কোথা থেকে কী নথি জোগাড় করতে হয়, তা-ও তাঁর জানা ছিল না। এ অবস্থায় কবর খুঁড়ে দিদির কঙ্কাল নিয়ে ব্যাঙ্কে হাজির হন জিতু।

ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী মোহনচরণ মাঝি ইতিমধ্যে কেওনঝড়ের ওই ঘটনায় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রীর দফতর জানিয়েছিল, রাজস্ব দফতরের বিভাগীয় কমিশনারকে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যত দ্রুত সম্ভব তাঁকে রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়।

মুখ্যমন্ত্রীর দফতরের নির্দেশের পরে ইতিমধ্যে তদন্ত শুরু করেছেন রাজস্ব দফতরের বিভাগীয় কমিশনার সংগ্রামকেশরী মহাপাত্র। বৃহস্পতিবার কেওনঝড়ের জেলাশাসক বিশাল সিংহ এবং অন্য আধিকারিকদের নিয়ে তিনি ওই ব্যাঙ্কে যান। সেখানে সিসি ক্যামেরার ফুটেজ খতিয়ে দেখেন। ব্যাঙ্কের আধিকারিকদের সঙ্গে কথাও বলেন তাঁরা।

সূত্রের খবর, গত সোমবার সকাল ১১টা ২৬ মিনিটে ব্যাঙ্কে গিয়েছিলেন তিনি। প্রায় ৩২ মিনিট সেখানে থাকার পরে সকাল ১১টা ৫৮ মিনিটে বেরিয়ে যান। এই ৩২ মিনিটে ব্যাঙ্কের ম্যানেজার-সহ অন্য কর্মীদের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করেন তিনি। সংগ্রামকেশরী বলেন, ‘‘সিসি ক্যামেরার ফুটেজগুলিতে কোনও অডিয়ো নেই। ফলে তিনি ব্যাঙ্কের কর্মীদের সঙ্গে কী কথা বলেছেন, তা ভি়ডিয়ো থেকে স্পষ্ট নয়।”

প্রাথমিক অনুসন্ধান ব্যাঙ্ককর্মীদের গাফিলতির দিকেই ইঙ্গিত করছে। জানা যাচ্ছে, মৃত্যুর শংসাপত্র এবং বৈধ উত্তরাধিকার শংসাপত্র ছা়ড়া ব্যাঙ্ককর্মীরা জিতুকে ওই টাকা দিতে চাননি। পরবর্তী সময়ে ব্যাঙ্কের ম্যানেজার তাঁকে বেরিয়ে যেতে বলেন। জিতুর সঙ্গে যে ঘটনা ঘটেছে, তা ‘অত্যন্ত লজ্জাজনক’ বলেই ব্যাখ্যা করছেন রাজস্ব দফতরের বিভাগীয় কমিশনার। তিনি এ-ও জানান, ব্যাঙ্ককর্মীরা জিতু এবং তাঁর দিদিকে আগে থেকেই চিনতেন। তাঁরা আগে অন্তত আট বার ওই ব্যাঙ্কে গিয়েছিলেন। এর পরেও এমন ঘটনায় ব্যাঙ্ককর্মীদের গাফিলতি থাকতে পারে বলে মনে করছেন তিনি।

রাজস্ব দফতরের বিভাগীয় কমিশনার বলেন, “আমি ব্যাঙ্কের আধিকারিকদের সঙ্গে এবং জিতু মুন্ডার সঙ্গে কথা বলেছি। প্রাথমিক ভাবে দেখা যাচ্ছে, ব্যাঙ্কেরই গাফিলতি ছিল। জিতু এবং তাঁর বোন অতীতেও বেশ কয়েক বার ব্যাঙ্কে গিয়ে টাকা তুলেছিলেন। মুন্ডা নিরক্ষর নন, কিন্তু তিনি ব্যাঙ্কিং পদ্ধতি সম্পর্কে বিশেষ কিছু জানেন না।”

Odisha Keonjhar Skeleton
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy