E-Paper

বিমানবন্দর উদ্বোধন করে ভোট-প্রচারের সূচনা প্রধানমন্ত্রীর

প্রকল্পকে ‘উত্তরপ্রদেশের উন্নয়নের প্রতীক’ এবং ‘উন্নত উত্তরপ্রদেশ, উন্নত ভারত’ অভিযানের একটি ‘নতুন অধ্যায়ের’ অংশ হিসেবে তুলে ধরেছেন মোদী।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৯ মার্চ ২০২৬ ১০:০৬
নয়ডার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের প্রথম দফার উদ্বোধনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী,

নয়ডার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের প্রথম দফার উদ্বোধনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ, আনন্দীবেন পটেল-সহ অনেকে। শনিবার। ছবি: পিটিআই

উত্তরপ্রদেশে বিধানসভা নির্বাচনের এখনও দশ মাস দেরি। কিন্তু আজ নয়ডা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের প্রথম দফার উদ্বোধন করে কার্যত নির্বাচনী প্রচারেই উড়াল দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথকে পাশে বসিয়ে নিজের বক্তৃতায় বিগত সমাজবাদী পার্টি সরকার এবং কেন্দ্রে মনমোহন সিংহ সরকারকে নিশানা করলেন তিনি। চেষ্টা করলেন রাজ্যের যুব এবং বিক্ষুব্ধ কৃষক সম্প্রদায়ের (বিশেষ করে আখ চাষি) মন জয়ের। বোঝাতে চেষ্টা করলেন, আদতে পশ্চিম উত্তরপ্রদেশ তথা রাজ্যের ‘যুবশক্তির ভবিষ্যতের উড়ানেরই’ উদ্বোধন হল আজ। রাজনৈতিক শিবিরের মতে, একই সঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারের উড়ানও শুরুহয়ে গেল।

মোদীর কথায়, ‘‘বাজপেয়ী সরকার ২০০৩ সালে এই বিমানবন্দর প্রকল্পের মঞ্জুরি দিয়ে দিয়েছিল। তারপর কেন্দ্রে ইউপিএ সরকার এবং রাজ্যে বিভিন্ন সরকার বছরের পর বছর একটি ইটও গাঁথেনি। ২০১৪ সাল পর্যন্ত প্রকল্প ফাইলবন্দি ছিল। আমরা কেন্দ্রে ক্ষমতায় আসার পর রাজ্যের এসপি সরকার তিন বছর কোনও কাজ করতে দেয়নি। এরপর বিজেপি রাজ্যে ক্ষমতায় এল। শুরু হল কাজ। আজ শেষও হয়ে গেল (প্রকল্পের কাজ)।’’ বক্তৃতায় বারবার ‘ডাবল ইঞ্জিন’ সরকারের প্রসঙ্গ তুলেছেন প্রধানমন্ত্রী।

একুশের কৃষক আন্দোলনে দলে দলে সামিল হয়েছিলেন পশ্চিম উত্তরপ্রদেশের কৃষকেরা। তাঁদের ক্ষোভের আঁচ পড়েছিল ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে। আখ চাষিদের অভিযোগ, আখ নিংড়ে যে চিনি তৈরি হয়, যা হাতবদলে মোড়কবন্দি হয়ে চলে যায় দেশি-বিদেশি পুঁজিপতি সংস্থার হাতে, তার দাম মিলছে কোথায় কৃষকদের? উৎপাদনের তুলনায় চিনিকল অনেক কম। গুদামজাত করার পরিকাঠামো নেই। যা আছে তাতেও বেসরকারি মালিকানা বেশি। সরকারি কলগুলি তিরিশ বছরের পুরনো। দম কমে আসছে। ন্যূনতম সহায়ক মূল্য ১০ বছরে কুইন্টাল প্রতি ৩২০ টাকা থেকে ৩৯০ টাকায় পৌঁছেছে। সাড়ে চারশোর কমে দরে পোষাচ্ছে না কৃষকদের। কারণ উৎপাদনের খরচ বেড়েছে লাগামছাড়া ভাবে। এই বিষয়গুলি যে আগামী বছর বিধানসভা ভোটে যাওয়ার আগে বিজেপিকে পীড়া দেবে, তা বিলক্ষণ জানে মোদী সরকার। আজ মোদী তাঁর বক্তৃতায় তাই যত্নবান হয়েছেন কৃষক সম্প্রদায়ের ব্যাপারে। তাঁর কথায়, ‘‘আমি এখানকার কৃষকদের কাছে ঋণী। কারণ তাঁরা বিমানবন্দর তৈরির জন্য জমি দিয়েছেন। তাঁদের যোগদানে উন্নয়নের নতুন যুগ নয়ডায় শুরু হল। এ বার এখানকার কৃষি উৎপাদন গোটা বিশ্বের কাছে অনায়াসে পৌঁছ‌ে যাবে। খাদ্য প্রক্রিয়াকরণে নতুন ঢেউ আসবে।’’ পাশাপাশি রাজ্যের আখচাষিদের ভূমিকার কথা তুলে ধরে মোদী জানান, ইথানল উৎপাদনের প্রসারের ফলে অশোধিত তেল আমদানির উপরে ভারতের নির্ভরতা কমেছে। তাঁর কথায়, “যদি ইথানলের উৎপাদন না বাড়ত, যদি পেট্রলে এর মিশ্রণ না বাড়ত, তা হলে দেশকে প্রতি বছর বিদেশ থেকে ৪.৫ কোটি ব্যারেল অশোধিত তেল আনতে হত। যা প্রায় ৭০০ কোটি লিটার জ্বালানি আমদানির সমান।”

প্রধানমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, নয়ডার এই নতুন জেওয়ার বিমানবন্দরটি আঞ্চলিক উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। যাতে আগরা, মথুরা, আলিগড়, গাজিয়াবাদ এবং মিরাটের মতো জেলাগুলি উপকৃত হবে। তিনি এই প্রকল্পকে ‘উত্তরপ্রদেশের উন্নয়নের প্রতীক’ এবং ‘উন্নত উত্তরপ্রদেশ, উন্নত ভারত’ অভিযানের একটি ‘নতুন অধ্যায়ের’ অংশ হিসেবে তুলে ধরেছেন।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Noida airport

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy