তিনি সংসদে হট্টগোল পাকাতে যান না। তিনি সংসদে যান তাঁর কাজের মাধ্যমে ছাপ ফেলার জন্য। শনিবার এমনটাই জানালেন আম আদমি পার্টি (আপ)-র রাজ্যসভার সাংসদ রাঘব চড্ঢা। একই সঙ্গে তাঁর বিরুদ্ধে দল যে অভিযোগগুলি তুলছে, তা-ও অস্বীকার করেন তিনি। রাঘবের দাবি, তাঁর বিরুদ্ধে ওই অভিযোগগুলি মিথ্যা এবং উদ্দেশপ্রণোদিত ভাবে এগুলি প্রচার করা হচ্ছে।
গত বৃহস্পতিবারই রাঘবকে রাজ্যসভায় সহকারী দলনেতা (ডেপুটি লিডার)-র পদ থেকে সরিয়ে দিয়েছে আপ। দলের অভিযোগ, বিরোধী সাংসদেরা যখন ওয়াকআউট করেন, তখন তাতে ছিলেন না রাঘব। এমনকি মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে সংসদে যে অনাস্থা প্রস্তাব আনা হয়েছিল, তাতেও রাঘব স্বাক্ষর করেননি বলে অভিযোগ। এই দুই অভিযোগই অস্বীকার করেছেন রাঘব।
শনিবার এক ভিডিয়োবার্তায় রাঘব দাবি করেন, সংসদে কী হচ্ছে না হচ্ছে, সবটাই সিসি ক্যামেরায় রেকর্ড হয়। সমালোচকদের উদ্দেশে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে তিনি বলেন, বিরোধীরা ওয়াকআউট করেছেন অথচ তিনি করেননি— তার প্রমাণ দেখাতে হবে। অন্য দিকে, জ্ঞানেশের বিরুদ্ধে প্রস্তাব প্রসঙ্গে তাঁর দাবি, কেউ-ই এমন কোনও নথিতে স্বাক্ষর করার জন্য তাঁকে অনুরোধ করেননি। রাঘব বলেন, “দলের কোনও নেতাই আমাকে এমন কোনও নথিতে সই করার জন্য বলেননি।” তাঁর দাবি, শুধু তিনি একা নন, আরও বেশ কয়েক জন আপ সাংসদও ওই প্রস্তাবে স্বাক্ষর করেননি।
আরও পড়ুন:
আপ সাংসদের দাবি, তিনি (বৃহৎ পরিসরে) প্রভাব ফেলার জন্য সংসদে যান। হট্টগোল করার জন্য নয়। রাঘবের কথায়, “সংসদ চলে সাধারণ মানুষের করের টাকায়। তাই তাঁদের উদ্বেগ এবং সমস্যার বিষয়গুলি তুলে ধরাই সাংসদদের দায়িত্ব।” তাঁর দাবি, এই সব অভিযোগই যে ‘মিথ্যা’, তা সঠিক সময়ে প্রকাশ্যে আসবে। রাঘব বলেন, “সংসদে আমার মূল লক্ষ্য ছিল সাধারণ মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলি তুলে ধরা। যেমন, জিএসটি, আয়কর, দিল্লির দূষণ, পঞ্জাবের জলসঙ্কট, জনস্বাস্থ্য, শিক্ষার মতো বিষয়গুলি।”
আরও পড়ুন:
গত বৃহস্পতিবারই রাজ্যসভার সচিবালয়ে চিঠি পাঠিয়ে আপ জানায়, রাজ্যসভায় তাদের সহকারী দলনেতার পদ থেকে সরানো হয়েছে রাঘবকে। একই সঙ্গে ওই চিঠিতে আরও জানানো হয়, আপের বরাদ্দ সময় থেকে বলার জন্য সুযোগ দেওয়া হবে না চড্ঢাকে। যদিও সংসদীয় বিধি অনুযায়ী অধিবেশন চলাকালীন এ ক্ষেত্রে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে রাজ্যসভার চেয়ারম্যানের।
গত দু’বছর ধরেই আপের কর্মসূচিতে নিয়ম করে গরহাজির থাকতেন চড্ঢা। গত বছর দিল্লি বিধানসভার ভোটের প্রচারেও তাঁকে দেখা যায়নি। এমনকি আবগারি দুর্নীতি মামলায় আপ প্রধান অরবিন্দ কেজরীওয়াল মুক্তি পাওয়ার পরেও তাঁর সঙ্গে দেখা করেননি রাঘব। তিনি বিজেপিতে যোগ দিতে পারেন বলে গত কয়েক মাস ধরেই জল্পনা চলছিল। তবে দলীয় কর্মসূচিতে শামিল না হলেও রাজ্যসভার অধিবেশনে এবং সমাজমাধ্যমে বিভিন্ন বিষয়ে সরব হতে দেখা গিয়েছে রাঘবকে।