আগে পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কংগ্রেসের সঙ্গে ভোট চুরি প্রসঙ্গে এক অবস্থানে ছিলেন না। কিন্তু এখন পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনে হারের পরে তিনি কংগ্রেসের সঙ্গে এক অবস্থানে এসে ভোট চুরির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের ডাক দিয়েছেন বলে দলের নেতাদের জানিয়েছেন রাহুল গান্ধী। শনিবার কংগ্রেসের সংখ্যালঘু উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে রাহুল এই মন্তব্য করেছেন। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ তুলেছেন, পশ্চিমবঙ্গ বা অসমে বিধানসভা নির্বাচন অবাধ ও নিরপেক্ষ ভাবে হয়নি। বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পরে মমতা অভিযোগ তুলেছিলেন ১০০ আসনে ভোট লুঠ করা হয়েছে। তখন রাহুল মমতার এই অভিযোগকে সমর্থন করেছিলেন।
শনিবার কংগ্রেসের এই বৈঠকেই রাহুল গান্ধী ‘ভবিষ্যৎবাণী’ করেছিলেন, আগামী এক বছরের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর গদি থেকে নরেন্দ্র মোদী বিদায় নিতে চলেছেন। এই মন্তব্যের খবর প্রকাশ্যে আসার পরে বিজেপি অভিযোগ তুলেছে, রাহুলের নেতৃত্বে কংগ্রেস গোটা দেশে নৈরাজ্য তৈরি করতে চাইছে। দেশের মানুষকে উস্কানি দিতে চাইছে। মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফডণবীসের মতো বিজেপি নেতারা আবার একে ‘মুঙ্গেরিলাল কে হাসিন সপনে’ ও ‘দিবাস্বপ্ন’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।
রাহুলের যুক্তি, পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের ফলে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি যে দিকে যাচ্ছে, দেশে যে ভাবে অর্থনৈতিক অসন্তোষ তৈরি হচ্ছে, তার প্রভাব দেশের রাজনীতিতে পড়বে। সেটাই নরেন্দ্র মোদীর পতনের কারণ হবে। রাহুল দাবি করেছেন, তিনি এর আগে যে সব ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন, সব মিলে গিয়েছে। এটাও মিলবে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী পীযূষ গয়াল থেকে বিজেপির নেতা-মুখপাত্ররা অভিযোগ তুলেছেন, এটা কোনও সাধারণ মন্তব্য নয়। এর পিছনে দেশে নৈরাজ্য তৈরি করার গভীর ষড়যন্ত্র রয়েছে। কংগ্রেস নেতারা পাল্টা যুক্তি দিয়েছেন, সব সরকারেরই মেয়াদ ফুরোয়। মোদী সরকারও বিদায় নেবে। গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে মানুষই মোদী সরকারকে হটাবে। শনিবার রাহুল দলের মুসলিম নেতাদেরও নিজেদের সম্প্রদায়ের সমস্যার কথা তুলে ধরতে বলেছেন। তাঁর বক্তব্য, যদি মুসলিমদের সমস্যা হয়, তা হলে মুসলিমদের সমস্যাই বলতে হবে। সংখ্যালঘু বলে লঘু করলে চলবে না।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)