দিন কয়েক আগেই আম আদমি পার্টি (আপ) ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন রাজ্যসভার সাংসদ সন্দীপ পাঠক। এ বার সেই সন্দীপ কি গ্রেফতার হবেন? বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, প্রাক্তন আপ নেতার বিরুদ্ধে দু’টি এফআইআর দায়ের করেছে পঞ্জাব পুলিশ। আর দু’টি এফআইআর-ই জামিন অযোগ্য ধারায় দায়ের হয়েছে।
এক সূত্র উদ্ধৃত করে ‘ইন্ডিয়া টুডে’ জানিয়েছে, আপ ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পরই সন্দীপের বিরুদ্ধে পর পর দু’টি এফআইআর দায়ের হয়েছে। দুর্নীতি এবং নারী হেনস্থার অভিযোগে এই এফআইআর বলে দাবি ওই সূত্রের। যদিও আনুষ্ঠানিক ভাবে এখনও এই মামলাগুলি সম্পর্কে কোনও তথ্য দেওয়া হয়নি। তবে জামিন অযোগ্য ধারায় এফআইআর দায়ের হয়েছে বলে দাবি ওই সূত্রের। সেই কারণে সন্দীপের গ্রেফতারির আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। একই সঙ্গে বিভিন্ন আইনি পদক্ষেপ হতে পারে প্রাক্তন আপ নেতার বিরুদ্ধে।
এই এফআইআরগুলি সম্পর্কে কিছু জানেন না বলে দাবি করেছেন সন্দীপ। তাঁর কথায়, ‘‘আমি এ ধরনের কোনও এফআইআর সম্পর্কে অবগত নই। পুলিশ কর্তৃপক্ষও আমাকে এ ব্যাপারে কিছু জানাননি।’’ তার পরেই সন্দীপ বলেন, ‘‘আমি সারাজীবন সততা এবং নিষ্ঠার সঙ্গে দেশের সেবা করেছি। দেশ যে কোনও দলের চেয়ে বড়। আমি কখনও দেশের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করব না। আর কাউকে তা করতেও দেব না।’’
আরও পড়ুন:
সন্দীপ এ-ও মনে করেন, যদি তাঁর বিরুদ্ধে কোনও এফআইআর দায়ের হয়ে থাকে তবে তা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। প্রাক্তন আপ নেতার কথায়, ‘‘আমার মতো কারও বিরুদ্ধে যদি কোনও পদক্ষেপ করা হয়, তবে বোঝাই যাচ্ছে তারা কতটা ভীত।’’
সন্দীপকে ২০২২ সালের এপ্রিলে পঞ্জাব থেকে সংসদের উচ্চকক্ষে পাঠায় অরবিন্দ কেজরীওয়ালের দল। অনেকেই সন্দীপকে ২০২২ সালে পঞ্জাব বিধানসভা নির্বাচনে আপের জয়ের নেপথ্যে অন্যতম কারিগর বলে মনে করেন। তবে রাঘব চড্ঢার সঙ্গে আপ ছেড়ে বিজেপি-তে চলে যান সন্দীপও। তাঁরা ছাড়াও আপ ছাড়েন রাজ্যসভার আরও পাঁচ সাংসদ। অশোক মিত্তল, স্বাতী মালিওয়াল, ভারতীয় দলের প্রাক্তন ক্রিকেটার হরভজন সিংহ, রাজিন্দর গুপ্ত, বিক্রম সাহনি। এঁদের মধ্যে স্বাতীর সঙ্গে দলের দূরত্ব তৈরি হয়েছিল ২০২৪ সালের মে মাসেই। কেজরীর এক ঘনিষ্ঠের বিরুদ্ধে হেনস্থার অভিযোগ এনেছিলেন তিনি। তবে বাকিদের দলত্যাগ একরকম অপ্রত্যাশিত ছিল। রাজ্যসভায় আপের মোট সদস্য সংখ্যা ছিল ১০। দুই-তৃতীয়াংশের বেশি সদস্য বিজেপি-তে চলে যাওয়ায় সন্দীপদের দলত্যাগবিরোধী আইনের কোপে পড়তে হবে না।