E-Paper

৪ বছরের কাজ সারতে হাতে ৪ মাস

রেজিস্ট্রার জেনারেল ও জনগণনা দফতরের কর্তাদের বক্তব্য, এখন রাজ্যে জনগণনার এক জন নোডাল অফিসার নিয়োগ করতে হবে।

প্রেমাংশু চৌধুরী

শেষ আপডেট: ১৮ মে ২০২৬ ০৮:৪৮
—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

চার বছরের কাজ চার মাসে!

গোটা দেশে ১ এপ্রিল থেকে জনগণনার প্রথম পর্বের কাজ শুরু হয়েছে। কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার এত দিন পশ্চিমবঙ্গে জনগণনা শুরুর জন্য সরকারি বিজ্ঞপ্তিই জারি করেনি। তার উপরে রাজ্য প্রশাসন গত চার বছর ধরে কেন্দ্রের জনগণনা দফতরের সঙ্গে অসহযোগিতার নীতি নিয়ে চলছিল। রাজ্যে পালাবদলের পরে শুভেন্দু অধিকারীর সরকার ক্ষমতায় এসে গত সপ্তাহে জনগণনার বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে। একই সঙ্গে জনগণনা দফতরের আধিকারিকদের সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে দৌড় শুরু হয়েছে। কারণ, জনগণনার প্রথম পর্বের কাজ ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে শেষ করতে হবে। হাতে মাত্র চার মাসের কিছু বেশি সময় রয়েছে।

কোভিডের জন্য ২০২১ সালে জনগণনা হয়নি। গত বছর জুনে কেন্দ্র বিজ্ঞপ্তি জারি করে, ২০২৭-এ জনগণনা হবে। তার প্রথম পর্বে, গৃহতালিকা তৈরির কাজ চলছে ২০২৬-এর ১ এপ্রিল থেকে ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে। আইন অনুযায়ী, কেন্দ্র গত বছর ১৬ জুন জনগণনার বিজ্ঞপ্তি জারির পরে রাজ্যকে বিজ্ঞপ্তি জারি করতে হত। রাজ্য তা করেনি। বিজেপি ক্ষমতায় এসেই সেই বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে।

তা বলে রাজ্যে এখনই জনগণনার কাজ শুরু করা যাবে, এমন নয়। রেজিস্ট্রার জেনারেল ও জনগণনা দফতরের কর্তাদের বক্তব্য, এখন রাজ্যে জনগণনার এক জন নোডাল অফিসার নিয়োগ করতে হবে। তার পরে জেলাশাসক, পুর-কমিশনার মিলিয়ে ২৯ জনকে মুখ্য জনগণনা আধিকারিক নিয়োগ করতে হবে। জনগণনার প্রথম পর্বে গৃহতালিকা তৈরির জন্য মোট ৩৩টি প্রশ্ন করা হবে। সেই প্রশ্নাবলি নিয়েও বিজ্ঞপ্তি জারি করতে হবে। রাজ্যস্তরে একটি সমন্বয় কমিটি তৈরি হবে। জনগণনা দফতর ও রাজ্য সরকারের মোট ১০৫ জন আধিকারিক জেলায় জেলায় গিয়ে আড়াই থেকে তিন হাজার রাজ্য সরকারি কর্মীদের প্রশিক্ষণ দেবেন। তার পরে ২ লক্ষের বেশি গণনাকারী ও সুপারভাইজ়ার বাছাই করে তাঁদের প্রশিক্ষণ দিতে হবে। এঁরাই বাড়ি বাড়ি গিয়ে জনগণনার কাজটি করবেন। সব মিলিয়ে রাজসূয় যজ্ঞ বাকি। অন্য সব রাজ্যে গত নভেম্বরে এই কাজের মহড়া হয়ে গিয়েছে। পশ্চিমবঙ্গে হয়নি। রাজ্য প্রশাসনের অসহযোগিতায় যাবতীয় প্রাথমিক প্রস্তুতি বাকি রয়ে গিয়েছে।

বাকি রাজ্যে কী পরিস্থিতি? কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের বক্তব্য, নয়াদিল্লি পুর-এলাকা, দিল্লি ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড, ওড়িশা, সিকিম, মিজ়োরাম, আন্দামান-নিকোবর, লক্ষদ্বীপে গৃহতালিকা তৈরি শেষ। উত্তরপ্রদেশে স্বগণনা চলছে। গৃহতালিকা তৈরির কাজ ২২ মে থেকে শুরু হচ্ছে। অন্ধ্র, অরুণাচল প্রদেশ, বিহার, ছত্তীসগঢ়, চণ্ডীগড়, দাদরা ও নগর হাভেলি, দমন ও দিউ, হরিয়ানা, মধ্যপ্রদেশ, পঞ্জাব, তেলঙ্গানা, উত্তরাখণ্ডে এখন কাজ চলছে। রবিবার থেকে গুজরাত, জম্মু-কাশ্মীর, লাদাখ, পুদুচেরিতে স্বগণনা শুরু হচ্ছে। জুনে এই রাজ্যগুলিতে গৃহতালিকা তৈরি হবে। রবিবার থেকে দিল্লি পুর-এলাকা, রাজস্থান, মহারাষ্ট্র, মেঘালয়, ঝাড়খণ্ডে গৃহতালিকার কাজ শুরু হয়েছে। এত দিন মমতা সরকারের একরোখা মনোভাবের ফলে পশ্চিমবঙ্গ এই গোটা প্রক্রিয়াতেই পিছিয়ে রয়েছে। এই কাজ করতেই হবে রাজ্য, জানিয়েছেন ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার। বহু বার চিঠিও পাঠান। কিন্তু আগের জমানায় রাজ্য সাড়া দেয়নি।

জনগণনা দফতরের কর্তারা বলছেন, এ বার প্রথম ডিজিটাল জনগণনা হচ্ছে। মোবাইলের মাধ্যমে পোর্টালে সরাসরি তথ্য সংগ্রহ করা হবে। এ বার প্রথম সেল্ফ-এনুমারেশন বা স্বগণনার সুযোগ থাকবে। কেউ চাইলে জনগণনার পোর্টালে গিয়ে নিজের তথ্য জমা করতে পারেন। তার জন্য প্রথমে ১৫ দিন সময় থাকবে। পরে গণনাকারীরা বাড়ি বাড়ি যাবেন। কেউ স্বগণনা করে থাকলে, সেই তথ্য যাচাই করা হবে। এখনও পর্যন্ত ১.৪৪ কোটি মানুষ স্বগণনায় অংশ নিয়েছেন। প্রথম পর্বে মূলত বাড়ির নম্বর, বাড়ি কী সের তৈরি, কী কী সুবিধা রয়েছে, পরিবারের প্রধান কে, বাড়িতে কত জন থাকেন— এই সব তথ্য সংগ্রহ করা হবে। আগামী ফেব্রুয়ারিতে মূল জনগণনার কাজের সময় পরিবারের প্রত্যেকের তথ্য সংগ্রহ করা হবে।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Population

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy