জাতীয় শিক্ষানীতি ২০২০ অনুসারে এ বার মহারাষ্ট্রের মরাঠি এবং ইংরেজি মাধ্যম স্কুলগুলিতে প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত হিন্দিকে বাধ্যতামূলক তৃতীয় ভাষা হিসেবে ঘোষণা করল রাজ্য সরকার।
এত দিন পর্যন্ত এই স্কুলগুলিতে প্রথম থেকে চতুর্থ শ্রেণি পর্যন্ত কেবল মরাঠি এবং ইংরেজি বাধ্যতামূলক ভাষা হিসেবে পড়ানো হত। এখন সেই তালিকায় জুড়ল হিন্দি। জাতীয় শিক্ষানীতিতে তিনটি ভাষার মাধ্যমে শিক্ষাদানের কথা বলা হয়েছে। তবে স্পষ্ট ভাবে জানানো হয়েছে, কোনও রাজ্যের উপরে কোনও ভাষা চাপিয়ে দেওয়া হবে না। যদিও নতুন এই নির্দেশিকাকে মরাঠি ‘অস্মিতায় আঘাত’ বলেই কটাক্ষ
করেছে বিরোধীরা।
বৃহস্পতিবার সরকারের তরফে এই এক নির্দেশিকা জারি করে জানানো হয়েছে, আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত তৃতীয় ভাষা হিসেবে হিন্দি বাধ্যতামূলক হবে। পাশাপাশি, ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষ থেকেই প্রথম শ্রেণির জন্য নতুন পাঠ্যক্রম কার্যকর করা হবে বলেও নির্দেশিকায় উল্লেখ করা হয়েছে।
নির্দেশিকায় এ-ও জানানো হয়েছে, দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ এবং ষষ্ঠ শ্রেণির জন্য নতুন এই শিক্ষানীতিটি ২০২৬-২৭ সালে, পঞ্চম, নবম এবং একাদশ শ্রেণীর জন্য ২০২৭-২৮ সাল থেকে এবং অষ্টম, দশম এবং দ্বাদশ শ্রেণির জন্য ২০২৮-২৯ সাল থেকে কার্যকর করা হবে।
এ দিন মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফডণবীস বলেন, “রাজ্যে ইতিমধ্যেই জাতীয় শিক্ষানীতি বহাল হয়েছে। স্কুলগুলিতে মরাঠি ভাষা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। তবে পড়ুয়াদের হিন্দিও শেখা প্রয়োজন, কারণ হিন্দি সারা দেশের সঙ্গে যোগাযোগের ভাষা।”
পরিবর্তনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে রাজ্য সরকার ২০২৫ সালের মধ্যে ৮০% শিক্ষককে নতুন শিক্ষাপদ্ধতি এবং ডিজিটাল সরঞ্জামগুলির সঙ্গে পরিচিত হওয়ার জন্য প্রশিক্ষণ দেওয়ার পরিকল্পনাও করেছে বলে সরকারের তরফে জানানো হয়েছে।
মহারাষ্ট্র নবনির্মাণ সেনা (এমএনএস) রাজ্য সরকারের এই পদক্ষেপে তীব্র আপত্তি জানিয়েছে। বৃহস্পতিবার এমএনএস প্রধান রাজ ঠাকরে নিজের এক্স হ্যান্ডলে লেখেন, ‘আপনাদের ত্রিভাষা সূত্র যা-ই হোক না কেন, তা সরকারি কাজে সীমাবদ্ধ রাখুন, শিক্ষাক্ষেত্রে আনবেন না।’ তিনি আরও বলেন, ‘এই রাজ্যে কেন্দ্রীয় সরকারের হিন্দি চাপিয়ে দেওয়ার বর্তমান প্রচেষ্টাকে এমএনএস সফল হতে দেবে না। আমরা হিন্দু কিন্তু হিন্দিভাষী নই!
যদি আপনারা মহারাষ্ট্রকে হিন্দিভাষী রাজ্য হিসেবে দেখানোর চেষ্টা
করেন, তা হলে মহারাষ্ট্রে একটা বিরোধ তৈরি হবে। তা হলে বুঝতে পারবেন যে, সরকার ইচ্ছাকৃত ভাবে এই বিরোধ তৈরি করছে। আসন্ন নির্বাচনে মরাঠি এবং অ-মরাঠিদের মধ্যে বিরোধ তৈরি করে এর সুবিধা নেওয়ার জন্যই কি এই সব প্রচেষ্টা?’
এই নির্দেশিকার পরে জোর করে ‘হিন্দি চাপিয়ে দেওয়ার’ অভিযোগ তুলে সবর হয়েছেন কংগ্রেস নেতা বিজয় ওয়াদেত্তিওয়াড। সরকারের এই পদক্ষেপকে ‘মরাঠি
অস্মিতা’র পরিপন্থী বলেন তিনি। কংগ্রেস নেতা আরও বলেন, “হিন্দি যদি ঐচ্ছিক ভাষা হত, তা হলে আমাদের কোনও সমস্যা হত না। কিন্তু এটিকে বাধ্যতামূলক করার মানে তা জোর করে মরাঠিদের উপরে চাপিয়ে দেওয়ার মতো।” বিজয় ওয়াদেত্তিওয়াড রাজ্য সরকারের কাছে দ্রুত এই নির্দেশিকার প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন।
অপর দিকে, মহারাষ্ট্র নবনির্মাণ সেনার সাধারণ সম্পাদক সন্দীপ দেশপাণ্ডে বলেন, “হিন্দি ভারতের সরকারি ভাষা নয়। ১৯৪৭ সালে ভারত স্বাধীন হওয়ার পরে ভাষার ভিত্তিতে অঞ্চল গঠন করা হয়েছিল। প্রতিটি রাজ্যের আলাদা ভাষা রয়েছে।” মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফডণবীসকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, “আপনি অন্য রাজ্যের ভাষা আমাদের উপরে জোর করে চাপিয়ে দিতে পারেন না। আমরা এর তীব্র বিরোধিতা করছি।”
সংবাদ সংস্থা
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)