Advertisement
E-Paper

ভাষণ না দিয়েই তামিলনাড়ুর বিধানসভা ছাড়লেন রাজ্যপাল! দাবি: অপমান হয়েছে জাতীয় সঙ্গীতের, দ্বন্দ্ব প্রকট হল কেরলেও

তামিলনাড়ুর বিধানসভায় সরকারের লিখে দেওয়া ভাষণ পাঠই করলেন না রাজ্যপাল। কেরলে আবার ভাষণ পাঠ করলেও কিছু অংশ উহ্যই রেখে দিলেন সে রাজ্যের সাংবিধানিক প্রধান।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২০ জানুয়ারি ২০২৬ ১২:৫৩
(বাঁ দিকে) তামিলনাড়ুর রাজ্যপাল আরএন রবি, মুখ্যমন্ত্রী এমকে স্ট্যালিন এবং কেরলের রাজ্যপাল আরভি অর্লেকর, মুখ্যমন্ত্রী পিনরাই বিজয়ন।

(বাঁ দিকে) তামিলনাড়ুর রাজ্যপাল আরএন রবি, মুখ্যমন্ত্রী এমকে স্ট্যালিন এবং কেরলের রাজ্যপাল আরভি অর্লেকর, মুখ্যমন্ত্রী পিনরাই বিজয়ন। —ফাইল চিত্র।

তামিলনাড়ু এবং কেরল, দুই রাজ্যেই মঙ্গলবার শুরু হয়েছে বিধানসভার অধিবেশন। দুই রাজ্যেই ক্ষমতায় রয়েছে বিজেপিবিরোধী শক্তি। মঙ্গলবার অধিবেশন ঘিরে দুই রাজ্যেই ফের বেআব্রু হল রাজ্য এবং রাজ্যপালের সংঘাত। তামিলনাড়ুর বিধানসভায় জাতীয় সঙ্গীতের অবমাননার অভিযোগ তুললেন রাজ্যপাল আরএন রবি। সরকারের লিখে দেওয়া ভাষণ পাঠ না করেই ছাড়লেন অধিবেশন। কেরলে আবার সরকার লিখিত ভাষণের কিছু অংশ পাঠই করলেন রাজ্যপাল আরভি অর্লেকর।

বিধানসভার অধিবেশন ঘিরে মঙ্গলবার সকালে দক্ষিণের দুই রাজ্যেই প্রকট হল রাজ্য সরকার এবং রাজ্যপালের দ্বন্দ্ব। তামিলনাড়ুর বিধানসভা অধিবেশনে এ দৃশ্য নতুন নয়। গত কয়েক বছর ধরেই এই দৃশ্য দেখা যাচ্ছে তামিলনাড়ুতে। ভাষণ পাঠ না করেই অধিবেশন ছেড়ে বেরিয়ে যেতে দেখা গিয়েছে সে রাজ্যের রাজ্যপালকে। এ বারও সেই ঘটনাই ঘটল। অধিবেশন শুরুর আগে তামিলনাড়ুর রাজ্য সঙ্গীত পরিবেশন করা হয় বিধানসভায়। কিন্তু রাজ্যপালের বক্তব্য, রাজ্য সঙ্গীতের পাশাপাশি জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন করা উচিত ছিল। তা না করায় জাতীয় সঙ্গীতের অবমাননা করা হয়েছে। এ কথা জানিয়ে লিখিত ভাষণ পাঠ না করেই বেরিয়ে যান তিনি।

রবি বিধানসভা ছেড়ে বেরিয়ে আসার কিছু ক্ষণের মধ্যেই তামিলনাড়ুর রাজভবন (অধুনা লোকভবন) একটি বিবৃতি প্রকাশ করে। সেখানে অভিযোগ করা হয়, রাজ্যপাল কথা বলার সময়ে বার বার তাঁর মাইক্রোফোন বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছিল। এমকে স্ট্যালিনের সরকার তাঁকে যে ভাষণ পাঠ করতে দিয়েছিল, তাতেও প্রচুর ভিত্তিহীন এবং বিভ্রান্তিকর দাবি ছিল বলে অভিযোগ তোলে রাজভবন। সাধারণ মানুষের গুরুতর সমস্যার বিষয়গুলি ভাষণের খসড়া থেকে বাদ দিয়ে দেওয়া হয়েছিল বলেও জানায় রাজভবন।

অন্য দিকে এই ঘটনার পরে তামিলনাড়ুর শাসকদল ডিএমকে-ও নিজেদের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। ডিএমকে প্রধান তথা তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী স্ট্যালিনের দাবি, রাজ্যপাল যে ঘটনা ঘটিয়েছেন, তাতে সে রাজ্যের বিধানসভার ১০০ বছরের ঐতিহ্য অসম্মানিত এবং অপমানিত হয়েছে। তাঁর সরকার কোনও ভাবেই রাজ্যপাল বা রাজভবনের অপমান করেনি বলে দাবি স্ট্যালিনের। বরং, রাজ্যপালই তামিলনাড়ুর সাধারণ মানুষকে সম্মান দেখাতে পারেন না বলে দাবি স্ট্যালিনের।

কেরলের বিধানসভায় অবশ্য পিনরাই বিজয়নদের সরকারের লিখে দেওয়া ভাষণ পাঠ করেন রাজ্যপাল অর্লেকর। ভাষণ পাঠ করে বিধানসভার অধিবেশনকক্ষ ত্যাগ করেন তিনি। এর পরেই বিজয়ন বিধানসভায় অভিযোগ করেন, ভাষণের ১২ নম্বর অনুচ্ছেদের শুরুর অংশ এবং ১৫ নম্বর অনুচ্ছেদের শেষাংশ পাঠ করেননি রাজ্যপাল। ওই অংশে রাজ্য মন্ত্রিসভা অনুমোদিত কিছু নীতিগত সিদ্ধান্ত ছিল বলে দাবি করা হচ্ছে। তার মধ্যে একটি অংশে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগের কথা উল্লেখ ছিল। কেন্দ্র প্রতিবন্ধকতা তৈরি করার ফলে কেরল আর্থিক ভাবে সমস্যায় পড়ছে বলে উল্লেখ ছিল সেখানে। অপর অংশে রাজ্য বিধানসভায় পাশ হওয়া কিছু বিল দীর্ঘ সময় ধরে আটকে থাকার প্রসঙ্গ উল্লেখ ছিল। বিজয়নের দাবি, এই দু’টি অংশই ভাষণের সময়ে এড়িয়ে গিয়েছেন রাজ্যপাল।

প্রথা অনুযায়ী, কোনও রাজ্যর বিধানসভায় সে রাজ্যের সরকার (মন্ত্রিসভার) লিখে দেওয়া ভাষণই পাঠ করেন রাজ্যপাল। তবে অতীতে বিভিন্ন রাজ্যে এই প্রথা ভাঙার দৃষ্টান্তও রয়েছে। লিখিত ভাষণের কিছু প্রসঙ্গ পাঠ না করা বা ঊহ্য রাখা বা সংযোজন করার মতো ঘটনার নজির রয়েছে পঞ্জাব এবং কেরলে। কেরলে অন্তত দু’বার এমন ঘটনা ঘটেছিল। মঙ্গলবার কেরলের স্পিকার এএন শামসি জানান, অতীতে যে উদাহরণগুলি রয়েছে তা আনুষ্ঠানিক ভাবে কোনও স্বীকৃতি পায়নি। এ বারও রাজ্যপালের পাঠ করা ওই ভাষণে স্বীকৃতি দেওয়া হবে না।

Kerala Tamil Nadu MK Stalin Pinarayi Vijayan
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy