Advertisement
E-Paper

‘অরাবলীর এক ইঞ্চি জমিতেও খনন চলবে না’, বিশেষজ্ঞ কমিটির রিপোর্টের জন্য অপেক্ষার নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের

প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ শনিবার বলেছে, ‘‘সমস্ত সমস্যার সূত্রপাত হয়েছে শক্তিশালী খনি লবির কারণে। আমাদের অবস্থান খুবই স্পষ্ট। অরাবলীর পরিবেশকে রক্ষা করা।’’

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১৬ মে ২০২৬ ১৩:৫৯
Supreme Court bars any mining activity in Aravali Hills till fresh review

গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

বিশেষজ্ঞ কমিটির রিপোর্ট বিশ্লেষণ না করা পর্যন্ত অরাবলী পাহাড়ের এক ইঞ্চি জমিতেও খননের কাজ চলবে না। শনিবার এই নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চ বলেছে, ‘‘আদালত-নিযুক্ত বিশেষজ্ঞ কমিটি পরিবেশগত ভাবে সংবেদনশীল অরাবলী পাহাড়শ্রেণির একটি নতুন সংজ্ঞা জমা না দেওয়া পর্যন্ত সেখানে কোনও খননের অনুমতি দেওয়া হবে না।’’

পাঁচ মাস আগে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে গঠিত বিশেষজ্ঞ কমিটি অরাবলীর নতুন সংজ্ঞা নির্ধারণের কাজ করছে জানিয়ে প্রধান বিচারপতি শনিবারের শুনানিপর্বে বলেন, ‘‘আদালত অরাবলীর নতুন সংজ্ঞা সম্পর্কে সন্তুষ্ট না হওয়া পর্যন্ত এক ইঞ্চি জমিতেও খনন চলবে না।’’ সেই সঙ্গে তাঁর তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য, ‘‘সমস্ত সমস্যার সূত্রপাত হয়েছে শক্তিশালী খনি লবির কারণে। আমাদের অবস্থান খুবই স্পষ্ট। অরাবলীর পরিবেশকে রক্ষা করা।’’ শীর্ষ আদালতের শনিবারের নির্দেশকে স্বাগত জানিয়েছে পরিবেশপ্রেমী সংগঠনগুলি। প্রসঙ্গত, অরাবলী পাহাড়শ্রেণির কোন অংশকে ‘অরাবলী পাহাড়’ বলে বিবেচনা করা হবে, তা নিয়ে ২০২৫ সালের গোড়ায় একটি সংজ্ঞা নির্ধারণ করেছিল কেন্দ্র। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে নয়, বরং আশপাশের এলাকার চেয়ে ১০০ মিটার বা তার বেশি উচ্চতার ভূখণ্ডই কেবলমাত্র অরাবলী পাহাড় বলে গণ্য হবে— এমনটাই ছিল কেন্দ্রীয় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রকের প্রস্তাবিত সংজ্ঞা। যদিও সুপ্রিম কোর্টের অনুমোদনে গঠিত বিশেষজ্ঞ কমিটি এ বিষয়ে দ্বিমত পোষণ করেছিল।

এর পরে গত বছরের ২০ নভেম্বর কেন্দ্র-নির্ধারিত ওই ‘সংজ্ঞা’য় সিলমোহর দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্টের তৎকালীন প্রধান বিচারপতি বিআর গবইয়ের বেঞ্চ। শীর্ষ আদালতের ওই রায় নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন পরিবেশ এবং বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞদের একাংশ। তাঁদের অভিযোগ, এই রায়ের ফলে এত দিন যে ভূখণ্ড অরাবলী পাহাড়শ্রেণি বলে গণ্য হয়ে এসেছে, তার ৯০ শতাংশই আর পরিবেশ সংরক্ষণ বিধির অধীনে সুরক্ষাযোগ্য থাকবে না। ১২ হাজারেরও বেশি পাহাড়ের মধ্যে মাত্র হাজারখানেক আদালতের শর্ত পূর্ণ করতে পারবে। ফলে রাজস্থান, গুজরাত, হরিয়ানা, দিল্লি জুড়ে বিস্তৃত বাকি সব এলাকায় নির্বিবাদে খনি বানিয়ে প্রাকৃতিক সম্পদ আহরণ করা যাবে। পর্যটন এবং অন্যান্য বাণিজ্যিক কারণে নির্মাণ করা যাবে।

শীর্ষ আদালতের ওই রায়ের পরে অরাবলী পাহাড়শ্রেণি সংরক্ষণের দাবিতে রাজস্থান এবং হরিয়ানার বিভিন্ন জায়গায় প্রতিবাদে সরব হয়েছিলেন পরিবেশপ্রেমী এবং স্থানীয়েরা। একটি রিপোর্টে দাবি করা হয়, গত সাত বছরে রাজস্থানে ৭১ হাজারেরও বেশি অবৈধ খননের ঘটনা চিহ্নিত করা হয়েছে। আর তার অধিকাংশই অরাবলী লাগোয়া জেলাগুলিতে। এই পরিস্থিতিতে গত বছরের ২৭ ডিসেম্বর এ বিষয়ে স্বতঃপ্রণোদিত পদক্ষেপ করে সুপ্রিম কোর্ট। ২৯ ডিসেম্বর প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তের বেঞ্চ জানায় এ সংক্রান্ত পূর্ববর্তী রায় এখনই কার্যকর হচ্ছে না। এ বিষয়ে সুস্পষ্ট ব্যাখ্যার প্রয়োজন রয়েছে বলেও শীর্ষ আদালত অন্তর্বর্তী নির্দেশে জানিয়েছিল। প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল ঐশ্বর্য ভাটি এবং ‘আদালত বান্ধব’ (অ্যামিকাস কিউরে) কে পরমেশ্বরকে কয়েক জন পরিবেশবিদ এবং বিজ্ঞানীদের নাম সুপারিশ করারও নির্দেশ দিয়েছিল। উদ্দেশ্য ছিল অরাবলীর পরিবেশ এবং জীববৈচিত্র অক্ষুণ্ণ রেখে যাতে খননের জন্য একটি বিশেষজ্ঞ পর্যবেক্ষণ সংস্থা গঠন করা যেতে পারে। প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ জানিয়েছিল, ওই কমিটি শীর্ষ আদালতের নির্দেশ এবং তত্ত্বাবধানে কাজ করবে।

Aravalli Range aravalli hills controversy Supreme Court of India Illigal Mine Supreme Court Iillegal Mining Scam
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy