ফরাক্কা বাঁধ নিয়ে ভারতকে নিশানা করলেন বাংলাদেশের মন্ত্রী তথা বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তাঁর মন্তব্য, ‘‘ভারতের ফরাক্কা বাঁধ বাংলাদেশের জন্য মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে!’’ সেই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, ‘‘দু’দেশের মধ্যে দিয়ে প্রবাহিত নদীতে ভারত একের পর এক বাঁধ নির্মাণ করে জল নিয়ে নিচ্ছে। তা বাংলাদেশের অস্তিত্বের পক্ষে বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে।’’
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পরেই শাসকদল বিএনপিতে ফখরুলের স্থান। তারেক বিদেশে থাকাকালীন যখন খালেদা জিয়া গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন, তখন বিএনপির সমস্ত সাংগঠনিক দায়িত্বই ছিল ফখরুলের কাঁধে। তারেক প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পরে তাঁকে স্থানীয় সরকার (পুরসভা এবং পঞ্চায়েত) বিষয়ক মন্ত্রকের দায়িত্ব দেন। ১৬ মে বাংলাদেশে ‘ফরাক্কা দিবস’ পালিত হয়। সেই উপলক্ষে শুক্রবার দেওয়া বিবৃতিতে এই অভিযোগ করেছেন ফখরুল।
আরও পড়ুন:
বিএনপি সরকারের প্রথম সারির মন্ত্রীর এই বিবৃতি নতুন করে নয়াদিল্লি-ঢাকা সম্পর্কে টানাপড়েন তৈরি করতে পারে বলে কূটনীতি পর্যবেক্ষকদের একাংশ মনে করছেন। বিবৃতিতে তিনি স্পষ্ট বলেছেন, ‘‘আন্তর্জাতিক আইনকানুন ও কনভেনশনের তোয়াক্কা না করে ভারত থেকে বাংলাদেশে প্রবাহিত ৫৪টি অভিন্ন নদীতে একের পর এক বাঁধ নির্মাণের ফলে নদীগুলির ধারা বাধাপ্রাপ্ত হচ্ছে।’’ তাঁর দাবি, এর ফলে বাংলাদেশের বিস্তীর্ণ অংশের আবাদি জমি উষর প্রান্তরে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। প্রসঙ্গত, ১৯৭৬ সালের ১৬ মে বাংলাদেশের প্রয়াত নেতা মৌলানা ভাসানী রাজশাহী থেকে ফারাক্কা বাঁধ অভিমুখে ‘লং মার্চ’ করেছিলেন। সেই থেকে এই দিনটি বাংলাদেশে ‘ফরাক্কা দিবস’ হিসাবে পালিত হয়।