১৯৩৭ সালের মুসলিম পার্সোনাল ল প্রয়োগ আইনের নির্দিষ্ট কিছু ধারা নারীদের প্রতি বৈষম্যমূলক বলে অভিযোগ তুলে সুপ্রিম কোর্টে জনস্বার্থ মামলা দায়ের করা হয়েছিল। এই ধারাগুলির সাংবিধানিক বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়। সেই মামলাতে এ বার সুপ্রিম কোর্ট নোটিস দিল কেন্দ্রীয় সরকারকে। এ বিষয়ে কেন্দ্রের জবাব জানতে চাওয়া হয়েছে।
মুসলিম পার্সোনাল ল নিয়ে মামলা সুপ্রিম কোর্ট শুনতে পারে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন ছিল। তবে শীর্ষ আদালতের পর্যবেক্ষণ, অভিন্ন দেওয়ানি বিধি ‘সাংবিধানিক আকাঙ্ক্ষা’। তাই এই মামলা গ্রহণ করে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি বিপূল পাঞ্চোলের বেঞ্চ। সেখানে বৃহস্পতিবার এই মামলার শুনানি ছিল। কেন্দ্রের সংখ্যালঘু বিষয়ক মন্ত্রককে নোটিস দিয়েছে প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ।
আরও পড়ুন:
মামলায় বলা হয়েছে, বর্তমানের মুসলিম পার্সোনাল ল-এর উত্তরাধিকার সংক্রান্ত নিয়মাবলি মহিলাদের প্রতি প্রকাশ্য বৈষম্যমূলক। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সেখানে পুরুষদের জন্য বরাদ্দকৃত অংশের অর্ধেক বা তার কম সম্পত্তি নারীদের দেওয়ার কথা বলা হয়। মামলাকারীর আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণ জানান, ১৯৩৭ সালের আইনটি সংবিধানের ১৪ নম্বর ধারা লঙ্ঘন করে। ওই ধারায় নারী-পুরুষ নির্বিশেষে নাগরিকদের সমান অধিকারের কথা বলা হয়েছে। উত্তরাধিকার সংক্রান্ত বিষয়গুলি প্রকৃতিগত ভাবে সামাজিক হলেও আদৌ তা সংবিধানের ২৫ নম্বর ধারার অধীনে সুরক্ষিত কোনও অপরিহার্য ধর্মীয় অনুশীলন নয়। সম্পত্তির অধিকারের সঙ্গে ধর্মের সম্পর্ক থাকতে পারে না। অভিযোগ, ওই আইনের উত্তরাধিকার সংক্রান্ত নিয়মাবলিতে পুরুষের চেয়ে মহিলাদের অর্ধেক বা তারও কম অংশ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। এটি বৈষম্যমূলক বলে দাবি করেছেন আইনজীবী ভূষণ।
উল্লেখ্য, ভারতীয় সংবিধানের ২৫ নম্বর ধারায় সকল নাগরিককে ধর্ম গ্রহণ, পালন এবং প্রচারের স্বাধীনতা দেওয়া হয়। তবে এই অধিকার নিরঙ্কুশ নয়। এটি জনশৃঙ্খলা, নৈতিকতা, স্বাস্থ্য-সহ অন্যান্য মৌলিক অধিকারের অধীন। এ প্রসঙ্গে মন্তব্য করতে গিয়েই আইনজীবী ভূষণ জানান, দেওয়ানি সংক্রান্ত আইন সমগ্র দেশে একরকম হওয়া উচিত। এর প্রেক্ষিতেই প্রধান বিচারপতির মন্তব্য, ‘‘অভিন্ন দেওয়ানি বিধি একটি সাংবিধানিক আকাঙ্ক্ষা।’’
পৌলমী পাভিনি শুক্ল নামের এক জন মুসলিম পার্সোনাল ল নিয়ে জনস্বার্থ মামলাটি করেছেন। মামলা করেছে ন্যায় নারী ফাউন্ডেশন নামের একটি সংগঠনও। তবে মুসলিম পার্সোনাল ল-এর কারণে ভুক্তভোগী কোনও মহিলা যাতে এই মামলার সঙ্গে যুক্ত হন, তা নিশ্চিত করতে আইনজীবী ভূষণকে নির্দেশ দিয়েছে আদালত।