নামের শেষে ‘ঠাকুর’ ছিল। তাই নিজেকে ঠাকুরবাড়ি বংশধর দাবি করে জমি হাতাতে চেয়েছিলেন সুনন্দ ঠাকুর নামে এক ব্যক্তি। শেষ পর্যন্ত অবশ্য রক্ষা পেয়েছে রাঁচীর দীপাটোলির ‘হিতাবাস’। রবীন্দ্রনাথের দাদা হেমেন্দ্রনাথের ছেলে হিতেন্দ্রনাথ ঠাকুরের বাড়ি এই ‘হিতাবাস’।
রাঁচীর ডিএসপি (সদর) বিকাশ শ্রীবাস্তব জানান, পাঁচ একর জায়গা-সহ ‘হিতাবাস’ বাড়িটির নকল দলিল ও কাগজ তৈরি করে বিক্রি করার চেষ্টা করছিল একটি জমি মাফিয়া চক্র। অভিযোগ, তার অন্যতম পাণ্ডা, কলকাতার বাসিন্দা জনৈক সুনন্দ ঠাকুর। বিকাশবাবু বলেন, ‘‘সুনন্দবাবু যে জালিয়াতি করে ওই জমি বিক্রির চেষ্টা করছিলেন, তার প্রমাণ আছে। সুনন্দবাবুর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।’’
গত শতকের গোড়ায় ওই জমিটি কিনেছিলেন হিতেন্দ্রনাথ। তৈরি করেন বাড়ি—হিতাবাস। বাড়ির বর্তমান মানিক তাঁর নাতি হৃদিন্দ্রনাথের ছেলে হিমেন্দ্রনাথ। হিমেন্দ্রনাথ কয়েক বছর আগে পুলিশে অভিযোগ করেন, ওই জমি ও বাড়ির নকল কাগজপত্র তৈরি করে তা বিক্রি করার চেষ্টা করছে এক অসাধু প্রোমোটার চক্র। এমনকী তাঁকে প্রাণে মারার হুমকিও দেওয়া হচ্ছে। বেশ কয়েক বার বাড়িতে দুষ্কৃতী হানাও হয়েছিল বলে অভিযোগ। অভিযোগ পেয়ে তদন্তে নামে পুলিশ। আজ বিকাশবাবু বলেন, ‘‘আমরা কলকাতা পুলিশের সাহায্য নিয়ে তদন্ত শুরু করি। কলকাতা থেকে সুদর্শন মুখোপাধ্যায় নামে এক ব্যক্তিকে ধরা হয়। তাঁকে জেরা করেই সুনন্দ ঠাকুরের নাম পাওয়া যায়।’’
তদন্তে পুলিশ জেনেছে রাঁচীর জেলা রেকর্ড রুমে রাখা ওই জমির কর সংক্রান্ত কাগজপত্রে লেখা হৃদিন্দ্রনাথ ঠাকুরের নাম পাল্টে মহিন্দ্রনাথ ঠাকুর করান সুনন্দ ঠাকুর। রেকর্ড রুমের কর্তাদের কাছে তাঁর দাবি, তিনি ঠাকুরবাড়ির বংশধর। এবং ওই জমির মালিক। সেই হিসেবে তিনি দু’বার খাজনাও দেন। বিকাশবাবু বলেন, ‘‘রাঁচীর জেলা রেকর্ড রুমের আধিকারিকরা এই জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত কিনা তা-ও দেখা হচ্ছে। এটা একটা জমি মাফিয়া দলের কাজ। কলকাতার বাসিন্দা সুনন্দবাবু। তবে তাঁর পদবি সত্যিই ‘ঠাকুর’ কি না তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’’ বাড়ির বর্তমান বাসিন্দা হিমেন্দ্রনাথ বলেন, ‘‘কিছুটা হলেও আশ্বস্ত বোধ করছি।’’