Advertisement
E-Paper

কোভিড-প্রতিষেধকের দৌড়ে কেন্দ্রীয় সংস্থাও

এত দিন টিকার বাজার ধরতে বেসরকারি সংস্থাগুলি দৌড়ে নেমেছিল। কিছুটা দেরিতে হলেও তাতে যোগ দিল বায়োটেকনোলজি দফতর। ফরিদাবাদের টিএইচএসটিআই চলতি সপ্তাহে সিনথেটিক পেপটাইড নির্ভর একটি টিকা আবিষ্কার করেছে বলে দাবি।

অনমিত্র সেনগুপ্ত

শেষ আপডেট: ১৯ জুলাই ২০২০ ০৩:৩৯
প্রতীকী ছবি

প্রতীকী ছবি

বেসরকারি সংস্থার পাশাপাশি এ বার করোনার টিকা আবিষ্কারের প্রতিযোগিতায় নেমে পড়ল কেন্দ্রের বায়ো টেকনোলজি দফতর। সংস্থার অধীনে থাকা ফরিদাবাদের ট্র্যান্সলেশনাল হেলথ সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি ইনস্টিটিউট (টিএইচএসটিআই) সম্প্রতি একটি সিনথেটিক বা কৃত্রিম পেপটাইড (অ্যামাইনো অ্যাসিডের শৃঙ্খল) নির্ভর টিকা বানিয়েছে, যা করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রুখে দিতে সক্ষম বলে দাবি। ভারত বায়োটেকের কোভ্যাক্সিন, জ়াইডাস ক্যাডিলা-র জ়াইকডের পরে টিএইচএসটিআই-এর এই ঘোষণায় ক্রমশ ভারতের নিজস্ব টিকা তৈরির সম্ভাবনা উজ্জ্বল হচ্ছে বলেই মনে করছে কেন্দ্র।

এত দিন টিকার বাজার ধরতে বেসরকারি সংস্থাগুলি দৌড়ে নেমেছিল। কিছুটা দেরিতে হলেও তাতে যোগ দিল বায়োটেকনোলজি দফতর। ফরিদাবাদের টিএইচএসটিআই চলতি সপ্তাহে সিনথেটিক পেপটাইড নির্ভর একটি টিকা আবিষ্কার করেছে বলে দাবি। ওই আবিষ্কারের নেপথ্যে রয়েছেন গবেষক সুইটি সামল ও গবেষক শুব্বির আহমেদ। গোটা প্রজেক্টটি দেখভালের দায়িত্ব ছিলেন অধ্যাপক গগনদীপ কঙ্গ। যিনি কিছু দিন আগেই ওই সংস্থা থেকে ইস্তফা দেন।

সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভাইরাসের প্রোটিনের উপর নির্ভর করে কৃত্রিম ভাবে তৈরি পেপটাইড নির্ভর ওই ভ্যাকসিন তৈরি করা হয়েছে। ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব কেমিক্যাল বায়োলজি সংস্থার গবেষক উপাসনা রায় বলেন, স্পাইক প্রোটিনের মাধ্যমে ভাইরাস মানবকোষে প্রবেশ করতে সক্ষম হয়। ভাইরাস সংক্রমণের আগে শরীরে টিকা প্রয়োগ করলে বাইরে থেকে আসা ওই টিকার বিরুদ্ধে প্রথমে শরীরে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়। শরীর বুঝে যায়, বাইরে থেকে এ ধরনের কিছু শরীরে প্রবেশ করলে বা করার চেষ্টা করলে অ্যান্টিবডি তৈরি করতে হবে। ফলে যারা টিকা নিয়েছেন, এমন ব্যক্তিদের শরীরে ভবিষ্যতে ভাইরাস প্রবেশের চেষ্টা করলে শরীর নিজে থেকেই অ্যান্টিবডি তৈরি করে ভাইরাসের আক্রমণকে রুখে দেবে।

দেশি ভ্যাকসিন: কে, কোথায়

ভারত বায়োটেক:

হায়দরাবাদের সংস্থাটি জানিয়েছে, ১৫ জুলাই ১২টি কেন্দ্রে প্রথম পর্যায়ের কোভ্যাক্সিন টিকার পরীক্ষামূলক প্রয়োগ শুরু। প্রকল্পের অংশীদার আইসিএমআর এবং ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ ভাইরোলজি, পুণে। লক্ষ্য, ১৫ অগস্টের মধ্যে টিকা বাজারে ছাড়া। আদৌ কি তা সম্ভব? জুড়েছে বিতর্ক

জ়াইডাস ক্যাডিলা:

মানবশরীরে প্রয়োগ হয়েছে জ়াইকড-ডি টিকাও। প্রথম ও দ্বিতীয় পর্ব আগামী তিন মাসের মধ্যে শেষ হবে। ফলাফল দেখে তৃতীয় পর্বের পরীক্ষা। তৃতীয় পর্বের পরীক্ষা আশানুরূপ হলে, আগামী ফেব্রুয়ারি-মার্চে বাজারে ১০ কোটি টিকা ছাড়ার সিদ্ধান্ত।
ট্রান্সলেশনাল হেলথ সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি

ইনস্টিটিউ, ফরিদাবাদ:

পেপটাইড নির্ভর ভ্যাকসিন-তৈরি করেছে সরকারের বায়োটেকনোলজি দফতরের এই সংস্থা। প্রাণীর দেহে পরীক্ষা হয়েছে। বাজারে কবে, তা নিয়ে নীরব সংস্থা

সংস্থা জানিয়েছে, প্রয়োজনীয় পেপটাইডকে জুড়ে ভাইরাসকে শক্তিহীন করার জন্য প্রয়োজনীয় প্রোটিন তৈরি করা হয়েছে যা ব্যবহার করা হয়েছে টিকা হিসেবে। প্রাথমিক ভাবে ইঁদুরের উপর ব্যবহার করে সাফল্য পেয়েছেন গবেষকরা। তার উপর ভিত্তি করে পেটেন্টের জন্য আবেদন করেছে সংস্থা। সূত্রের মতে, প্রাণিদেহে ওই টিকার প্রয়োগ কতটা সফল হয়েছে তা খতিয়ে দেখে, এর পর সেটা মানবদেহে প্রয়োগের প্রশ্নে ছাড়পত্র দেবে ড্রাগ কন্ট্রোলার জেনারেল অব ইন্ডিয়া। ভাইরোলজিস্টদের মতে, কোনও টিকার ফেজ় এক থেকে তিন ও সবশেষে ছাড়পত্র পেতে প্রায় বারো থেকে আঠারো মাস সময় লাগে। তবে যে গতিতে সংক্রমণ ছড়াচ্ছে, তাতে আরও দ্রুত ওই টিকা বাজারে আনা সম্ভব কি না সে বিষয়ে ভাবনাচিন্তা রয়েছে সরকারের।

ইতিমধ্যেই মানবশরীরে তাদের টিকার পরীক্ষামূলক প্রয়োগ করে ফেলেছে ভারত বায়োটেক ও জ়াইডাস ক্যাডিলা। দুই সংস্থাই জুলাইয়ের মাঝামাঝি ফেজ়-১ শুরু করেছে।

তবে ভারত বায়োটেকের অংশীদার ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব মেডিক্যাল রিসার্চ আগামী ১৫ অগস্টের মধ্যে টিকা বাজারে ছাড়ার লক্ষ্য নেওয়ায় গোড়া থেকেই ওই টিকার কার্যকারিতা সম্পর্কে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। বায়োএথিক্স বিশেষজ্ঞ, চিকিৎসক অনন্ত ভান প্রশ্ন তুলেছেন, টিকা সংক্রান্ত সব পরীক্ষা সেরে ফেলেছে ওই সংস্থা বলেই কি ধরে নিতে হবে? না হলে কী ভাবে নির্দিষ্ট দিনের মধ্যে টিকা বাজারে ছাড়ার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া সম্ভব? জ়াইডাস ক্যাডিলা অবশ্য বিতর্কে ঢুকতে চায়নি। তারা জানিয়েছে, গত ১৬ জুলাই মানবশরীরে তারা টিকার প্রথম পরীক্ষামূলক প্রয়োগ করেছে। প্রথম ও দ্বিতীয় পর্বের পরীক্ষা শেষ করতে তিন মাসের বেশি সময় লাগবে। যার ভিত্তিতে তৃতীয় পর্বে আরও বড় সংখ্যায় স্বেচ্ছাসেবকদের মধ্যে ওই টিকার প্রয়োগ করা হবে। জ়াইডাসের বক্তব্য, তাদের টিকা বাজারে আসতে সময় লাগবে। খুব দ্রুত হলেও আগামী বছরের শুরুর আগে কোনও ভাবেই টিকা বাজারে ছাড়া সম্ভব হবে না।

Coronavirus Health Covid-19
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy