Advertisement
E-Paper

মহাজোট করে সিপিএম কি আদৌ স্বস্তিতে? মঙ্গলে দু’টি আসনে ভোট ত্রিপুরায়, আগে ছিল ১-১, এ বার কী হবে?

অধুনা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী প্রতিমা ভৌমিক ধনপুর থেকে বিধানসভায় জেতার পর বিধায়ক পদ ছাড়েন। বক্সনগরের সিপিএম বিধায়ক সামসুল হকের মৃত্যু হয়। ফলে দু’টি বিধানসভা কেন্দ্রে উপনির্বাচন হচ্ছে ত্রিপুরায়।

আনন্দবাজার অনলাইন সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৩ ২০:০৮
Tripura Bye Election 2023

(বাঁ দিকে) বর্তমান বিজেপি সরকারের মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহা। প্রাক্তম বাম সরাকারের মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার (ডান দিকে)। —ফাইল চিত্র।

পশ্চিমবঙ্গের ধুপগুড়ির পাশাপাশি মঙ্গলবার ত্রিপুরারও দু’টি বিধানসভা আসনে উপনির্বাচন। আসনদু’টি হল ধনপুর এবং বক্সনগর। ছ’মাস আগের বিধানসভা ভোটে দু’টি আসনের মধ্যে ধনপুরে জিতেছিল বিজেপি। বক্সনগরে জিতেছিল সিপিএম। উপনির্বাচনে কংগ্রেস ও তিপ্রা মথার সঙ্গে ‘মহাজোট’ করে বিজেপিকে মোকাবিলা করার কৌশল নিয়েছে সিপিএম। কিন্তু ভোটের আগের দিন কতটা আশাবাদী তারা? প্রকাশ্যে সিপিএম নেতারা ময়দানে লড়াইয়ের কথা বললেও ঘরোয়া আলোচনায় কার্যত মেনে নিচ্ছেন, বিজেপির ‘দখলদারি’কে বুথ স্তরে মোকাবিলা করা মুশকিল! পাল্টা বিজাপির বক্তব্য, হারার পরে সিপিএম কী প্রতিক্রিয়া দেবে, এ সব বলে তারা এখনই তার ‘ভূমিকা’ করে রাখছে।

সিপিএমের ত্রিপুরার রাজ্য সম্পাদক জিতেন্দ্র চৌধুরী সোমবার নির্বাচন কমিশনে নালিশ জানিয়ে বলেছেন, ধনপুর ও বক্সনগরে রবিবার রাত থেকে গাড়িতে লোকলস্কর নিয়ে তাণ্ডব চালাচ্ছে বিজেপি। সিপিএমের অভিযোগ— গাড়ির নম্বর প্লেট ঢেকে, পুলিশের ‘নাকা চেকিং’ এড়িয়ে বাইরে থেকে লোক এনে বিজেপি সন্ত্রাস কায়েম করে রেখেছে। কোন থানার, কোন এলাকায়, কাদের বাড়িতে বহিরাগতদের জমায়েত হয়েছে, তা-ও নির্বাচন কমিশনকে জানিয়েছে সিপিএম। তাদের অভিযোগ থানার ওসি থেকে, সিপাহীজলা জেলার পুলিশ সুপার— কেউই কোনও পদক্ষেপ করছেন না।

তবে ত্রিপুরা বিজেপির অন্যতম মুখপাত্র সুব্রত চক্রবর্তী বলেন, ‘‘সিপিএম নেতাদের পরিবারের লোকজনও এই পর্বে আমাদের দলে শামিল হয়েছেন। নিশ্চিত হার জেনেই সিপিএম আগাম কাঁদুনি গাইতে শুরু করেছে।’’

ত্রিপুরায় বিধানসভা ভোটে ধনপুর থেকে জিতেছিলেন সাংসদ তথা অধুনা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী প্রতিমা ভৌমিক। জেতার পর তিনি দলের নির্দেশে সাংসদ পদটি রেখে দিয়ে বিধায়ক পদ থেকে ইস্তফা দেন। অন্য দিকে, বক্সনগর কেন্দ্রটি শেষ ভোটে ছিল সিপিএমের দখলে। সেখানকার বিধায়ক সামসুল হকের মৃত্যু হয় কয়েক মাস আগে। ফলে জোড়া বিধানসভা কেন্দ্রে উপনির্বাচন হচ্ছে ত্রিপুরায়। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ত্রিপুরায় বিধানসভা ভোট হয়েছিল। মোট ৬০টি আসনের মধ্যে বিজেপি-আইপিএফটি জোট জেতে ৩৩ আসনে। বাম-কংগ্রেস মিলে পায় ১৪টি আসন। আলাদা লড়ে তিপ্রা মথা ১৩টি আসনে জয়ী হয়।

বিধানসভা ভোটে বাম-কংগ্রেসের জোট হলেও তিপ্রা পৃথক ভাবে লড়েছিল। তাতে তারা ১৩টি আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হয়ে ওঠে। সেই সঙ্গে আরও একটি বিষয় দেখা গিয়েছিল— ত্রিপুরায় অন্তত ১৯টি আসনে বিরোধী ভোট কেটে বিজেপির জয় কার্যত নিশ্চিত করে দিয়েছিল তিপ্রা। তবে উপনির্বাচনে তিপ্রা ঠিক করে, তারা প্রার্থী দেবে না। সিপিএমকেই সমর্থন করবে। কংগ্রেসও সমর্থন করে বামেদের। গত ৮ অগস্ট ভোট ঘোষণার দিনেই আনন্দবাজার অনলাইনে এই সম্ভাবনার কথা লেখা হয়েছিল। কিন্তু সেই ‘মহাজোট’ও ভোটের আগের দিন বুথে ‘প্রতিরোধ’ গড়ে তোলার ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী নয়। মানুষের মেজাজের উপরেই সবটা ছাড়তে চাইছে জোটের শরিকেরা।

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy