E-Paper

মণিপুরে রকেট হানায় নিহত ২ শিশু, গুলিতেও ২

গত কাল রাত প্রায় ১টায় মইরাং থানার অন্তর্গত ট্রংলাওবি আওয়াং লেইকাই এলাকার একটি বাড়িতে কুকি জঙ্গিদের ছোড়া রকেটের মতো কোনও অস্ত্র আঘাত হানে বলে অভিযোগ।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৮ এপ্রিল ২০২৬ ০৯:০২
চলছে পথ অবরোধ। মঙ্গলবার মণিপুরের বিষ্ণুপুর জেলায়।

চলছে পথ অবরোধ। মঙ্গলবার মণিপুরের বিষ্ণুপুর জেলায়। ছবি: পিটিআই।

মণিপুরের বিষ্ণুপুর জেলায় গত রাতে সম্ভবত রকেট হানায় দুই শিশুর মৃত্যু হওয়ায় ফের উত্তেজনা ছড়িয়েছে। উত্তেজিত জনতা বেশ কিছু ট্যাঙ্কার পোড়ায়। থানা ঘেরাও করে। তারা ট্রংলাওবি এলাকায় সিআরপি শিবিরে আক্রমণ চালিয়ে আগুন লাগালে সিআরপি গুলি চালায়। তাতে অন্তত দু’জনের মৃত্যুর খবর এসেছে। মণিপুরের মুখ্যমন্ত্রী ইয়ুমনাম খেমচাঁদ সিংহ রকেট হামলার ঘটনার তদন্ত এনআইএ-র হাতে তুলে দিয়েছেন। পরিস্থিতি ফের অগ্নিগর্ভ। সরকার পূর্ব ও পশ্চিম ইম্ফল, থৌবাল, কাকচিং ও বিষ্ণুপুর জেলায় ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করে দিয়েছে। বিষ্ণুপুর জেলায় জারি হয়েছে কার্ফু। পরিস্থিতি নিয়ে রাতে জরুরি সর্বদলীয় বৈঠক করেন মণিপুরের মুখ্যমন্ত্রী।

গত কাল রাত প্রায় ১টায় মইরাং থানার অন্তর্গত ট্রংলাওবি আওয়াং লেইকাই এলাকার একটি বাড়িতে কুকি জঙ্গিদের ছোড়া রকেটের মতো কোনও অস্ত্র আঘাত হানে বলে অভিযোগ। বিস্ফোরণের ফলে ঘটনাস্থলেই ৫ বছরের একটি বালক ও ৫ মাসের এক শিশুকন্যার মৃত্যু হয়। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাদের মা-কে রাজ মেডিসিটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বাড়িটি এক বিএসএফ জওয়ানের বলে জানা গিয়েছে। ঘটনার জেরে মইরাং এলাকায় ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু হয়। ক্ষুব্ধ বাসিন্দারা রাস্তায় নেমে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, মুখ্যমন্ত্রী খেমচাঁদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন। কুকি অধ্যুষিত চূড়াচাঁদপুরগামী দু’টি তেলবাহী ট্যাঙ্কার ও একটি পণ্যবাহী ট্রাকে আগুন ধরিয়ে দেন বিক্ষোভকারীরা। বিপুল সংখ্যক মানুষ মইরাং থানা ঘেরাও করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। থানার সামনে আগুন লাগানো হয়।

ট্রংলাওবির সিআরপি শিবিরেও চলে আক্রমণ। সিআরপির বেশ কিছু গাড়িতে আগুন লাগানো হয়। সিআরপি শিবিরেও আগুন লাগানো হলে জওয়ানেরা গুলি চালাতে থাকেন। ৯ জন গুলিতে জখম হন। তাঁদের মধ্যে এখনও পর্যন্ত দু’জনের জনের মারা যাওয়ার খবর নিশ্চিত করেছে সরকার। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এলাকায় বিপুল সংখ্যক নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রী খেমচাঁদ হাসপাতালে জখমদের সঙ্গে দেখা করতে যান। তিনি সকলকে শান্ত থাকার অনুরোধ জানিয়ে বলেন, “এই নৃশংস ঘটনা মণিপুরের কষ্টার্জিত শান্তিকে ভেঙে দেওয়ার একটি পরিকল্পিত চেষ্টা। যখনই সরকার শান্তি প্রতিষ্ঠায় উদ্যোগী হয়, কিছু স্বার্থান্বেষী শক্তি হিংসা ছড়িয়ে পরিস্থিতি অস্থির করার চেষ্টা করে। ঘটনার তদন্ত করবে এনআইএ। দোষীদের জীবিত হোক বা মৃত, ধরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।” তিনি জানান, রাজ্য পুলিশ, আসাম রাইফেলস্, সিআরপি, সেনার যৌথ বাহিনীর অভিযান চলছে। ব্যবহার হচ্ছে হেলিকপ্টারও। পাহাড়ি এলাকায় বুলেটপ্রুফ গাড়ি-সহ কমান্ডো মোতায়েন করা হয়েছে।

কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী মণিপুরের ঘটনাকে ‘হৃদয়বিদারক’ বলে উল্লেখ করে বলেন, “মণিপুরে শান্তির কোনও লক্ষণ নেই। তিন বছর পরেও নিরীহ শিশুদের প্রাণ হারাতে হচ্ছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বাধীন সরকার সংবেদনশীলতা হারিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী মণিপুর নিয়ে তাঁর দায়িত্ব পালনে পুরোপুরি ব্যর্থ। সরকার ভুলে গিয়েছে মণিপুরের শিশুরাও দেশের ভবিষ্যৎ।”

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Manipur

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy