আবার ভারত সফরে আসা বিদেশি রাষ্ট্রনেতাকে স্বাগত জানানোর জন্য প্রোটোকল ভেঙে বিমানবন্দরে হাজির হলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের পরে এ বার সংযুক্ত আরব আমিরশাহি (ইউএই)-র প্রেসিডেন্ট শেখ মহম্মদ বিন জ়ায়েদ আল নাহয়ানের জন্য।
সোমবার বিকেলে জ়ায়েদকে স্বাগত জানাতে দিল্লির পালমে ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হাজির হয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। রানওয়েতে দাঁড়িয়েই করমর্দনের পরে জ়ায়েদকে আলিঙ্গন করেন মোদী। এর পরে লাল কার্পেটের উপর দিয়ে পাশাপাশি হেঁটে একই গাড়িতে রওনা হন তাঁরা। গত ৪ ডিসেম্বর ঠিক এমন ভাবেই মোদী দিল্লি বিমানবন্দরে অভ্যর্থনা করেছিলেন পুতিনকে।
আরও পড়ুন:
সাধারণ প্রোটোকল অনুযায়ী কোনও বিদেশি রাষ্ট্রনেতা ভারত সফরে এলে তাঁকে বিমানবন্দরে স্বাগত জানাতে হাজির থাকেন বিদেশমন্ত্রী বা বিদেশ মন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী। কখনও বা দায়িত্বপ্রাপ্ত অন্য কোনও মন্ত্রী। পুতিনের আগে ২০১৭ সালে বাংলাদেশের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে স্বাগত জানাতে প্রোটোকল ভেঙে দিল্লি বিমানবন্দরে হাজির হয়েছিলেন মোদী। ২০১৮-য় ইজ়রায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুকেও মোদী নিজেই বিমানবন্দরে অভ্যর্থনা জানাতে গিয়েছিলেন।
মোদীর আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে তৃতীয় বার ভারত সফরে এসেছেন জ়ায়েদ। তাঁর এই সফরে দু’দেশের দ্বিপাক্ষিক কৌশলগত সম্পর্ক নতুন মাত্রা পাবে বলে বিদেশ মন্ত্রকের একটি সূত্র জানাচ্ছে। ভারত ও সংযুক্ত আরব আমিরশাহির মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগের সম্পর্ক দীর্ঘ দিনের। দুই দেশের মধ্যে স্থানীয় মুদ্রা ব্যবস্থাপনা, আর্থিক সহযোগিতা চুক্তি, দ্বিপাক্ষিক বিনিয়োগ চুক্তি রয়েছে। জ্বালানি সরবরাহ সংক্রান্ত একাধিক দীর্ঘস্থায়ী চুক্তিও রয়েছে নয়াদিল্লি-আবু ধাবির। ২০১৯ সালের অগস্টে মোদীর আবু ধাবি সফরের সময় তাঁর হাতে সর্বোচ্চ অসামরিক সম্মান ‘অর্ডার অব জ়ায়েদ’ তুলে দিয়ে, নয়াদিল্লির সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক মিত্রতা আরও বাড়ানোর স্পষ্ট বার্তা দিয়েছিল সংযুক্ত আরব আমিরশাহি। আবু ধাবির তৎকালীন শাসক জ়ায়েদ ২০২২ সালে সে দেশের প্রেসিডেন্ট হয়েছেন।