২৬ ফেব্রুয়ারি, শিবরাত্রির দিনেই প্রয়াগরাজে শেষ হওয়ার কথা ছিল মহাকুম্ভের। জল্পনা, সেই মেয়াদ বৃদ্ধি পেতে পারে। শিবরাত্রির পরেও চলতে পারে মহাকুম্ভ। পুলিশ এবং প্রশাসনিক কর্তাদের ডিউটির মেয়াদ বৃদ্ধি করেছে যোগী আদিত্যনাথ সরকার। তার পরেই শুরু হয়েছে জল্পনা। প্রসঙ্গত, এর আগে উত্তরপ্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অখিলেশ যাদব কুম্ভের মেয়াদ বৃদ্ধি করার দাবি করেছিলেন। আরও বেশি মানুষ যাতে পুণ্যস্নানের সুযোগ পান, সে জন্যই তিনি এই দাবি করেন। এ বার কি সেই পথেই হাঁটতে চলেছে যোগী সরকার?
উত্তরপ্রদেশ সরকারের একটি সূত্র বলছে, কুম্ভমেলার জন্য আগে পুলিশ এবং প্রশাসনিক কর্তাদের ২৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ডিউটি দেওয়া হয়েছিল। সেই মেয়াদই বৃদ্ধি করে ২৮ ফেব্রুয়ারি করা হয়েছে। তার পরেই প্রশাসনের একটি সূত্রের দাবি, কুম্ভের মেয়াদ বৃদ্ধি করা হতে পারে ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। যদিও অন্য একটি সূত্রের দাবি, কুম্ভে বার বার দুর্ঘটনা হচ্ছে। ভিড়ের কারণে বিশৃঙ্খলা হচ্ছে। সেই ভিড় সামাল দিতেই কুম্ভমেলা শেষ হওয়ার পরেও আরও দু’দিন মোতায়েন রাখা হবে পুলিশ এবং প্রশাসন।
১৩ জানুয়ারি থেকে প্রয়াগরাজে শুরু হয়েছে কুম্ভমেলা। উত্তরপ্রদেশ সরকারের দাবি, এখন পর্যন্ত প্রায় ৫০ কোটি পুণ্যার্থী ডুব দিয়েছেন ত্রিবেণিসঙ্গমে। এত পুণ্যার্থীর চাপে বার বার বিশৃঙ্খলা তৈরির অভিযোগও উঠেছে। কুম্ভে মৌনী অমাবস্যায় পুণ্যস্নানের সময় পদপিষ্ট হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন সরকারি হিসাবে ৩০ জন। বেশ কয়েক বার আগুন লেগেছে মেলাপ্রাঙ্গণে। তাতে যদিও কেউ হতাহত হননি। কুম্ভ যাওয়ার পথে দুর্ঘটনায় প্রাণ দিয়েছেন বহু জন। ভিড়ের চাপে রাস্তায় তৈরি হয়েছে তীব্র যানজট। প্রায় ৩০০ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজটে আটকে পথে রাত কাটিয়েছেন হাজার হাজার পুণ্যার্থী। যানজটের আঁচ পৌঁছয় প্রতিবেশী বিহার এবং মধ্যপ্রদেশেও। পথে আটকে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বহু মানুষ। শনিবার নয়াদিল্লি স্টেশনে প্রয়াগগামী ট্রেন ধরার জন্য হুড়োহুড়ি পড়ে যায় যাত্রীদের মধ্যে। পদপিষ্ট হয়ে প্রাণ হারান শিশু, মহিলা-সহ ১৮ জন। আহত হন বহু।
এ সব নিয়ে বার বার প্রশাসনের দিকে আঙুল উঠেছে। পুণ্যার্থীদের একাংশ থেকে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি যোগী সরকারকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছে। তার মধ্যে কুম্ভের মেয়াদ বৃদ্ধি করারও দাবি উঠেছে। সূত্রের খবর, এ বার তা-ই নিয়েই ভাবনাচিন্তা চলছে যোগী সরকারের অন্দরে। মনে করা হচ্ছে, আরও বেশি পুণ্যার্থীকে কুম্ভে যাওয়ার সুযোগ করে দিতে মেয়াদ বৃদ্ধি করতে পারে উত্তরপ্রদেশ সরকার।