রাশিয়ার কাছ থেকে খনিজ তেল কেনার কারণে ভারতের উপর ২৫ শতাংশ বাড়তি শুল্ক আরোপ করেছে আমেরিকা। তবে এ বার ভারতকে অন্য এক দেশ থেকে তেল কেনার প্রস্তাবও দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সংবাদসংস্থা রয়টার্স তিনটি সূত্র উল্লেখ করে জানিয়েছে, আমেরিকা ভারতকে ভেনেজ়ুয়েলার তেল কেনার প্রস্তাব দিয়েছে। এই প্রস্তাবে নয়াদিল্লি যদি রাজি হয়ে যায়, তবে অনায়াসে ভারতীয় পণ্যের উপর মার্কিন শুল্ক কমে যাবে। পাকা হতে পারে ভারত-আমেরিকা বাণিজ্যচুক্তিও।
২০২৫ সালে দু’টি কারণে ভারতের উপর পর পর দু’বার শুল্ক আরোপ করে আমেরিকা। প্রথমে ভেনেজ়ুয়েলার খনিজ তেল কেনার কারণে ভারত-সহ একাধিক দেশের উপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছিল। পরে রাশিয়ার জন্য ভারতের উপর বাড়তি ২৫ শতাংশ শুল্ক চাপানো হয়। ফলে আমেরিকায় ভারতীয় পণ্যের উপর শুল্কের পরিমাণ দাঁড়ায় ৫০ শতাংশ। চড়া শুল্কের কারণে দীর্ঘ দিন ধরে ভারত-মার্কিন বাণিজ্যিক লেনদেন তলানিতে। ভেনেজ়ুয়েলার তেলের হাত ধরেই এ বার ফের চাকা ঘুরতে পারে।
আরও পড়ুন:
যে ভেনেজ়ুয়েলার তেলের জন্য ভারতের উপর শুল্ক চাপানো হয়েছিল, কেন সেই তেল কেনার প্রস্তাবই নতুন করে দেওয়া হচ্ছে? কারণ, পরিস্থিতি বদলেছে। ২০২৫ সালের মার্চ মাসে ভেনেজ়ুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে শিক্ষা দিতে তাদের ক্রেতা বিভিন্ন দেশকে চাপ দিয়েছিল আমেরিকা। কিন্তু গত ৩ জানুয়ারি ভেনেজ়ুয়েলায় ঢুকে সেই মাদুরোকেই অপহরণ করে নিয়ে গিয়েছে মার্কিন বাহিনী। বিশ্বের বৃহত্তম তৈলভান্ডার ভেনেজ়ুয়েলার অফুরন্ত সম্পদ এখন আমেরিকার নিয়ন্ত্রণে। তাই এখন সেই তেল কেনার জন্য নয়াদিল্লির কাছে প্রস্তাব এসেছে। ভারত যদি এই প্রস্তাবে রাজি হয়, তবে তাদের রাশিয়া থেকে তেল কেনা কমিয়ে দিতে হবে। আমেরিকার বক্তব্য, তেল বিক্রি করে রাশিয়া যে রাজস্ব পায়, তা ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধে খরচ করেন প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। ভারত তাদের অন্যতম বড় ক্রেতা। রাশিয়ার এই আয়ের পথ বন্ধ করতে মরিয়া ট্রাম্প।
রয়টার্স সূত্র উল্লেখ করে এ-ও দাবি করেছে যে, রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনা ইতিমধ্যে কমাতে শুরু করেছে ভারত। জানুয়ারি মাসের হিসাব বলছে, প্রতি দিন ১২ লক্ষ ব্যারেল রুশ তেল কেনে নয়াদিল্লি। কিন্তু সূত্রের দাবি, ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যে তা কমিয়ে ১০ লক্ষ করা হবে। ধীরে ধীরে মার্চে তা কমে হবে ৮ লক্ষ। এমনকি, আগামী দিনে রাশিয়ার তেল আমদানি দিনে পাঁচ থেকে ছ’লক্ষ ব্যারেলেও নেমে আসতে পারে। আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে সমঝোতা করতেই ভারত এই পথে হাঁটছে বলে দাবি। যদিও ভারত সরকারের তরফে এ বিষয়ে কোনও মন্তব্য করা হয়নি।