Advertisement
E-Paper

ভারত-ইইউ চুক্তিতে মুখ থুবড়ে পড়বে পাকিস্তানি পণ্য? চিন্তায় ব্যবসায়ীরা, ইউরোপে কী সুবিধা পায় ইসলামাবাদ? কেন আশঙ্কা

ভারত-ইইউ বাণিজ্যচুক্তির কারণে ইউরোপের বাজারে মার খাবে পাকিস্তানি পণ্য। বিশেষত, পাকিস্তানি বস্ত্রের বাজার এর ফলে ধাক্কা খেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন পাক ব্যবসায়ীরা।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ৩০ জানুয়ারি ২০২৬ ১৪:১৩
(বাঁ দিকে) ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ় শরিফ (ডান দিকে)।

(বাঁ দিকে) ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ় শরিফ (ডান দিকে)। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে ভারতের কথাবার্তা পাকা হয়ে গিয়েছে। কিন্তু এই চুক্তিতে সিঁদুরে মেঘ দেখছেন পাকিস্তানি ব্যবসায়ী এবং রফতানিকারকেরা। তাঁদের আশঙ্কা, ভারত-ইইউ বাণিজ্যচুক্তির কারণে ইউরোপের বাজারে মার খাবে পাকিস্তানি পণ্য। বিশেষত, পাকিস্তানি বস্ত্রের বাজার এর ফলে ধাক্কা খেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন পাক ব্যবসায়ীরা। এর জন্য অবিলম্বে সরকারের কাছে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের আর্জিও জানিয়েছেন তাঁরা। পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম ডন এই তথ্য জানিয়েছে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে আগে থেকেই পাকিস্তানের বাণিজ্যচুক্তি রয়েছে। তার ভিত্তিতে ৮০ শতাংশ পাক পণ্য বিনা শুল্কে ইউরোপের বাজারে যায়। উল্টো দিকে, ভারতের পণ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলিতে শুল্কের পরিমাণ ১২ শতাংশ। মুক্ত বাণিজ্যচুক্তিতে এই শুল্ক হ্রাস পেতে পারে। এমনকি, অধিকাংশ পণ্যের ক্ষেত্রে শুল্ক প্রত্যাহারও করে নেওয়া হতে পারে। ফলে ইউরোপের বাজারে আরও বেশি করে ভারতীয় পণ্য পৌঁছে যেতে পারবে। পরিসংখ্যান বলছে, বিনা শুল্কে বাণিজ্য করেও ইউরোপে এই মুহূর্তে পাকিস্তানি বস্ত্র রফতানির বার্ষিক পরিমাণ ৬২০ কোটি মার্কিন ডলার (ভারতীয় মুদ্রায় ৫৬ হাজার কোটি টাকা)। সেখানে ১২ শতাংশ শুল্ক দিয়েও ভারত প্রতি বছর ৫৬০ কোটি মার্কিন ডলারের (ভারতীয় মুদ্রায় ৫১ হাজার কোটি টাকা) বস্ত্র ইউরোপে রফতানি করে। পাকিস্তান এগিয়ে থাকলেও ভারতের সঙ্গে ফারাক খুব বেশি নেই। পাক ব্যবসায়ীদের আশঙ্কা, ইইউ-এর সঙ্গে ভারতের মুক্ত বাণিজ্যচুক্তি কার্যকর হলে ইউরোপের বাজারে ভারতীয় বস্ত্রের পরিমাণ আরও বাড়বে। সে ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতায় আর পেরে উঠবেন না তাঁরা।

পাকিস্তানের ব্যবসায়ীদের প্যানেলের চেয়ারম্যান এবং ফেডারেশন অফ পাকিস্তান চেম্বার্স অফ কর্মার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির ভাইস প্রেসিডেন্ট সাকিব ফায়াজ় মাগুন বলেন, ‘‘ভারত ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে বিনা শুল্কে রফা করে নিলে ইউরোপের বাজারে পাকিস্তানের যেটুকু অগ্রাধিকার ছিল, তা হাওয়ায় মিশে যাবে। আমাদের রফতানি বড়সড় ধাক্কা খেতে পারে।’’ এই পরিস্থিতি এড়ানোর জন্য পাকিস্তানের সরকারকে উদ্যোগী হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন মাগুন। তাঁর আশঙ্কা, ‘‘একবার বাজার হাতছাড়া হয়ে গেলে আবার নতুন করে সেখানে জায়গা করে নেওয়া অত্যন্ত কঠিন হবে।’’

কী কী করতে পারে পাকিস্তানের সরকার? আপাতত বিদ্যুতের শুল্ক কমিয়ে, কর ব্যবস্থাকে আরও সহজ করে এবং দেশের ব্যবসায়ীদের সুযোগসুবিধা বৃদ্ধি করে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞেরা। মাগুন বলেন, ‘‘অবিলম্বে রফতানি ক্ষেত্রে সরকারের জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা উচিত। শিল্পবান্ধব নীতি গ্রহণ করা উচিত। তাতেই দেশের অর্থনৈতিক স্বার্থ সুরক্ষিত হবে।’’

পাকিস্তানের বস্ত্র রফতানির সবচেয়ে বড় ঠিকানা আমেরিকা। কিন্তু তালিকায় তার পরেই রয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। বছরের মোট রফতানির ২৪ শতাংশই ইউরোপের বাজারে যায়। এত দিন এখানে পাকিস্তানি ব্যবসায়ীরা যে বাড়তি সুবিধা ভোগ করতেন, ভারত-ইইউ বাণিজ্যচুক্তি কার্যকর হলে তা আর পাওয়া যাবে না। সেই কারণেই পাক ব্যবসায়ীরা উদ্বেগে।

Pakistan European union Free Trade Agreement
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy