পাকিস্তান দিবসে সামরিক কুচকাওয়াজ হবে না সে দেশে। জানিয়ে দিল ইসলামাবাদ। তারা বিবৃতি দিয়ে দাবি করেছে, পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাতের আবহে পাকিস্তানে তেল, রান্নার গ্যাসের সঙ্কট চরমে। সে কারণে ২৩ মার্চ ওই কুচকাওয়াজের কর্মসূচি বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে শুধু বাইরে নয়, ঘরেও সংঘাতের পরিস্থিতিতে জড়িয়েছে পাকিস্তান। কাবুলের একটি হাসপাতাল লক্ষ্য করে বোমা ফেলে তারা। তাতে মৃত্যু হয়েছে ৪০০ জনের। প্রতিশোধ নেওয়ার হুমকি দিয়েছে আফগানিস্তানও।
১৯৪০ সালের ২৩ মার্চ লাহৌরে একটি বৈঠকে মুসলিমদের জন্য আলাদা দেশ গঠনের দাবিতে প্রস্তাব পাশ করেছিল মুসলিম লীগ। সেই ঘটনার স্মরণে এখনও ওই দিন সামরিক কুচকাওয়াজ হয় পাকিস্তানে। প্রধানমন্ত্রীর দফতর মঙ্গলবার একটি বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছে, পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের পরিস্থিতিতে ব্যয়সঙ্কোচের পথে হাঁটছে দেশ। তাই আপাতত কুচকাওয়াজের কর্মসূচি বন্ধ রাখা হচ্ছে। তবে বিভিন্ন জায়গায় পতাকা উত্তোলন করা হবে।
আরও পড়ুন:
জ্বালানি তেলের জন্য পাকিস্তান পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলির উপর অনেকটাই নির্ভরশীল। সেখান থেকেই তারা তেল আমদানি করে। পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাতের আবহে ইরান হরমুজ় প্রণালী দিয়ে জাহাজ পারাপার বন্ধ করে দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে পাক প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ় শরিফের সরকার জ্বালানি সাশ্রয়ের জন্য কিছু পদক্ষেপ করেছে। এই পদক্ষেপের অংশ হিসাবে সরকার ঘোষণা করে যে, স্কুলগুলি ৯ মার্চ থেকে পরের ১৫ দিন পুরোপুরি বন্ধ থাকবে। উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতে হবে অনলাইন ক্লাস এবং সরকারি দফতরগুলি সপ্তাহে চার দিন খোলা থাকবে। যে দিনগুলিতে সরকারি দফতরগুলি খোলা থাকবে, সে দিনগুলি ৫০ শতাংশ কর্মী বাড়ি থেকে কাজ (ওয়ার্ক ফ্রম হোম) করবেন।
গত ১৫ মার্চ হরমুজ় পেরিয়েছে পাকিস্তানের একটি তেলবাহী জাহাজ। বুধবারে ওই জাহাজের পৌঁছোনোর কথা করাচিতে। ‘এমটি করাচি’ নামে ওই জাহাজে প্রায় ১,০৯,৯৯০ টন অপরিশোধিত তেল রয়েছে বলে জানিয়েছেন পাকিস্তান শিপিং কর্পোরেশনের মুখপাত্র ফারুক নিজ়ামি। যদিও তার পরেও ব্যয়সঙ্কোচের পথ থেকে সরছে না পাকিস্তান। ২৩ মার্চ সামরিক কুচকাওয়াজ বন্ধ রাখছে সরকার।