Advertisement
E-Paper

ভারতকে ‘শাস্তি’ দিতে বিল পেশ করতে চলেছে ট্রাম্প প্রশাসন, রাশিয়া থেকে তেল কেনার জন্য চাপতে পারে ৫০০ শতাংশ শুল্ক!

রাশিয়া থেকে অশোধিত তেল কেনার জন্য শাস্তি হিসাবে ভারতের উপরে বাড়তি ২৫ শতাংশ শুল্ক চাপিয়ে রেখেছেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফলে এ দেশের পণ্যে তাদের মোট শুল্ক ৫০ শতাংশ।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০৮ জানুয়ারি ২০২৬ ০৯:০৪
ডোনাল্ড ট্রাম্প।

ডোনাল্ড ট্রাম্প। —ফাইল চিত্র।

রাশিয়া থেকে তেল আমদানি করার জন্য ভারতকে আরও কঠোর ‘শাস্তি’ দিতে চলেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ভারতীয় পণ্যে শুল্কের পরিমাণ বাড়িয়ে ৫০০ শতাংশও করতে পারে আমেরিকা। একই ‘শাস্তি’র মুখে পড়তে পারে চিন এবং ব্রাজ়িলও। শীঘ্রই মার্কিন আইনসভায় এই সংক্রান্ত বিল পেশ হতে চলেছে বলে জানিয়েছেন ট্রাম্পের দল রিপাবলিকান পার্টির সদস্য লিন্ডসে গ্রাহাম।

বুধবার লিন্ডসে ট্রাম্পের সঙ্গে দেখা করেন। তার পর সমাজমাধ্যমে একটি লম্বা পোস্ট করে তিনি জানান, এই সংক্রান্ত বিল পেশের বিষয়ে সবুজ সঙ্কেত দিয়েছেন ট্রাম্প। আগামী সপ্তাহেই এই বিলটি নিয়ে আমেরিকার আইনসভায় ভোটাভুটি হতে পারে বলেও জানিয়েছেন লিন্ডসে।

বিলটির গুরুত্ব ব্যাখ্যা করে লিন্ডসে লেখেন, “এর ফলে যে সমস্ত দেশ সস্তায় রাশিয়ার তেল কিনে (ভ্লাদিমির) পুতিনকে যুদ্ধে সহায়তা করছে, তাদের শাস্তি দিতে পারবেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।” রাশিয়া থেকে এখনও তেল আমদানি অব্যাহত রাখা দেশগুলিই এই শাস্তি পাবে বলে জানিয়েছেন তিনি। লিন্ডসে তাঁর পোস্টে ভারত ছাড়াও ব্রাজ়িল এবং চিনের নামোল্লেখ করেছেন।

প্রসঙ্গত, রাশিয়া থেকে অশোধিত তেল কেনার জন্য শাস্তি হিসাবে ভারতের উপরে বাড়তি ২৫ শতাংশ শুল্ক চাপিয়ে রেখেছেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফলে এ দেশের পণ্যে তাদের মোট শুল্ক ৫০ শতাংশ। আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তির অন্যতম শর্ত হিসেবেও রুশ তেল আমদানি বন্ধ করার চাপ রয়েছে নয়াদিল্লির উপর। তা ছাড়া রাশিয়ার দুই তেল সংস্থা রসনেফ্ট ও লুকঅয়েলের উপরেও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে রেখেছে ট্রাম্প প্রশাসন। এই আবহে গত রবিবার ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, “ওরা (ভারত) বাণিজ্য (রাশিয়ার সঙ্গে) করছে। আমরা ওদের উপর খুব তাড়াতাড়ি আরও বেশি শুল্ক চাপাতে পারি।”

ট্রাম্প প্রশাসনের চাপের মুখে নয়াদিল্লি অবশ্য বার বারই জানিয়ে এসেছে, দেশের উপভোক্তাদের কথা মাথায় রেখেই সিদ্ধান্ত নেবে তারা। কোন দেশ থেকে কতটা সস্তায় তেল পাওয়া যাচ্ছে, মাথায় রাখা হবে সেটাও। রুশ-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পরেই মস্কোর তেল বিক্রির উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল আমেরিকা। সেই সময় তেল বিক্রি অব্যাহত রাখতে মোটা টাকা ছাড় দেওয়ার কথা ঘোষণা করে ভ্লাদিমির পুতিনের প্রশাসন। ভারতও তেল কেনার বিষয়ে পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলির উপর নির্ভরতা খানিক কমিয়ে রাশিয়া থেকে তেল কেনার পরিমাণ ক্রমশ বাড়াতে থাকে। চিনের পর ভারতই রুশ তেলের দ্বিতীয় বৃহত্তম আমদানিকারক। ট্রাম্পের দাবি, শুল্কবাণের পরেও রাশিয়া থেকে তেল কেনার পরিমাণ খুব বেশি কমায়নি ভারত।

ট্রাম্প প্রশাসন মনে করে তেল বিক্রির টাকা ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ব্যবহার করছে রাশিয়া। বিশ্বে বহু যুদ্ধ থামানোর কৃতিত্ব দাবি করলেও এখনও পর্যন্ত রুশ-ইউক্রেন যুদ্ধ থামাতে পারেননি ট্রাম্প। তাই পুতিনের দেশকে ‘ভাতে মেরে’ আলোচনার টেবিলে বসাতে চায় হোয়াইট হাউস। তবে পুতিনের দেশের উপর এখনও পর্যন্ত কোনও শাস্তিমূলক পদক্ষেপ করেনি আমেরিকা। গত ডিসেম্বরে ভারতে এসেছিলেন পুতিন। সেই সময় রুশ প্রেসিডেন্টের বার্তা ছিল, আমেরিকা পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য রাশিয়া থেকে জ্বালানি কেনে। তা হলে কেন ভারতের সেই অধিকার থাকবে না? এ নিয়ে তাঁরা ট্রাম্পের সঙ্গেও কথা বলতে রাজি বলে জানিয়েছিলেন পুতিন।

Donald Trump Russian Oil US
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy