ক্ষমতায় এসেই শিল্পায়নের বার্তা দিতে নতুন জমি নীতি তৈরি করবে বলে জানিয়েছে রাজ্যের নতুন বিজেপি সরকার। পরিকাঠামো উন্নয়ন এবং বিদেশি লগ্নি টানতে জোর দেওয়ার কথাও বলেছে। প্রশাসনিক সূত্রের খবর, এ বার শীঘ্রই পশ্চিমবঙ্গের শিল্প পরিস্থিতি নিয়ে কেন্দ্রীয় শিল্প-বাণিজ্য মন্ত্রী পীযূষ গয়াল এবং তাঁর মন্ত্রকের কর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করতে পারে রাজ্য। সেখানে উপস্থিত থাকতে পারেন মুখ্যমন্ত্রী-সহ প্রশাসনের শীর্ষকর্তারা। তার দিনক্ষণও প্রায় চূড়ান্ত বলে শিল্প দফতর সূত্রের খবর। জানা গিয়েছে, সম্ভবত বৈঠকটি ভার্চুয়াল অর্থাৎ অনলাইনে হতে চলেছে।
সূত্রের দাবি, এই মুহূর্তে গভীর সমুদ্র বন্দর, বিরল খনিজ, গ্লোবাল কেপেবিলিটি সেন্টার, ডেটা সেন্টারের মতো ক্ষেত্রে জোর দিতে চাইছে রাজ্য সরকার। সেগুলিই থাকবে কেন্দ্র-রাজ্যের শিল্প-আলোচনায়। বিশেষ আর্থিক অঞ্চল (এসইজ়েড) নিয়েও কথা হতে পারে। শিল্প দফতরের এক আধিকারিকের কথায়, ‘‘যা খবর, তাতে খুব শীঘ্রই কেন্দ্রীয় শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রকের সঙ্গে বৈঠকে বসতে চলেছে রাজ্য সরকার। বাংলার কোন প্রকল্প কোথায় আটকে, কোনগুলিতে জমি বণ্টন বা হস্তান্তর হয়েছে, সে সব নিয়ে দফতরে রিপোর্ট তৈরি হচ্ছে। সম্ভবত ওই বৈঠকেই সেগুলি পেশ করা হবে।’’ বিষয়টি নিয়ে ক্যামাক স্ট্রিটের শিল্পসদনে ব্যস্ততা তুঙ্গে। যদিও রাজ্যের শিল্পসচিব বন্দনা যাদব এ রকম কোনও বৈঠক হওয়ার কথা সরাসরি অস্বীকার করেছেন।
সংশ্লিষ্ট মহলের দাবি, ক্ষমতায় আসার পর থেকে এক দিকে রাজ্যের নতুন সরকার বিভিন্ন কেন্দ্রীয় প্রকল্প চালু এবং সমন্বয়ের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রীয় মন্ত্রকের সঙ্গে বৈঠক করছে। অন্য দিকে, কেন্দ্রও পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন ক্ষেত্রে লগ্নি টানতে কার্যত মরিয়া। দ্রুত গুগ্ল, অ্যামাজ়ন, মাইক্রোসফটের মতো সংস্থার সঙ্গে কথা বলে ডেটা সেন্টার এবং গ্লোবাল কেপেবিলিটি সেন্টার তৈরির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। রিলায়্যান্স, আদানির মতো দেশীয় সংস্থার সঙ্গেও ইতিবাচক আলোচনা চলছে বলেই দাবি তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রক সূত্রের।
মন্ত্রকের এক কর্তা জানান, কেন্দ্র গুগ্ল, অ্যামাজ়ন, মাইক্রোসফ্ট, রিলায়্যান্স, আদানির মতো সংস্থাকে পশ্চিমবঙ্গে লগ্নির ডাক দিয়েছে। তাতে সাড়াও মিলেছে। কেউ কেউ এখানে গবেষণা এবং উৎকর্ষ কেন্দ্র গড়তে আগ্রহী। রাজ্য শিল্প দফতর সূত্রের অবশ্য দাবি, পূর্বতন রাজ্য সরকারের আমলেই রিলায়্যান্স, আদানি, এয়ারটেল নেক্সট্রার মতো সংস্থা নিউটাউনের সিলিকন ভ্যালিতে জমি নিয়েছে। কেন্দ্রের বার্তা, বাংলায় আরও বেশি করে দেশি-বিদেশি পুঁজি টানতে যা যা করার, তার সব কিছু করবে তারা। গত সপ্তাহে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য জানিয়েছিলেন, রাজ্য সরকার শীঘ্রই নতুন জমি নীতি আনবে। তুলে দেওয়া হবে শহরাঞ্চলে শিল্পের জন্য জমি অধিগ্রহণের ঊর্ধ্বসীমা। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, পশ্চিমবঙ্গে লগ্নির পথে গত সরকারের আমলে এটাই ছিল মূল বাধা। ফলে সেই নীতি বদলালে আপন নিয়মেই পুঁজি আসতে পারে। কেন্দ্রীয় বাণিজ্য মন্ত্রকের তথ্য বলছে, গত বছর (২০২৫) শিল্পে লগ্নি টানার ক্ষেত্রে এ রাজ্য ছিল দেশের মধ্যে ১৩ নম্বরে। এ বছর এখনও পর্যন্ত ১৭টি প্রকল্পে ৪২০০ কোটি টাকা লগ্নির প্রস্তাব এসেছে। নতুন সরকারের উদ্যোগে আগামী দিনে আরও কত আসে এবং তার কতটা কার্যকর হয়, সে দিকেই এখন চোখ সকলের।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)