Advertisement
E-Paper

‘তুমি কালো, আমার যোগ্যই নও’! গায়ের রং কালো হওয়ায় স্বামীকে হেনস্থা স্ত্রীর, প্রেমিকের সঙ্গে মিলে খুন, ফাঁদলেন ডাকাতির গল্প

তদন্তকারীরা প্রিয়ঙ্কাকে যখন জেরা করা শুরু করেন, তখন জানতে পারেন তাঁর একজন প্রেমিক রয়েছেন। তাঁর নাম কমলেশ পুরোহিত। তিনি রাজগড়ের বাসিন্দা।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১০ এপ্রিল ২০২৬ ১৪:১৩
অভিযুক্ত মহিলা প্রিয়ঙ্কা পুরোহিত। ছবি: সংগৃহীত।

অভিযুক্ত মহিলা প্রিয়ঙ্কা পুরোহিত। ছবি: সংগৃহীত।

গায়ের রং কালো হওয়ায় এক যুবককে খুন হতে হল তাঁর স্ত্রীর হাতে। শুধু তা-ই নয়, পরে জানা গেল, গায়ের রং তো বটেই, মহিলার বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কে বাধা হয়ে ওঠায় যুবককে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। তার পর পুরো ঘটনাটিকে ডাকাতি বলে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টাও হল। কিন্তু শেষরক্ষা হল না। প্রেমিকের সঙ্গে মিলে স্বামীকে খুনের অভিযোগে গ্রেফতার করা হল মহিলা এবং তাঁর প্রেমিককে। ঘটনাটি মধ্যপ্রদেশের ধার জেলার।

পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্ত মহিলার নাম প্রিয়ঙ্কা পুরোহিত। স্বামী দেবকৃষ্ণ পুরোহিতকে খুনের অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। গত ৭ এপ্রিল বাড়ি থেকে দেবকৃষ্ণের ক্ষতবিক্ষত দেহ উদ্ধার হয়। যে ঘরে থাকতেন দম্পতি, সেই ঘর ছিল লন্ডভন্ড। প্রাথমিক ভাবে প্রিয়ঙ্কা পুলিশের কাছে দাবি করেন, রাতে ডাকাতদল এসে সব লুটপাট করে। বাধা দিতে গেলে দেবকৃষ্ণকে খুন করে তারা। তাঁকেও বেঁধে রাখেন। তার পর গয়না, টাকা লুট করে নিয়ে যায়। সাড়ে তিন লক্ষ টাকার গয়না লুট করা হয়েছে বলে দাবি করেন প্রিয়ঙ্কা।

কিন্তু প্রিয়ঙ্কার কথার মধ্যে কিছু অসঙ্গতি লক্ষ করেন তদন্তকারীরা। তার মধ্যে দেবকৃষ্ণের পরিবার পুলিশকে জানায়, দীর্ঘ দিন ধরেই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে অশান্তি চলছিল। দেবকৃষ্ণের বোনের অভিযোগ, গায়ের রং নিয়ে দাদাকে নানা ভাবে হেনস্থা করতেন বৌদি। এমনকি তাঁকে মাঝেমধ্যেই বলতেন, ‘‘তোমার গায়ের রং কালো। আমার যোগ্যই নও তুমি। আমার জন্য আরও ভাল ছেলে লাইন দিয়ে দাঁড়িয়ে। তোমার থেকে অনেক ভাল ছেলে আমার কপালে জোটা দরকার ছিল।’’ বিষয়টি নিয়ে প্রায় দিনই বৌদি অশান্তি করতেন বলে অভিযোগ।

Advertisement

তদন্তকারীরা প্রিয়ঙ্কাকে যখন জেরা করা শুরু করেন, তখন জানতে পারেন তাঁর একজন প্রেমিক রয়েছেন। তাঁর নাম কমলেশ পুরোহিত। তিনি রাজগড়ের বাসিন্দা। পুলিশ সূত্রে খবর, দু’জনে মিলে দেবকৃষ্ণকে সরানোর পরিকল্পনা করেন। তার পর দেবকৃষ্ণ এক লক্ষ টাকা দিয়ে খুনি ভাড়া করেন। ৫০ হাজার টাকা অগ্রিমও দেওয়া হয়েছিল। ঘটনার রাতে ওই খুনি দেবকৃষ্ণের বাড়িতে ঢোকেন। দরজা আগে থেকেই খুলে রেখেছিলেন। ফলে ঘরে ঢোকার পথ আরও সহজ হয়েছিল। ঘুমের মধ্যে দেবকৃষ্ণকে খুন করা হয়। তার পর চম্পট দেন খুনি। দেবকৃষ্ণ খুন হওয়ার পর প্রিয়ঙ্কা বাড়ির লোকেদের ডেকে তোলেন। জানান ডাকাতি হয়েছে, বাঘা দিতে গিয়ে খুন হয়েছেন দেবকৃষ্ণ। কিন্তু তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, যে গয়না লুটের কথা প্রিয়ঙ্কা বলেছিলেন, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। ওই বাড়ি থেকেই গয়না উদ্ধার হয়। তার পরই গ্রেফতার করা হয় প্রিয়ঙ্কাকে। তাঁর সূত্র ধরে গ্রেফতার করা হয় প্রেমিক কমলেশকেও।

Crime
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy