গোটা গরমমশলা দিয়ে দেশি মুরগির ঝোল, খাসির টেংরির স্যুপ, সর্ষের তেল ও পাথরে গুঁড়ো করা গরমমশলা দিয়ে খাসির মাংস। সঙ্গে ধুসকা, মারওয়া বা ছিলকা রুটি— ঝাড়খণ্ডে এ বার এমনই আদিবাসী ‘স্পেশাল মেনু’র স্বাদ পাবেন পর্যটকরা। নিরামিষ খাবারে থাকবে ওলের সব্জি, আলু-চানার তরকারি, অঢ়হর ডালের বড়া দিয়ে টমেটোর স্যুপ, ধনেপাতার চাটনি। খাবারে আদিবাসীদের রন্ধন-প্রণালী মেনেই থাকবে হিংয়ের আধিক্য।
কয়েক দিনের মধ্যেই ঝাড়খণ্ডের পর্যটনকেন্দ্রগুলিতে মিলবে আদিবাসীদের এই ‘স্পেশাল থালি’। পর্যটন দফতরের ডিরেক্টর সুচিত্রা সিংহ বলেন, ‘‘পশ্চিমবঙ্গে ইলিশ পাতুরি, দক্ষিণ ভারতে ধোসা-ইডলি, মুম্বইয়ে পাওভাজির মতো ঝাড়খণ্ডেও স্বতন্ত্র খাবার রয়েছে। পর্যটকরা সেই খাবারের স্বাদ এ বার পাবেন।’’ পর্যটন দফতরের এক আধিকারিক বলেন, ‘‘অনেক পর্যটকই ঝাড়খণ্ডে এসে আদিবাসীদের খাবার খেতে চান। কিন্তু বেশিরভাগ হোটেলে সে রকম কিছু পাওয়া যায় না। বেতলা, নেতারহাটের জঙ্গলেও তাই মেলে চিলি-চিকেন, বিরিয়ানি। সেই ছবিটা এখন বদলাবে।’’
পর্যটন দফতর সূত্রে খবর, পর্যটকদের জন্য আদিবাসী খাবার মিলবে ২৭ সেপ্টেম্বর ‘বিশ্ব পর্যটন দিবস’ থেকে। রাঁচির হরমূর একটি হোটেলে সে জন্য হাজির থাকবেন রাজ্যের আদিবাসী রাজ্যপাল দ্রৌপদী মুর্মূ। তার পর থেকেই ওই খাবার মিলবে পর্যটন দফতরের বিভিন্ন অতিথিশালায়। পরে পর্যটনকেন্দ্রগুলির বিভিন্ন জায়গায় খুলবে আদিবাসী খাবারের দোকান। প্রাথমিক ভাবে নিরামিষ থালি ৩৫০ টাকা ও আমিষ থালির জন্য ৪০০ টাকা দাম ঠিক করা হয়েছে। হরমূর হোটেলটির প্রধান রাঁধুনি অসিত কুণ্ডু বলেন, ‘‘আদিবাসীদের রান্নাঘরে যে রকম ভাবে রান্না করা হয়, সে ভাবেই রান্না হবে এখানেও। কয়েক জন আদিবাসী রাঁধুনিও এ কাজে থাকবেন।’’