পঠানকোটে হামলার জন্য তাঁকেই দায়ী করে আসছে ভারত। সেই জইশ-ই-মহম্মদ প্রধান মাসুদ আজহারের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না! সংবাদমাধ্যম সূত্রের খবর, সম্ভবত আফগানিস্তানে গা ঢাকা দিয়ে রয়েছেন এই জঙ্গি নেতা। পঠানকোট কাণ্ড নিয়ে ভারতের সঙ্গে যৌথ তদন্তে রাজি হয়েছিল নওয়াজ শরিফ সরকার। সম্প্রতি খবর মিলেছিল মাসুদ এবং তাঁর সঙ্গীসাথীদের গৃহবন্দি করেছে পাকিস্তান সরকার। তাঁদের দফতরে তল্লাশিও চালানো হয়েছে। সেই সময়ও নয়াদিল্লির তরফে জানানো হয়েছিল, পাক সরকার এমন কোনও খবর তাদের জানায়নি।
এ দিন সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেল, জইশ-ই-মহম্মদের কিছু নেতা গ্রেফতার হলেও তাঁদের মধ্যে মাসুদ নেই। এমনকী মাসুদ এখন পাকিস্তানেই নেই। তিনি এখন আফগানিস্তানে রয়েছেন বলে জল্পনা ছড়িয়েছে। ভারতীয় কূটনীতিকদের মতে, এমনটা অপ্রত্যাশিত নয়। কারণ পঠানকোট হানা নিয়ে কিছু তথ্যপ্রমাণ দিল্লি ইসলামাবাদের হাতে তুলে দিয়েছে। তার পরেও সোমবারই ইসলামাবাদ জানিয়েছে, এই ঘটনায় জইশ প্রধান এবং তাঁর সঙ্গীদের জড়িত থাকার কোনও প্রমাণ মেলেনি।
কূটনীতিকদের মতে, সন্ত্রাস প্রশ্নে বেকায়দায় পড়েছে পাকিস্তান। মুম্বইয়ে আদালতে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ডেভিড কোলম্যান হেডলির সাক্ষ্য দেওয়ার পরে চাপ বেড়েছে। হেডলি জানিয়েছে, ২৬/১১-র হামলায় হাত ছিল লস্কর এবং আইএসআই-এর। হেডলির সাক্ষ্যকে ‘মিথ্যের ভাণ্ডার’ বলে কটাক্ষ করেছেন পাকিস্তানের প্রাক্তন অভ্যন্তরীণ মন্ত্রী রেহমান মালিক। তবে পাকিস্তান ভালই জানে, এর পর পঠানকোট কাণ্ডে চাপ বাড়াবে ভারত। অনেকেরই ধারণা, মাসুদকে তাই আপাতত সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। বুধবার ছিল মার্কিন হেফাজত থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে হেডলির সাক্ষ্যের তৃতীয় দিন। সরকারি কৌঁসুলি উজ্জ্বল নিকম বলেন, ‘‘এ দিন আমেরিকার দিক থেকে যান্ত্রিক ত্রুটির জন্য ভিডিও কনফারেন্স করা যায়নি। সকাল থেকে চেষ্টা করেও আমরা যোগাযোগ করতে পারিনি।’’ ফের বৃহস্পতিবার হেডলির সাক্ষ্যগ্রহণ হবে।