Advertisement
E-Paper

গৌতম কাণ্ড নিয়ে কাজিয়া কংগ্রেসেই

ব্রডগেজের উদ্বোধনে মন্ত্রী গৌতম রায়কে অপদস্থ করার ঘটনা ভিন্ন মোড় নিল। ঘটনার জন্য আগে বিজেপিকে দোষারোপ করলেও কংগ্রেসের স্থানীয় নেতারা এখন একে অন্যের দিকে কাদা ছুঁড়তে ব্যস্ত। করিমগঞ্জ ও হাইলাকান্দি জেলা কংগ্রেসের আঙুল শিলচরের কংগ্রেস নেতাদের দিকে।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০১ ডিসেম্বর ২০১৫ ০৪:২৩

ব্রডগেজের উদ্বোধনে মন্ত্রী গৌতম রায়কে অপদস্থ করার ঘটনা ভিন্ন মোড় নিল। ঘটনার জন্য আগে বিজেপিকে দোষারোপ করলেও কংগ্রেসের স্থানীয় নেতারা এখন একে অন্যের দিকে কাদা ছুঁড়তে ব্যস্ত। করিমগঞ্জ ও হাইলাকান্দি জেলা কংগ্রেসের আঙুল শিলচরের কংগ্রেস নেতাদের দিকে। অবশ্য শিলচরের সাংসদ সুস্মিতা দেব তাতে গুরুত্ব দিতে নারাজ।

শিলচর স্টেশনে ব্রডগেজ ট্রেনের উদ্বোধনী পর্বে রাজ্যের সমাজকল্যাণ মন্ত্রী গৌতম রায় বক্তৃতা দিতে উঠলে একাংশ শ্রোতা ‘গো-ব্যাক’ স্লোগান দেন। তাঁরা মন্ত্রীকে জুতোও দেখান বলে অভিযোগ। গৌতমবাবু হাইলাকান্দি জেলার কাটলিছড়ার বিধায়ক এবং করিমগঞ্জ লোকসভা কেন্দ্রের ভোটার। নিজেদের নেতার অপমানে হাইলাকান্দি ও করিমগঞ্জ জেলা কংগ্রেস প্রতিবাদী মিছিল করে। ব্যতিক্রম শিলচর। যেখানে মন্ত্রীকে অপমানিত হতে হল সেখানেই কংগ্রেস কর্মীরা কোনও মিছিল করেননি।

হাইলাকান্দি জেলা কংগ্রেস সভাপতি অশোক দত্তগুপ্ত এবং করিমগঞ্জ জেলা কংগ্রেস সভাপতি সতু রায় জানিয়েছেন, কাছাড়ের সভাপতি কর্ণেন্দু ভট্টাচার্যের সঙ্গেও তাঁরা যোগাযোগ করেছিলেন। তাঁরা চাইছিলেন, এ নিয়ে প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠুক গোটা বরাক উপত্যকা। কর্ণেন্দুবাবু পরে দলের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন। কিন্তু একই ধাঁচে আন্দোলনে সায় মেলেনি।

Advertisement

জেলা কংগ্রেসেরই একটি সূত্রে খবর, গৌতমবাবুকে অপদস্থ করা নিয়ে মিছিলের প্রস্তাবে আপত্তি তোলেন সুস্মিতাদেবী। ওই ঘটনা নিয়ে রেলমন্ত্রীকে স্মারকপত্র দেওয়ার কথা হয়। সুস্মিতাদেবী স্মারকলিপিতে আগে আরও ট্রেনের দাবি জানানোর কথা বলেন। গৌতম-কাণ্ডে দোষীদের খোঁজার কথা পিছনে চলে যায়। ওই স্মারকপত্রটিও এ পর্যন্ত দেওয়া হয়নি। সুস্মিতাদেবীর মনোভাবে ক্ষিপ্ত করিমগঞ্জ ও হাইলাকান্দি জেলার কংগ্রেস নেতারা প্রকাশ্যেই কাছাড়ের নেতৃত্বকে দোষারোপ করছেন।

ঘটনার পর দিনই কাছাড় জেলা বিজেপির সভাপতি কৌশিক রাই মন্ত্রীকে অপদস্থ করার পেছনে কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ কলহকে দায়ী করেন। তাঁর যুক্তি ছিল, নতুন করে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্তির পর গৌতমবাবুকে কাছাড় জেলার ভার দেওয়া হয়। বিষয়টি কংগ্রেসেরই অনেকের না-পসন্দ। এআইসিসি সম্পাদক অবিনাশ পান্ডেকে চার বিধায়ক এ ব্যাপারে চিঠিও লেখেন। বক্তৃতায় বাধা, জুতা দেখানো— সবই সেই সূত্রে বাঁধা বলে তাঁর ধারণা। গৌতম-ঘনিষ্ঠদের বক্তব্যেও সেই কথার প্রতিধ্বনি। তাঁরা কৌশিকবাবুর যুক্তিকে পুরোপুরি সমর্থন না করলেও কাছাড় কংগ্রেসের নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। গৌতম-তনয়, প্রাক্তন বিধায়ক রাহুল রায় বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, ‘‘কাছাড়ে এমন ঘটনা ঘটল আর সুস্মিতা দেব চুপ করে রইলেন! কেউ কিছু করলেন না!’’

শিলচর জেলা কংগ্রেস কমিটি অবশ্য ওই অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে দাবি করে। সাধারণ সম্পাদক পার্থরঞ্জন চক্রবর্তী বলেন, ‘‘দলের সব বিধায়ককে নিয়ে প্রতিবাদ জানানো হবে। তাই সময় লাগল। আগামিকালই আমরা জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে রেলমন্ত্রীকে স্মারকপত্র দেব। সিসিটিভি-র ফুটেজ দেখে দোষীদের শনাক্ত করার দাবি জানাব।’’ শিলচরের সাংসদ সুস্মিতাদেবী বলেন, ‘‘২১ নভেম্বর রেলের অনুষ্ঠান থেকে বেরিয়েই আমি সাংবাদিকদের ডেকে ঘটনার নিন্দা করেছি। স্মারকলিপি নিয়েও অহেতুক বিতর্ক বাড়ানো হচ্ছে। রেলমন্ত্রীর কাছে প্রথমে জনগণের দাবি তুলে ধরা উচিত। তাই আমি বলেছিলাম, প্রথমে ট্রেনের দাবি তোলার পরে গৌতম রায়ের প্রসঙ্গ আনা হোক।’’

দলের ভিতরের কাজিয়া নিয়ে বিরক্ত সাংসদ বলেন, ‘‘আমার এখন এ সবের জন্য সময় নেই। অসহিষ্ণুতা নিয়ে সংসদে বক্তৃতা দিতে হবে। দিল্লিতে প্রচুর কাজ। যে যা বলার বলুক।’’

নিজের দাবিকে সত্যি হতে দেখে খুশি বিজেপির জেলা সভাপতি কৌশিক রাই। তিনি হাসতে হাসতে বলেন, ‘‘আগেই বলেছি ঘটনাটা কাছাড়ের কংগ্রেসিরাই ঘটিয়েছে। করিমগঞ্জ-হাইলাকান্দির রাগই তা প্রমাণ করে দিচ্ছে।’’

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy