সাক্ষ্যপ্রমাণ দেওয়া সত্ত্বেও পাকিস্তান ২৬/১১ মামলা নিয়ে পদক্ষেপ করছে না বলে আগেই অভিযোগ করেছিল দিল্লি। এ বার সেই অভিযোগকেই সমর্থন করল ডেভিড কোলম্যান হেডলি। তার দাবি, ২৬/১১ কাণ্ড নিয়ে পাক সরকারের তদন্ত ছিল নেহাতই লোক-দেখানো।
পাকিস্তানে ২৬/১১ মামলার তদন্ত করেছিল সে দেশের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা এফআইএ। আমেরিকা থেকে ভিডিও সাক্ষ্যে হেডলি দাবি করেছে, ওই তদন্তের পরে লস্কর নেতা হাফিজ সইদ ও জাকিউর লকভিকে নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়ে সে। লস্করের তরফে তখন তার সঙ্গে যোগাযোগ রাখত সাজিদ মির। ই-মেলে সাঙ্কেতিক ভাষায় তাদের মধ্যে কথোপকথন হতো বলে দাবি হেডলির। এফআইএ-র তদন্ত শুরুর পরে হেডলি মিরের কাছে ‘চাচা’ আর ‘দোস্ত’-এর কথা জানতে চায়। তার দাবি, সাঙ্কেতিক ভাষায় সইদ ও লকভিকে ওই দুই নামেই ডাকত তারা। মির তাকে জানায়, দু’জনেই বহাল তবিয়তে থাকবে। পাকিস্তান তাদের বিরুদ্ধে কোনও কড়া
পদক্ষেপ করবে না। লোক-দেখানো তদন্ত করছে এফআইএ। তত দিনে অবশ্য লকভি গ্রেফতার হয়েছেন। কিন্তু জেলেও তিনি ভালই আছেন বলে হেডলিকে জানায় মির।
হেডলির দাবি, ২৬/১১-এর পরে তাকে ভারতে আরও একটি ‘লগ্নির পরিকল্পনা’ করতে বলে মির। সাঙ্কেতিক ভাষায় যার অর্থ আরও একটি হামলার লক্ষ্যবস্তু বাছা। হেডলি জবাবে জানায়, পরের হামলা ‘রাহুলের শহরে’ না হওয়াই ভাল। পরিচালক মহেশ ভট্টের ছেলে রাহুলের সঙ্গে পরিচয় হয়েছিল হেডলির। পরে তা নিয়ে পুলিশি জেরার মুখেও পড়েন রাহুল। হেডলি জানিয়েছে, মিরের সঙ্গে কথোপকথনে সে মুম্বইকে ‘রাহুলের শহর’ বলেই উল্লেখ করত।
২০০৯ সালে রাজস্থানের পুষ্কর, গোয়া ও পুণেতে কিছু এলাকায় সে নজরদারি চালিয়েছিল বলে আজ দাবি করেছে হেডলি। তার সাক্ষ্য অনুযায়ী, আল কায়দা নেতা ইলিয়াস কাশ্মীরি ওই এলাকাগুলিতে হানার ছক কষছিল। তার নির্দেশেই সে তথ্য সংগ্রহ করে। আবার আইএসআইয়ের মেজর ইকবালের নির্দেশে সে পুণেতে ভারতীয় সেনার সাদার্ন কম্যান্ডের সদর দফতরেও গিয়েছিল। হেডলির দাবি, তাকে ভারতীয় সেনায় চর নিয়োগের চেষ্টা করতে বলেছিল মেজর ইকবাল। তবে সেই চেষ্টা কত দূর সফল হয়েছিল তা জানায়নি সে।