Advertisement
E-Paper

ঝাড়খণ্ডে ডাইনি অপবাদে কুপিয়ে খুন ৪

রাঁচির মাণ্ডরের গাঞ্জিয়া মারাইটোলার পর সরাইকেলার কুচাইয়ের সোসাটোলা। তিন মাসের ব্যবধানে ফের ডাইনি অপবাদে গণহত্যা-কাণ্ড হল ঝাড়খণ্ডে। মারাইটোলায় পিটিয়ে খুন করা হয়েছিল পাঁচ জনকে।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০২ নভেম্বর ২০১৫ ০২:৫৮

রাঁচির মাণ্ডরের গাঞ্জিয়া মারাইটোলার পর সরাইকেলার কুচাইয়ের সোসাটোলা।

তিন মাসের ব্যবধানে ফের ডাইনি অপবাদে গণহত্যা-কাণ্ড হল ঝাড়খণ্ডে। মারাইটোলায় পিটিয়ে খুন করা হয়েছিল পাঁচ জনকে। সোসাটোলায় কুপিয়ে মারা হল ৪ জনকে। মারাইটোলার মতো এ বারও অভিযুক্তরা থানায় আত্মসমর্পণ করে জানাল— তারা ঠিক কাজই করেছে। কেউই এ জন্য অনুতপ্ত নয়।

ঝাড়খণ্ডের প্রত্যন্ত এলাকায় পরপর এমন ঘটনার জেরে রাজ্যে সমাজকল্যাণ দফতর, মহিলা কমিশন বা স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাগুলির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। অনেকেরই বক্তব্য, প্রচার করা হচ্ছে ঠিকই, কিন্তু তাতে কুসংস্কার দূর হচ্ছে কি না তা দেখা হচ্ছে না। পুলিশ সূত্রে খবর, গত রাতে সরাইকেলা সদর থেকে ৪৫ কিলোমিটার দূরে সোসাটোলা গ্রামে ঘটনাটি ঘটে। নিহতদের নাম— জিনকারো মুন্ডা (৭০), হাসিয়া মুন্ডা (৫০), হাগল মুন্ডা (৪০), সরু মুন্ডা (৫৫)। রামসিংহ মুন্ডা ও শ্যামলাল মুন্ডার দিকে উঠেছে অভিযোগের আঙুল।

Advertisement

সরাইকেলার পুলিশ সুপার ইন্দ্রজিৎ মাহতো জানান, নিহতরা একই পরিবারের। জিনকারোর ছেলে হাসিয়া, হাগল। মেয়ে সরু। অভিযুক্তরা আজ ভোরে কুচাই থানায় আত্মসমর্পন করে। যে দু’টি টাঙ্গি দিয়ে চার জনকে খুন করা হয়েছিল, সেই টাঙ্গিটিও তারা নিয়ে এসেছিল।

হতদরিদ্র পরিবারের বাসস্থান সোসাটোলা। বেশিরভাগই আদিবাসী। দিনমজুরি করেই দিন চালান তারা। অনেক দিন আগেই স্বামী মারা গিয়েছে জিনকারোর। দুই ছেলে, এক মেয়ে। রামসিংহরা পড়শি। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে খবর, রামসিংহের ভাই শ্যামলালের এক বছরের ছেলে কয়েক দিন ধরে জ্বরে ভুগছিল। শ্যামলাল ছেলেকে নিয়ে যান ওঝার কাছে। ওঝা জানায়, সোসাটোলায় ডাইনিরয়েছে। গত রাতে শ্যামলালের ছেলে মারা যায়। গ্রামবাসীদের একাংশ জানিয়েছেন, জিনকারোর সঙ্গে পারিবারিক বিবাদ ছিল রামসিংহদের। জিনকারোর পরিবারকে ডাইনি অপবাদ দিয়েছিল তারা। গত রাতে শ্যামলাল মৃত ছেলেকে নিয়ে জিনকারোর বাড়িতে যায়। মৃত সন্তানকে বাঁচিয়ে দিতে বলে জিনকারোকে। পুলিশ জানায়, এই নিয়ে দু’পক্ষে বচসা শুরু হয়। তখনই হঠাৎ টাঙ্গি দিয়ে জিনকারোদের কোপাতে থাকে শ্যামলালরা। গলায়, বুকে ধারালো অস্ত্রের কোপ পড়ে। ঘরেই লুটিয়ে পড়েন চার জন।

গ্রামবাসীদের দবি, আচমকা সব কিছু ঘটে যায়। বাধা দেওয়ার সুযোগটুকুও মেলেনি।

জেলার এসপি ইন্দ্রজিৎ মাহতো জানান, অভিযুক্ত দুই ভাই ছাড়া আর কেউ ঘটনাস্থলে ছিল কি না, তা জানার চেষ্টা চলছে। ঝাড়খণ্ড মহিলা কমিশনের চেয়ারপার্সন মহুয়া মাজি বলেন, ‘‘সচেতনতা বাড়ানোর আপ্রাণ চেষ্টা আমরা করছি। তবু বারবার এ রকম ঘটছে। সঠিক মানসিক শিক্ষা ছাড়া এই কুসংস্কার দূর করা কঠিন। সমাজকল্যাণ দফতরকেও আরও তৎপর হতে হবে।’’ সমাজকল্যাণ দফতরের এক আধিকারিকের দাবি— নিয়মিত তাঁরা প্রচার চালাচ্ছেন। তার পরও এমন কাণ্ড ঘটছে।

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy