বিজেপির প্রাক্তন বিধায়ককে সাংগঠনিক বৈঠকে আমন্ত্রণ জানিয়ে বিতর্ক ছড়াল প্রদেশ কংগ্রেস। সেই সঙ্গে দলের দুই প্রাক্তন বিধায়ককে হাইলাকান্দি জেলার প্রাক্তন বিধায়ক হিসেবে আমন্ত্রণ জানিয়ে বিপাকে পড়লেন প্রদেশ কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক দিগন্ত চৌধুরী। শুক্রবার আনুষ্ঠানিক ভাবে বিজেপিতে যোগ দেবেন অসমের প্রাক্তন শিক্ষা ও স্বাস্থ্য বিভাগের মন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগেই তিনি দল ছাড়ছেন। এতে অস্বস্তিতে পড়েছে প্রদেশ কংগ্রেস। দলত্যাগী নেতার জায়গা কী ভাবে পূরণ করা হবে, তা নিয়ে সাংগঠনিক বৈঠকের আয়োজন করেছে অসম প্রদেশ কংগ্রেস। প্রবীণ কংগ্রেস নেতারাই সেই বৈঠকে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছেন। আমন্ত্রণ-পত্রে উত্তর করিমগঞ্জের কংগ্রেসের প্রাক্তন বিধায়ক কেতকীপ্রসাদ দত্ত ও বিজেপির প্রাক্তন বিধায়ক তথা বর্তমানে এআইইউডিএফ সদস্য কার্তিকসেনা সিনহাকে হাইলাকান্দি জেলার নেতা হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে। যিনি কংগ্রেসের সঙ্গে যুক্ত নন, তাঁকে দলের সাংগঠনিক বৈঠকে উপস্থিত থাকার আমন্ত্রণপত্র পাঠানোর নির্দেশ ঘিরে দলের অন্দরমহলে চর্চা শুরু হয়েছে। প্রদেশ কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক দিগন্ত চৌধুরী ৭৮ জনের নামের একটি তালিকা পাঠিয়ে সংশ্লিষ্ট জেলা কংগ্রেস সভাপতিদের ব্যক্তিগত ভাবে সকলকে নিমন্ত্রণ করতে নির্দেশ দিয়েছেন। এ রকম তালিকা করিমগঞ্জ এবং হাইলাকান্দি জেলা কংগ্রেস কমিটির কাছে পৌঁছনোর পর বিতর্ক ছড়িয়েছে। কারণ, কেতকীপ্রসাদ ও কার্তিকসেনা কোনও দিনই হাইলাকান্দির বিধায়ক ছিলেন না। নিমন্ত্রণের তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন দু’বারের প্রাক্তন সাংসদ ললিতমোহন শুক্লবৈদ্য, কাটলিছড়ার প্রাক্তন বিধায়ক রাহুল রায়। রাহুলবাবুর বিজেপিতে যোগদান নিয়ে বরাক উপত্যকায় জল্পনা চলছে। তার জেরেই তাঁকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি বলে অনেকে মনে করছেন। ললিতমোহন শুক্লবৈদ্যকে কেন নিমন্ত্রণ করা হল না, তা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে কংগ্রেসের একটি মহল। এ বিষয়ে প্রদেশ কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক দিগন্ত চৌধুরীকে ফোন করা হলেও তিনি তা ধরেননি।