Advertisement
E-Paper

শিঙাড়া, কচুরিতে ভ্যাট নীতীশের

শিঙাড়া, খাস্তা কচুরিতে কর বসালো নীতীশ সরকার। গত রাতে রাজ্য মন্ত্রিসভার বৈঠকে ‘সমোসা’, ‘কচৌরি’-কে আচমকাই ‘ভিআইপি’ খাদ্য তালিকাভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ১৩.৫ শতাংশ হারে এই মূল্যযুক্তি কর (ভ্যাট) বসছে ব্র্যান্ডেড নোনতা খাবারের উপরেও। যে মিষ্টির দাম প্রতি কিলোয় ৫০০ টাকা বা তার বেশি, সে ক্ষেত্রেও বসানো হয়েছে কর।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৪ জানুয়ারি ২০১৬ ০৩:৪৫

শিঙাড়া, খাস্তা কচুরিতে কর বসালো নীতীশ সরকার।

গত রাতে রাজ্য মন্ত্রিসভার বৈঠকে ‘সমোসা’, ‘কচৌরি’-কে আচমকাই ‘ভিআইপি’ খাদ্য তালিকাভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ১৩.৫ শতাংশ হারে এই মূল্যযুক্তি কর (ভ্যাট) বসছে ব্র্যান্ডেড নোনতা খাবারের উপরেও। যে মিষ্টির দাম প্রতি কিলোয় ৫০০ টাকা বা তার বেশি, সে ক্ষেত্রেও বসানো হয়েছে কর। কর বসেছে জামা-কাপড় ও ইলেকট্রনিক্স দ্রব্যাদির উপরেও। রাজ্যের ক্যাবিনেট সচিব ব্রজেশ মেহেরোত্রা বলেন, ‘‘মূলত লাক্সারি সামগ্রী, সাধারণত ভিআইপিরা ব্যবহার করেন, এমন সামগ্রীর উপরেই কর বসানো বা বাড়ানো হয়েছে।’’

সরকারের এই সিদ্ধান্তে বিস্মিত সব মহল। প্রশ্ন উঠেছে সমোসা বা কচৌরির কর আদায় বা তার হিসেব নিকেশ হবে কী করে? পাশাপাশি, বাজেট বহির্ভূত এই কর বসানোয় সরকারের সমালোচনায় সরব বিরোধীরা। রাজ্যের প্রাক্তন উপ-মুখ্যমন্ত্রী তথা অর্থমন্ত্রী সুশীল মোদী বলেন, ‘‘সারা দেশে কাপড় করমুক্ত হয়ে গিয়েছে। যে সমস্ত রাজ্য কাপড়ের ওপরে কর লাগিয়েছে তারা সফল হয়নি। কর বাড়িয়ে সরকারের খুব একটা লাভ হবে না। উল্টে ইন্সপেক্টর রাজ এবং ভয়ের পরিবেশ তৈরি হবে। কাপড়, মিষ্টি ও নির্মাণ শিল্প শেষ হয়ে যাবে। দেশজুড়ে চলা ডিজিটাল ইন্ডিয়া ও মেক ইন ইন্ডিয়া বিহারে ধাক্কা খাবে। সরকারের অবিলম্বে কর তুলে নেওয়া উচিত।’’ সুশীল মোদীর এ কথা মানতে রাজি নন অর্থমন্ত্রী আব্দুল বারি সিদ্দিকি। তিনি বলেন, ‘‘সব দিক ভেবেই কর বাড়ানো হয়েছে। কোথাও কোনও সমস্যা হবে না।’’

Advertisement

প্রথম দফার মদ নিষেধের ফলে রাজ্য সরকারের রাজস্ব খাতে প্রায় হাজার কোটি টাকার ঘাটতি হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে। আগামী ১ এপ্রিল থেকে রাজ্যে দেশি মদ বন্ধ করা হবে। বিদেশি মদের উপরে কর বাড়ানো হবে। এই পরিস্থিতিতে বেশ কিছু পণ্যকে ভ্যাটের আওতায় এনে রাজস্ব ঘাটতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছেন নীতীশ কুমার। আর সেই তালিকায় স্থান পেয়েছে সিঙারা-খাস্তা কচুরি।

গত রাতে রাজ্য মন্ত্রিসভার বৈঠকে মোট ১২টি সামগ্রীর উপরে ১৩.৫ শতাংশ ভ্যাট বাড়ানো হবে বলে আপাতত ঠিক করা হয়েছে। পরে আরও বেশ কয়েকটি সামগ্রী এই তালিকায় অন্তর্ভূক্ত করা হবে। রাজ্য বাজেটের আগে সরকারের এই প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ বিরোধীরা। অনেকেই মনে করছেন, এর ফলে রাজ্যে ফের ‘ইন্সপেক্টর রাজ’ কায়েম হবে। কাপডের দোকান থেকে মিষ্টির দোকানের মালিক, সকলকেই বাণিজ্য কর দফতরে চক্কর কাটতে হবে। বালির দাম বাড়ানোর জেরে পরিকাঠামো এবং নির্মাণ শিল্পে প্রভাব পডবে।

সরকারি তরফে সাফাই দেওয়া হয়েছে, দু’হাজার টাকার বেশি দামের শাড়ি, পাঁচশো টাকা মিটারের বেশি দামের কাপড় এবং পাঁচশো টাকা কেজি দরের মিষ্টির উপরেই এই কর লাগু হবে। প্রতি তিন মাস অন্তর রিটার্ন জমা দিয়ে কর দিতে হবে। রাজ্য সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, এর ফলে শাড়ি, কসমেটিকস্, ফেব্রিক, অটোপার্টস, ড্রাইফ্রুট, ইলেকট্রিক্যাল সামগ্রী, মাংস, নির্মাণ কাজে ব্যবহৃত বালি, প্যাকেজড আটা, ময়দা, সুজি, বেসন, নোনতা খাবার, সিঙ্গারা, চানাচুর, ডালমুঠ, আলু চিপস, বাদামের দাম বেড়ে যাবে।

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy