বাজারে দাম প্রায় ১২ হাজার টাকা। কিন্তু অসমের স্কুলগুলির জন্য সেই উইনডোজ-১০ (প্রো-ভ্যালু প্লাস) মাত্র ১ ডলারের বিনিময়ে দিতে চলেছে মাইক্রোসফ্ট। ‘শেপ দ্য ফিউচার ইনিসিয়েটিভ’-এর অধীনে আপাতত রাজ্যের ৫০০টি স্কুলকে ওই সুবিধা দিতে চলেছে মাইক্রোসফ্ট।
স্কুলের ছাত্র ও শিক্ষকদের হাতে কম্পিউটার ভিত্তিক প্রযুক্তি তুলে দিয়ে ডিজিটাল মাধ্যমে শিক্ষার বিস্তার ঘটনাোর জন্যই ‘শেপ দ্য ফিউচার ইনিসিয়েটিভ’ শুরু করেছে মাইক্রোসফ্ট। প্রথাগত শিক্ষার পাশাপাশি জ্ঞান ও দক্ষতার পরিবেশ প্রসারিত করার কাজ চলবে এই প্রকল্পে। এই প্রথম অসমের ছাত্রদের এই প্রকল্পের আওতায় আনা হবে।
রাজ্যের তরফে রাষ্ট্রীয় মাধ্যমিক শিক্ষা অভিযানের প্রকল্প অধিকর্তা রমেশচন্দ্র জৈন এ নিয়ে মাইক্রোসফ্টের কাছে প্রস্তাব পাঠিয়েছিলেন। সম্প্রতি এ ব্যাপারে মাইক্রোসফ্টের সম্মতি মিলেছে। মাধ্যমিক স্তরে ১৪ থেকে ১৬ বছরের ছাত্রছাত্রী এবং উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের ছাত্রছাত্রীদের এই সুবিধা দেওয়া হবে। আপাতত রাজ্যের ৫০০ স্কুলে তৈরি হবে কম্পিউটার ল্যাবরেটারি। আরএমএসএর রাজ্য প্রকল্প আধিকারিক জিতেন্দ্র কাকতি জানান, স্কুলগুলি চিহ্নিত করে সেখানে প্রশিক্ষক ও পরিকাঠামো পাঠানো হবে। ইতিমধ্যেই রাজ্যের ২ হাজার ১০০ ছাত্রছাত্রী কম্পিউটার শিক্ষা পাচ্ছে। মাইক্রোসফটের এই প্রকল্পের ফলে তারা আরও উন্নত সুযোগ-সুবিধা পেতে চলেছে। রাজ্যে সরকার স্বীকৃত মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক স্কুলের সংখ্যা প্রায় ২ হাজার ৬০০টি। তার মধ্যে চলবে বাছাই পর্ব। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই কম্পিউটারে পাইরেটেড বা কপি করা উইনডোজ ব্যবহার করা হয়। তা আপডেট করা যায় না। ব্যবহার করায় সমস্যাও বেশি। আগেকার উইনডোজ ৮.১-এর থেকে উইনডোজ ১০ (প্রো) ভার্সান অনেক উন্নত ও ব্যবহার-বান্ধব। ১২ হাজার টাকা মূল্যের সেই আসল উইনডোজ ৭০ টাকারও কম দামে মেলায় তথ্য-প্রযুক্তি ক্ষেত্রে বিস্তর সুবিধে হবে বলেই শিক্ষকদের মত। বিশেষ করে অসমের গ্রামগুলিতে বাড়িতে কম্পিউটারের সংখ্যা হাতেগোণা। সাইবার ক্যাফের সংখ্যাও খুবই কম। সে ক্ষেত্রে মাইক্রোসফটের এই প্রকল্পে ছাত্রছাত্রীদের বর্তমান যুগের কর্ম পরিবেশের সঙ্গে তাল মেলাতে কম্পিউটারের আধুনিক প্ল্যাটফর্মে শিক্ষার সুযোগ মিলবে।