নিউ ইয়র্কের জনপ্রিয় পর্যটনস্থল ‘টাইম্‌স স্কোয়ারে’ হামলার ছক কষার অভিযোগ আনা হল আমেরিকার কুইন্স এলাকার বাসিন্দা বছর বাইশের এক বাংলাদেশি যুবকের বিরুদ্ধে। অনেক দিন ধরেই আশিকুল আলম নামে ওই যুবকের উপরে নজর রাখছিল মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই। বৃহস্পতিবার তাঁদের ফাঁদে পা দিয়ে সংস্থার গুপ্তচরদের কাছ থেকে দু’টো আগ্নেয়াস্ত্রর ‘ডেলিভারি’ নিতে আসাই কাল হল। ব্রুকলিন থেকে গ্রেফতার করা হয় আশিকুলকে।  

তদন্তকারীরা জানান, ২০১৮ সালের অগস্টে আশিকুলের সঙ্গে আলাপ হয় এফবিআই-এর এক গুপ্তচরের। টাইম্স স্কোয়ারে হামলার পরিকল্পনা চালানোর সময়ে জানুয়ারিতে দু’বার ওই গোয়েন্দাকে সঙ্গে নিয়েই রেকি করতে গিয়েছিল সে। সে সময়ে ম্যানহাটনের বিভিন্ন জায়গার ছবি তোলে আশিকুল। 

‘আমি যুদ্ধ করতে করতে মরতে চাই’— জানুয়ারিতে পেনসিলভেনিয়ার শুটিং রেঞ্জে যাওয়ার সময়ে ‘সঙ্গী’ গুপ্তচর গোয়েন্দার সামনে এই ইচ্ছে প্রকাশ করেছিল আশিকুল।  বিভিন্ন সময়ে ইসলামিক স্টেট (আইএস) এবং  ওসামা বিন লাদেনের প্রশংসা করতেও শোনা গিয়েছে তাকে। এক মার্কিন সংবাদ সংস্থার রিপোর্ট অনুযায়ী, আশিকুল ওই গোয়েন্দাকে বলেছিল, ওসামা বিন লাদেনের লক্ষ্য সফল হয়েছে। যুদ্ধে হাজার হাজার মার্কিন সেনার মৃত্যু হয়েছে। ক্ষতি হয়েছে লক্ষ লক্ষ ডলারের। বিরাট রকেট লঞ্চার দিয়ে নতুন ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার ধ্বংস করে দেওয়ার ‘স্বপ্নের’ কথাও ওই গোয়েন্দাকে জানিয়েছিল সে। 

 ‘সুইসাইড ভেস্ট’ পরে কিংবা এআর-১৫ রাইফেলের সাহায্যে হামলার পরিকল্পনা ছিল তার বলে গোয়েন্দারা জানান। আশিকুল একাই এই হামলার ছক কষেছিল। তার কোনও সহযোগী ছিল না বলে জানিয়েছে পুলিশ। তাঁকে ‘হামলার সঙ্গী’ ভেবে ওই গোয়েন্দাকে আশিকুল বলেছিল, সফল ভাবে এই হামলা চালাতে পারলে তাঁদের দু’জনকে ‘কিংবদন্তি’ হিসেবে দেখা হবে!   

আশিকুলের চশমা রয়েছে। তবে হামলার সময়ে চশমার জন্য যাতে কোনও বিভ্রাটে পড়তে না হয় তার জন্য চোখে লেজ়ার সার্জারি করার পরিকল্পনাও ছিল তার। ওই গোয়েন্দাকে সে বলে, ‘‘হামলার সময়ে যদি চশমা খুলে পড়ে যায়! ভুল করে যদি তোমার দিকেই গুলি চালিয়ে দিই? তা হলে তো খবরের চ্যানেলগুলো ‘লুনি টুন্‌স জঙ্গি’ বা ‘অন্ধ জঙ্গি’ বলে আমায় নিয়ে মশকরা করবে!’’