ফের পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের বিরুদ্ধে কূটনৈতিক প্রথা না মানার অভিযোগ উঠল। এ বারে সাংহাই কোঅপারেশন অর্গানাইজেশনের সম্মেলনে কূটনৈতিক প্রথা ভাঙার অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে।

সাংহাই কোঅপারেশন অর্গানাইজেশন বা ‘এসসিও’ গোষ্ঠীর রাষ্ট্রগুলির শীর্ষ সম্মেলন শুরু হয়েছে আজ, বৃহস্পতিবার থেকে। কিরঘিজস্তানের রাজধানী বিশকেকে এ দিন সম্মেলনের উদ্বোধন ছিল। উদ্বোধনের সময় শেয়ার হওয়া একটি ভিডিয়োয় দেখা গিয়েছে, সমস্ত দেশের প্রতিনিধিরা যখন কূটনৈতিক প্রথা মেনে দাঁড়িয়ে রয়েছেন, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান নিশ্চিন্তে নিজের আসনে বসে রয়েছেন।

আরও পরিষ্কার করে বললে, সাংহাই কোঅপারেশন অর্গানাইজেশনের গোষ্ঠীর রাষ্ট্রপ্রধানরা সম্মেলনে একের পর এক সভাকক্ষে ঢুকছিলেন এ দিন। যখন তাঁরা সম্মেলন হলের ভিতরে প্রবেশ করছিলেন, তাঁদের দাঁড়িয়ে স্বাগত জানাচ্ছিলেন আগে থেকে ভিতরে উপস্থিত অন্যান্য দেশের রাষ্ট্রপ্রধানরা। কিন্তু ব্যতিক্রম ইমরান খান।

আরও পড়ুন: ‘প্রেস্টিজ ইস্যু’ করবেন না, অচলাবস্থার জন্য মুখ্যমন্ত্রীকেই দায়ী করল কেন্দ্র

ইমরান খান প্রবেশের পর সোজা গিয়ে নিজের আসনে বসে পড়েন। ইমরান খানের ঠিক পরেই প্রবেশ করেন নরেন্দ্র মোদী। তিনি কিন্তু না বসে পরবর্তী রাষ্ট্রপ্রধানদের স্বাগত জানান। মোদীর মতো অন্যান্য দেশের প্রতিনিধিরাও দাঁড়িয়ে স্বাগত জানাচ্ছিলেন। ইমরান খান খুব অল্প সময়ের জন্য শুধু একবার দাঁড়ান, যখন তাঁর নাম সম্বোধন করা হয়।

 

এই ঘটনায় ফের সমালোচনা শুরু হয়েছে। সামনে উঠে আসছে মুসলিম সংগঠন ওআইসি-র সম্মেলন চলাকালীন ইমরান খানের সঙ্গে সৌদি আরবের রাজা সলমন বিনের সৌজন্য সাক্ষাতের সেই ভিডিয়োর প্রসঙ্গ। সৌদি আরবের মক্কায় সম্প্রতি ৫৭টি মুসলিম দেশের সংগঠন ওআইসি-র সম্মেলন ছিল। সেখানে সৌজন্যমূলক সাক্ষাৎ হয় সৌদি আরবের রাজা সলমন বিন আবদুলআজিজ ও পাকিস্তান প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের। সেখানেও সৌদি রাজাকে ইমরান খান অপমান করেছেন বলে অভিযোগ। সেই সৌজন্য সাক্ষাতের একটি ৩০ সেকেন্ডের ভিডিয়ো সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে।

 

তাতে দেখা যায়, সৌদি রাজার দিকে হেঁটে আসছেন ইমরান খান। ইমরান কাছে আসতেই তাঁকে কিছু বলেন সৌদি রাজা। সেই বক্তব্য দোভাষী, ইমরান খানকে অনুবাদ করে দেন। উত্তরে ইমরান খানও কিছু বলেন। সেটিও সৌদি রাজার জন্য অনুবাদ করতে থাকেন দোভাষী ওই আধিকারিক। কিন্তু সেই অনুবাদ শেষ হওয়ার আগেই হাঁটা দেন ইমরান খান। ইমরান কূটনৈতিক প্রথা মেনে ব্যবহার করেননি বলে অভিযোগ উঠেছিল তখনও।