নোবেল শান্তি পুরস্কার পেতে চেয়েছিলেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর সে আশা পূরণ হয়নি। তবে যে ভেনেজ়ুয়েলায় আমেরিকার সেনা হানা দিয়ে সে দেশের প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে বন্দি করে তাঁকে ক্ষমতাচ্যুত করেছেন তাঁর বিরোধী দলনেত্রী মারিয়া কোরিনা মাচাদো শান্তি পুরস্কার পেয়েছিলেন। সেই পুরস্কার তিনি আগেই উৎসর্গ করেছিলেন ট্রাম্পকে। এ বার সরাসরি তা তুলে দিতে চান মার্কিন প্রেসিডেন্টের হাতে। যা শুনে প্রতিক্রিয়া জানাল নোবেল কমিটি।
ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, আগামী সপ্তাহে মাচাদো আমেরিকা সফরে আসবেন। তখনই পুরস্কার নিয়ে আলোচনা করা যাবে। তিনি জানান, আমেরিকা সফরের সময়ে ওয়াশিংটনেও আসবেন মাচাদো। আমেরিকা ও ট্রাম্পের প্রতি ধন্যবাদ জানাতেই এই সফর বলেও দাবি করেন মার্কিন প্রাসিডেন্ট।
প্রসঙ্গত, আট মাসে আট বার যুদ্ধ থামিয়েছেন বলে একাধিকবার দাবি করেছিলেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট। তাঁর দাবি ছিল, প্রতিটি যুদ্ধ থামানোর জন্য তাঁর একটি করে নোবেল পুরস্কার পাওয়া উচিত ছিল। আরও দাবি, এই সব বড় যুদ্ধ আদৌ যে কেউ থামাতে পারেন তা কেউ ভাবতেই পারেনি। বারাক ওবামা মসনদে বসার কয়েক দিনের মধ্যেই তাঁর নোবেল পুরস্কার পাওয়া নিয়ে কটাক্ষ করে ট্রাম্প বলেছিলেন, ‘‘কিছুই করেননি।’’ নোবেল শান্তি পুরস্কার না পাওয়া নিয়ে সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেছেন ‘আমাকে পুরস্কার না দেওয়া বোকামি।’’
আরও পড়ুন:
মাদুরো বন্দি হওয়ার পরে মাচাদো সেই পদ গ্রহণ করেননি। ভেনেজ়ুয়েলার ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি রড্রিগেস ভেনেজ়ুয়েলার প্রেসিডেন্ট পদে শপথ নিয়েছেন। ওই দেশের সঙ্গে আমেরিকার উত্তেজনা ও ভেনেজ়ুয়েলার তেল সম্পদ নিয়ে উত্তেজনা ‘সর্বোচ্চ’ পর্যায়ে পৌঁছেছে। এই পরিস্থিতিতেই মাচাদো যাচ্ছেন মার্কিন মুলুকে।
তবে মাচাদো বা ট্রাম্প চাইলেই যে পুরস্কার হস্তান্তর সম্ভব নয়, তা স্পষ্ট করেছে নোবেল কমিটি। জানানো হয়েছে, শান্তি পুরস্কার কারও সঙ্গে ভাগ করা, প্রত্যাহার করা বা স্থানান্তরিত করা যায় না। বিবৃতি অনুযায়ী, পুরস্কার প্রাপকের নাম একবার ঘোষণা হয়ে গেলে ওই সিদ্ধান্ত সব সময়ের জন্য বহাল থাকবে।