একের পর এক নিখুঁত সন্ত্রাসের পরিকল্পনা এবং তা কার্যকর করতে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন হয় অর্থের। এই অর্থ আসে কোথা থেকে? এই প্রশন তুলেই ফের সন্ত্রাস দমন নিয়ে ভারতের পাশে থেকে পাকিস্তানের উপরেই চাপ বাড়াল ফ্রান্স।

সন্ত্রাসে ইন্ধন জোগাতে অর্থের জোগান দেওয়া বন্ধ করুক পাকিস্তান, প্যারিসের ফিনান্সিয়াল অ্যাকশন টাস্ক ফোর্সের (এফএটিএফ) তরফে এমনটাই সতর্কবার্তা দেওয়া হল। পুলওয়ামায় জইশ ই মহম্মদ জঙ্গিগোষ্ঠী পরিকল্পিত হামলার তীব্র নিন্দা করে প্যারিসের এই সংস্থা জানিয়েছে, বিশ্ব জুড়ে যে সন্ত্রাসের রমরমা, তার অন্যতম মূল কারণ ঘুরপথে অর্থের জোগান।

এই সংস্থা যে যে বিষয়গুলি তুলে ধরেছে তাঁদের সাম্প্রতিক রিপোর্টে, তা নিয়ে পাকিস্তানেও অভ্যন্তরীণ বৈঠক হয়েছে। সংস্থার ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন রিভিউ(আইসিআরজি)গ্রুপের তরফে বলা হয়েছে, এই বৈঠকের কথা।

আরও পড়ুন: ইঞ্জিনিয়ার, ব্যবসায়ী, বিজেপি নেত্রী...ইনি রবীন্দ্র জাডেজার স্ত্রী

এই ফিনান্সিয়াল মনিটরিং ইউনিট ২০১৮ সালে পাকিস্তান জুড়ে ৮৭০৭টি রহস্যজনক লেনদেনের কথা জানিয়েছে। যেখানে ২০১৭ সালে এই সংখ্যাটা ছিল ৫,৫৪৮, জানিয়েছে পাকিস্তানের দৈনিক ডন।

আরও পড়ুন: পুলওয়ামায় ফের সেনা-জঙ্গি সংঘর্ষ, চলছে গুলির লড়াই

ছ’টি ব্যাঙ্ককে বিপুল জরিমানা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ১০৯ জন ব্যাঙ্ক আধিকারিককে ভুয়ো ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট সংক্রান্ত কারণে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এ ছাড়াও চোরাপথে যাওয়া অর্থ ও গয়না মিলে প্রায় ২০০০ কোটি টাকা লেনদেন হয়েছে ২০১৮ সালের জুলাই থেকে ২০১৯ সালের জানুয়ারি সালের মধ্যে। আইসিআরজি সম্প্রতি পাকিস্তানের সঙ্গে বৈঠকের পর একেবারে সন্তোষ প্রকাশ করেনি, বরং ২০১৯ সালের মে মাসের মধ্যে এ বিষয়ে কঠোর ব্যবস্থা নিতেই বলেছে।

সন্ত্রাসে অর্থের জোগান সংক্রান্ত বিষয়ের ঝুঁকি নিয়ে পাকিস্তান যুক্তি দিয়ে তাদের কিছু বুঝিয়ে উঠতে পারেনি, এমনটাই জানিয়েছে প্যারিসের ওই সংস্থা। সন্ত্রাস দমন নিয়ে ভারতের পাশে থেকে ফের পাকিস্তানের উপরেই চাপ বাড়াল ফ্রান্স। আমেরিকাও পাকিস্তানকে বার বার বলেছে, সন্ত্রাসে অর্থের জোগান যাতে বন্ধ করা হয়, সে বিষয়ে কড়া সিদ্ধান্ত নিতে।

ইসলামাবাদ জানিয়েছে, প্যারিসের ওই সংস্থার পরিকল্পনামতোই সন্ত্রাস রুখতে সহায়তা করবে তারা। এর পরেও সন্ত্রাস বন্ধ না হলে ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যেই এফএটিএফের কালো তালিকার অন্তর্ভুক্ত হতে চলেছে পাকিস্তান।

বালাকোট অভিযান প্রসঙ্গে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাকরঁ-র বিদেশ মন্ত্রক বলেছিল, ‘‘সন্ত্রাসের মুখে নিজেদের নিরাপত্তা জোরদার করার অধিকার ভারতের রয়েছে।’’ চিন সমস্যা তৈরির চেষ্টা করে গেলেও জইশ-প্রধান মাসুদকে নিষিদ্ধ করতে ফের রাষ্ট্রপুঞ্জে যাওয়ার কথাও জানিয়েছে ফ্রান্স।