‘ভাই’ আসায় খুশি সংযুক্ত আরব আমিরশাহির যুবরাজ। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে নিজের দেশে স্বাগত জানাতে গিয়ে তিনি, শেখ মহম্মদ বিন জ়ায়েদ আল নাহয়ান আজ বলেন, ‘‘আমার ভাই তাঁর দ্বিতীয় বাড়িতে এসেছেন। আমি কৃতজ্ঞ।’’ দ্বিপাক্ষিক কৌশলগত সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা গ্রহণের স্বীকৃতি হিসেবে মোদীকে আমিরশাহির সর্বোচ্চ অসামরিক সম্মান ‘অর্ডার অব জ়ায়েদ’-এ ভূষিত করেন যুবরাজ। ১৩০ কোটি ভারতীয়কে সেই সম্মান উৎসর্গ করেন মোদী। এর আগে এই সম্মান পেয়েছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, ব্রিটেনের রানি
দ্বিতীয় এলিজাবেথ, চিনের প্রেসিডেন্ট শি চিনফিং।

মোহনদাস কর্মচন্দ গাঁধীর সার্ধশতবর্ষ উপলক্ষে আবু ধাবির রাজপ্রাসাদের অনুষ্ঠানে আজ একটি স্মারক ডাকটিকিট প্রকাশ করা হয়। দু’দেশের বাণিজ্যিক ও সাংস্কৃতিক আদানপ্রদান কী ভাবে আরও দৃঢ় করা যায়, যুবরাজের সঙ্গে বৈঠকে তা নিয়ে কথা হয় মোদীর। টুইটারে প্রধানমন্ত্রী লেখেন, ‘বাণিজ্য থেকে শুরু করে মানুষে-মানুষে যোগাযোগ— নানা বিষয়ে খুব ভাল আলোচনা হল।’ ভারতের তৃতীয় বৃহত্তম বাণিজ্য সহযোগী সংযুক্ত আরব আমিরশাহি। ভারতের চতুর্থ বৃহত্তম তেল রফতানিকারী দেশও তারা। দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য প্রায় ৬০০০ কোটি ডলারের। এই দেশের সরকারি সংবাদমাধ্যমকে মোদী বলেন, ভারতের ৫ লক্ষ কোটি ডলারের অর্থনীতি হয়ে ওঠার স্বপ্নের গুরুত্বপূর্ণ শরিক আমিরশাহি। প্রধানমন্ত্রীর কথায়, ‘‘পুনর্ব্যবহারযোগ্য শক্তি, খাদ্য, বন্দর, বিমানবন্দর, প্রতিরক্ষা শিল্প ও অন্যান্য ক্ষেত্রে ভারতে লগ্নিতে উৎসাহ বাড়ছে। আবাসন ক্ষেত্রে সংযুক্ত আরব আমিরশাহির লগ্নি বাড়ানো হচ্ছে।’’

আবু ধাবি থেকে মোদী পৌঁছন বাহরাইনের রাজধানী মানামায়। এই প্রথম কোনও ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী এলেন এই দেশে। রাজা হামাদ বিন ইসা আল খলিফার সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক ও আঞ্চলিক বিষয় নিয়ে বৈঠকের পাশাপাশি মানামায় ২০০ বছরের প্রাচীন শ্রীনাথজি (শ্রীকৃষ্ণ) মন্দিরের পুনর্নির্মাণ প্রকল্পেরও সূচনা করবেন মোদী। বিশেষজ্ঞদের মতে, মুসলিম দেশগুলির সংগঠন ‘ওআইসি’-র সদস্য আমিরশাহি ও বাহরাইনে মোদীর সফরের নেপথ্যে কাশ্মীর প্রশ্নে সমর্থন আদায়ের বিষয়টিও রয়েছে। ৩৭০ অনুচ্ছেদ রদের পরে ‘পাক-ঘনিষ্ঠ’ আবু ধাবি বলেছিল, সমস্যাটি দ্বিপাক্ষিক। ইসলামি কট্টরপন্থা অনেকটাই কমেছে এই দেশে।
আমিরশাহিতে প্রবাসী ও অনাবাসী ভারতীয়ের সংখ্যা বহু। তা ছাড়া, আগামী মার্চে ওআইসি-র সম্মেলনে আমন্ত্রণ পেয়েছে ভারত। এ সবই বড় ভরসা দিল্লির।