পঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্ক (পিএনবি) কেলেঙ্কারির প্রধান অভিযুক্ত নীরব মোদীর জামিনের আর্জির শুনানি শুরুর দিন, শুক্রবার সরিয়ে দেওয়া হল এনফোর্সমেন্ট ডাইরেক্টরেট (ইডি)-এর যুগ্ম অধিকর্তা সত্যব্রত কুমারকে। নীরবের জামিনের বিরোধিতা করতে ইডি-র যে প্রতিনিধিদলটি লন্ডনে রয়েছে, সত্যব্রত তার অন্যতম সদস্য। সরকারি ভাবে জানানো হয়েছে, এ দিনই পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ হয় সত্যব্রতের পদের। সেই মেয়াদ আর বাড়ানো হল না। তাঁর জায়গায় এলেন ইডি-র মুম্বই শাখার অতিরিক্ত অধিকর্তাকে। 

এ দিন লন্ডনের ওয়েস্টমিনিস্টার ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে শুরু হয় নীরবের জামিনের আর্জির শুনানি। শুক্রবারই সেই জামিনের বিরোধিতা করতে পঞ্জাব পিএনবি কাণ্ডের প্রধান অভিযুক্ত হিরে ব্যবসায়ী নীরব মোদীর বিরুদ্ধে আরও কয়েকটি তথ্যপ্রমাণ জমা দেয় সিবিআই এবং এনফোর্সমেন্ট ডাইরেক্টরেট (ইডি)। দুই তদন্তকারী সংস্থার পদস্থ কর্তারা এ দিন ওই সব নথিপত্র তুলে দেন লন্ডনের ক্রাউন প্রসিকিউশন সার্ভিসের হাতে। 

সিবিআই এবং ইডি-র কর্তাদের দেওয়া জমা দেওয়া নথিপত্র এ দিন আদালতে পেশ করবে লন্ডনের ক্রাউন প্রসিকিউশন সার্ভিস। ভারতের দুই তদন্তকারী সংস্থা মনে করছে, এ দিন লন্ডনের ক্রাউন প্রসিকিউশন সার্ভিসের হাতে নতুন যে সব নথিপত্র তুলে দেওয়া হয়েছে, তা নীরব মোদীর জামিনের আর্জির বিরোধিতায় আরও বেশি কার্যকর হবে। দু’টি তদন্তকারী সংস্থাই চাইছে, যত দিন নীরব মোদীকে ভারতের হাতে তুলে না দেওয়া হচ্ছে, তত দিন হিরে ব্যবসায়ী যেন ব্রিটেনের জেলেই থাকেন। কারণ, জামিন পেলেই ফের গা ঢাকা দিতে পারেন নীরব মোদী।

ইডি সূত্রের খবর, ভারত সরকার নীরবের পাসপোর্ট বাতিল করে দেওয়ার পরেও যে ১৩ হাজার কোটি টাকার পিএনবি কেলেঙ্কারির মূল অভিযুক্ত তিন বার ব্রিটেনের বাইরে গিয়েছিলেন, লন্ডনের ক্রাউন প্রসিকিউশন সার্ভিসের তরফে এ দিন তা নথিপত্র দিয়ে জানানো হবে আদালতে। ইডি কর্তাদের ধারণা, এতে জামিনের আর্জির বিরোধিতা করা যাবে আরও জোরালো ভাবে।

আরও পড়ুন- নীরব কাণ্ড: লন্ডন গেল ইডি-সিবিআইয়ের দল​

আরও পড়ুন- পাকিস্তান এখনও লাশ গুনছে, বিরোধীরা প্রমাণ চাইছেন, মোদীর নিশানায় বিরোধীরা

আগেও এক বার লন্ডনের ওয়েস্টমিনিস্টার ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে জামিনের আর্জি জানিয়েছিলেন নীরব মোদী। কিন্তু সে বার আদালতে তাঁর সেই আর্জি খারিজ হয়ে যায়। আর্জি খারিজ করার সময় তখন আদালত যুক্তি দেখিয়েছিল, জামিন পেলে ব্রিটেন থেকে অন্য কোনও দেশে চলে যেতে পারেন পিএনবি কেলেঙ্কারির প্রধান অভিযুক্ত।