সাফল্যকে ছুঁতে চাইছেন অথচ তা হাতের কাছে এসেও ধরা দিচ্ছে না। অল্পের জন্য ফসকে যাচ্ছে সুযোগ। অনেকে এর জন্য ভাগ্যকে দায়ী করবেন। কিন্তু হয়তো সমস্যাটি নিজেরই। হয়তো কাজের জন্য যেটুকু মনোযোগ দেওয়া জরুরি, ততটা দিতে পারছেন না। বা অন্যকোনও সমস্যা হচ্ছে। এই সমস্যা কাটিয়ে উঠতে সাহায্য করবে ‘টু’মিনিটস রুল’।
মনোবিদ এবং বিশেষজ্ঞদের মতে, অনেকেই বড় বড় লক্ষ্য স্থির করে কিন্তু আলস্য বা ভয়ে সেউ লক্ষ্যে পৌঁছনোর পথে চলা শুরুই করতে পারেন না। ২ মিনিটের সহজ একটি কৌশল সেই বাধা কাটিয়ে সাফল্যের পথে এগোতে সাহায্য করবে।
পদ্ধতিটি আসলে কী?
পদ্ধতিটি খুব সাধারণ—যে কোনও কাজ, যা আপনার সাফল্যের জন্য জরুরি, সেটি শুরু করার সময় ভাবুন যে আপনি মাত্র ২ মিনিট সেটি করবেন।
ধরুন ব্যায়াম করতে আলস্য লাগে? তা হলে ভাবুন মাত্র ২ মিনিট যোগব্যায়াম করবেন বা হাঁটবেন।
বই পড়া শুরু করতে পারছেন না? মাত্র এক পৃষ্ঠা বা ২ মিনিট পড়ুন।
অফিসের কোনও কাজ করতে ভয় লাগছে,আত্মবিশ্বাসের অভাবে ভুগছেন? ঠিক করুন শুধু প্রথম ২ মিনিটের জন্য কাজের ড্রাফটটি তৈরি করবেন।
কেন এটি কাজ করে?
১. শুরু করার ভয় কেটে যায়। মস্তিষ্ক অনেক সময় বড় কাজের চাপ নিয়ে থমকে যায়। কাজ করতে চায় না। কিন্তু ২ মিনিট সময়টা মস্তিষ্কের কাছে খুব নগণ্য মনে হয়, তাই সে কাজটি শুরু করতে বাধা দেয় না।
২. অভ্যাস তৈরি হয়। বিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হয় ‘নিউটনের প্রথম গতিসূত্র’। এক বার শুরু করে দিলে, সেই প্রবাহে ভেসে থাকা সহজ হয়ে যায়। প্রায়ই দেখা যায়, ২ মিনিট লক্ষ্য নিয়ে শুরু করলেও টানা ২০ মিনিট কাজটা করে ফেলেছেন। আর তাতে যে অভ্যাস তৈরি হচ্ছে, তাতে ভয় আপনিই কেটে যাচ্ছে।
৩. প্রতি দিন মাত্র ২ মিনিট কাজ করার পরে সেটি যখন অভ্যাসে পরিণত হয়, তখন ওই ধারাবাহিকতা আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দেয়। মনে হয় যে— ‘আমি পারছি, আমি পারি!’
সফল হওয়ার আরও কিছু পরামর্শ:
১. ঘুম থেকে উঠে প্রথম ২ মিনিট ইতিবাচক চিন্তা বা নিজের লক্ষ্য নিয়ে ভাবুন।
২. বড় স্বপ্নকে ছোট ছোট ২ মিনিটের কাজে ভাগ করে নিন।
৩. টানা কাজ না করে কাজের মাঝে ছোট বিরতি দিন, এতে মস্তিষ্কের কার্যকারিতা বাড়ে।