পোলাও-মাংস নয়, সাধারণ ডাল ভাত। দূরপাল্লার ট্রেনে পেট ভরাতে সেটুকু ন্যূনতম প্রয়োজন। কিন্তু ট্রেনের খাবারের দায়িত্বে থাকা আধিকারিকদের দায়িত্বজ্ঞানহীনতার জন্য সেটুকুও সুস্থ ভাবে খেতে পারছেন না রেলযাত্রীরা। বন্দে ভারতের মতো ‘প্রিমিয়াম’ ট্রেনে যাত্রীদের পরিবেশন করা ডাল-ভাতের মধ্যেই মিলল পোকা। কেবল এক জন যাত্রী নয়, ওই দিন ওই ট্রেনের একাধিক যাত্রীর খাবারে ওই ধরনের পোকা পাওয়ার পরে বাকিরা খাওয়াই বন্ধ করে দেন। পরে ওই খাবারের ভেন্ডারের নাম উল্লেখ করে এক যাত্রী এক্স (সাবেক টুইটার)-এ রেলমন্ত্রককে উল্লেখ করে প্রশ্ন তোলেন, ‘‘ট্রেনের খাবার দেওয়ার বরাত কি ঘুষ দিলেই পাওয়া যায়?’’
ঘটনাটি ঘটেছে অহমদাবাদ থেকে মুম্বইগামী বন্দে ভারত এক্সপ্রেসে। ওই ট্রেনের যাত্রী আদিত্য দিদওয়ানিয়া নিজের অ্যাকাউন্টে ঘটনার বিবরণ দিয়েছেন এবং জানিয়েছেন, তাঁর কামরাতেই অন্তত দু’জনের খাবারে এমন পোকামাকড় পাওয়া গিয়েছে বলে তিনি নিশ্চিত ভাবে বলতে পারবেন, সেই সঙ্গে রেলমন্ত্রক, রেল মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব, আইআরসিটিসি এবং ভারতীয় খাদ্য সুরক্ষা দফতরকে ট্যাগ করে আদিত্য লিখেছেন, ‘‘কর্তৃপক্ষকে আমার অনুরোধ, দয়া করে এঁদের গুদামে, রান্নার জায়গায় তল্লাশি চালান। আমি নিশ্চিত, এঁরা কেউ খাবার তৈরি করার সময়ে কেন্দ্রীয় খাদ্য সুরক্ষা দফতরের দেওয়া কোনও নিরাপত্তাবিধি মানেন না। আর যদি ধরা পড়েন, তবে এঁদের প্রত্যেকের লাইসেন্স বাতিল করা উচিত। আশা করি, এঁরা ঘুষের বিনিময়ে ট্রেনের খাবার সরবরাহের বরাত পান না।’’
আদিত্যের দেওয়া ছবিতেই দেখা যাচ্ছে, বন্দে ভারতের ট্রেতে অ্যালুমিনিয়াম ছোট বড় ফয়েলে রাখা ভাত-ডাল-আলু পনিরের তরকারি। ডাল মাখা ভাতের মধ্যেই পড়ে রয়েছে পোকা। ছবিতে ওই খাবারের বরাত পাওয়া সংস্থার সচিত্র পরিচয়পত্রও দেখিয়েছেন বন্দে ভারতের যাত্রী। তাতে দেখা যাচ্ছে, ওই সংস্থার নাম এম/ এস ব্রন্দাবন ফুড প্রডাক্ট। ম্যানেজারের নাম নরেন্দ্র মিশ্র।
এর আগেও বন্দে ভারতে পরিবেশন করা খাবারে পোকামাকড়, নামী সংস্থার প্যাকেজড দইয়ে পোকা পাওয়া গিয়েছে। আদিত্যের ওই পোস্টে আইআরসিটিসির তরফে জানানো হয়েছে, ইতিমধ্যেই ওই লাইসেন্সপ্রাপ্ত সংস্থাকে ১০ লক্ষ টাকার জরিমানা করা হয়েছে। তাদের রান্নাঘর এবং গুদাম সিল করে পোকামাকড় মারার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। যদিও আইআরসিটিসির ওই জবাবে সন্তুষ্ট হননি নেটাগরিকেরা। তাঁরা লিখেছেন, ভারতে এটাই আশা করা যায়। এখানে ঘুষের বিনিময়ে সব কিছু হয়। ঘুষের জন্য যাত্রীদের স্বাস্থ্য নিয়েও গাফিলতি করতে বাধবে না কর্তৃপক্ষের। মানুষের প্রাণ নিয়েও খেলতে পারেন এঁরা।