চুলের যত্নে নারকেল তেল কতটা গুরুত্বপূর্ণ, তা আলাদা করে বলার প্রয়োজন নেই। শুধু চুল নয়, মাথার ত্বকে কোনও রকম সমস্যা রুখতেও সাহায্য করে নারকেল তেল। যাঁদের চুল পাতলা, মাথার ত্বক তৈলাক্ত, তাঁরা খুব ঘন ঘন তেল মাখতে পারেন না। সে ক্ষেত্রেও নারকেল তেল মাখার পরামর্শ দেওয়া হয়। তবে শুধু নারকেল তেল নয়, নরম ও জেল্লাদার চুলের জন্য নারকেলের জলও সমান উপকারী। নারকেল তেল যেখানে চুলে পুষ্টি ও সুরক্ষা দেয়, নারকেল জল সেখানে কাজ করে প্রাকৃতিক কন্ডিশনার হিসেবে।
চুলের গোড়া মজবুত করতে এবং রুক্ষতা দূর করতে এই দুটি উপাদানই সমান উপকারী। তবে কার কোনটি মাখলে উপকার বেশি হবে, তা জেনে রাখা জরুরি।
নারকেল তেল বনাম নারকেল জল
নারকেল তেলে আছে লরিক অ্যাসিড এবং প্রচুর পরিমাণে ফ্যাটি অ্যাসিড যা চুলের গোড়া মজবুত করে। চুল খুব শুষ্ক, ডগা ফেটে যাওয়ার সমস্যা থাকলে বা খুশকির সমস্যা দূর করতে নারকেল তেলের জুড়ি মেলা ভার।
নারকেলের জলে আছে পটাশিয়াম, সোডিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম যা চুলের স্বাস্থ্য ভাল রাখে। চুলের প্রোটিন কেরাটিন তৈরিতেও বিশেষ ভূমিকা আছে নারকেলের জলের। চুল নরম, মসৃণ ও জেল্লাদার করে তুলতে চাইলে নারকেলের জল ব্যবহার করা যেতে পারে।
আরও পড়ুন:
ব্যবহারের বিধি
লম্বা চুলের জন্য প্যাক
২ চামচ নারকেল তেলের সঙ্গে ১ চামচ অ্যালো ভেরা জেল মিশিয়ে নিতে হবে। তাতে ১টি ভিটামিন ই-ক্যাপসুল মেশাতে হবে। এই প্যাক ভাল করে চুলে মালিশ করতে হবে। ১ ঘণ্টা পর শ্যাম্পু করে নিতে হবে।
খুশকি দূর করতে
আধ কাপ নারকেলের জলে আধখানা পাতিলেবুর রস মিশিয়ে দিতে হবে। এই প্যাক ভাল করে চুলে মালিশ করে ২০ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন। চুলের ঘনত্ব বৃদ্ধি করতে এই প্যাক খুবই উপযোগী।
চুলের রুক্ষতা দূর করার প্যাক
নারকেলের জলের সঙ্গে এক চামচ মধু মিশিয়ে নিতে হবে। ভাল করে চুলে মেখে আধ ঘণ্টা রেখে ধুয়ে ফেলতে হবে। এই প্যাক লাগালে চুল নরম ও মসৃণ হবে।
চুলের ঘনত্ব বৃদ্ধির প্যাক
পরিমাণ মতো নারকেলের জলে ২ চামচ টক দই মিশিয়ে নিন। এই প্যাকটি চুলে লাগিয়ে ৪৫ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলতে হবে। এটি চুলের প্রাকৃতিক কন্ডিশনার হিসাবে কাজ করবে।