Advertisement
E-Paper

প্রাণী নিধন রুখতে উদ্ভিজ্জ চামড়া কেনার ধুম পড়েছে! তাতে লাভ হচ্ছে না ক্ষতির পরিমাণই বাড়ছে?

নামী-দামি ব্র্যান্ডগুলিও ‘ক্রুয়েলটি ফ্রি’ বা ‘অহিংস’ চামড়ার বিজ্ঞাপন করছে। সেই চামড়ার জ্যাকেট, জুতো, পোশাক ব্যাগ সগর্বে প্রদর্শন করছেন তারকারাও। কিন্তু কেন? তাতে আদৌ কোনও লাভ হচ্ছে কি?

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৫:৪৭
শখের ব্যাগের ‘চামড়া’ কি দূষণের কাণ্ডারী?

শখের ব্যাগের ‘চামড়া’ কি দূষণের কাণ্ডারী? গ্রাফিক— আনন্দবাজার ডট কম।

চামড়া, যার সঙ্গে কোনও পশু বা প্রাণীর কোনও সম্পর্ক নেই। চামড়া যা ‘ভিগান’ অর্থাৎ উদ্ভিজ্জ। বাজারে এখন এই ধরনের ভিগান লেদারেরই ছড়াছড়ি। নামীদামি ব্র্যান্ডগুলিও ‘ক্রুয়েলটি ফ্রি’ ( যেখানে কোনও প্রাণী নিধন, বা প্রাণীর উপর নিষ্ঠুরতা প্রদর্শন হয়নি) বা ‘অহিংস’ চামড়ার বিজ্ঞাপন করছে। সেই চামড়ার জ্যাকেট, জুতো, পোশাক ব্যাগ সগর্বে প্রদর্শন করছেন তারকারাও। কিন্তু কেন? আচমকা প্রাণিজ চামড়া ছেড়ে কেন উদ্ভিজ্জ চামড়া বেছে নিচ্ছেন মানুষ?

কেন মানুষ ভিগান লেদার বেছে নিচ্ছেন?

কেউ ভাবছেন পরিবেশের কথা। কেউ কিনছেন, চামড়ার থেকে সস্তা বলেই। আবার কেউ বেছে নিচ্ছেন পরিবেশ সচেতন ভাবমূর্তি বজায় রাখার জন্য। কারণ এ যুগে ‘গোয়িং গ্রিন’ বা সবুজপন্থী হওয়াই নতুন ট্রেন্ড। পরিবেশ রক্ষার্থে হোক বা স্বাস্থ্য সচেতেনতার জন্য— মানুষ সেই সমস্ত রাসায়নিককে বর্জন করতে চাইছেন, যা গত কয়েক দশকে ধীরে ধীরে শিকড় ছড়িয়েছে দৈনন্দিন অভ্যাসে। যা থেকে ক্ষতি হচ্ছে পরিবেশের। ক্ষতি হচ্ছে নিজেদেরও। সেই ভাবনা থেকেই ভিগান লেদারের জনপ্রিয়তা। এমন জিনিস যা চামড়ার তৈরি জ্যাকেট, ব্যাগ, জুতোর মতোই গ্ল্যামারাস দেখতে হবে। অথচ তার জন্য কোনও পশু নিধনের প্রয়োজন পড়বে না। প্রয়োজন হবে না সেই পশুর চামড়াকে ব্যবহার যোগ্য করে তোলার পরিবেশ-নাশা প্রক্রিয়ার। কিন্তু দেখা যাচ্ছে, কার্যক্ষেত্রে যেমনটা ভাবা হয়েছিল, তা হচ্ছে না।

আদৌ কোনও উপকার হচ্ছে কি?

বাজারে পাওয়া অধিকাংশ সস্তা ভিগান লেদার আসলে পিভিসি (পলিভিনাইল ক্লোরাইড) বা পিইউ (পলিইউরেথেরিন) দিয়ে তৈরি। দু’টিই প্লাস্টিক বা পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য। প্লাস্টিক যেমন নষ্ট হয় না এবং প্রকৃতির সঙ্গে মিশে যেতে কয়েকশো বছর সময় নেয়, এই লেদারও ঠিক তেমনই। চামড়ার পণ্য তবু এক বার কিনলে বহু বছর টিকে যায়। কিন্তু ভিগান লেদারের সেই স্থায়িত্বও নেই। ফলে দ্রুত বর্জ্যে পরিণত হয় এবং প্লাস্টিকের মতোই প্রায় অবিনশ্বর হয়ে আবর্জনা বৃদ্ধি করে। এ ছাড়া ভিগান লেদার তৈরির সময় এক ধরনের বিষাক্ত ডাই এবং কেমিক্যাল বেরিয়ে আসে, যা মাটির জন্য ক্ষতিকর।

ফলে এক দিকে যখন মানুষ প্রাণী নিধন রুখতে এবং চামড়া পরিষ্কার করতে ব্যবহৃত ক্ষতিকর রাসায়নিক থেকে প্রকৃতিকে বাঁচাতে চামড়ার পণ্য বর্জনের কথা বলছেন, তখন ভিগান লেদারের ব্যবহার করে আদতে পরিবেশের আরও বেশি ক্ষতি করছেন।

ভেবে চিন্তে বাছুন

ভিগান লেদার মানেই পরিবেশবান্ধব— এই কথাটি যেমন ঠিক নয়, তেমনই কিছু পরিবেশ বান্ধব ভিগান লেদারও রয়েছে, যা প্রকৃত অর্থেই ‘ভিগান’ অর্থাৎ উদ্ভিদ থেকে জাত। প্রযুক্তির সাহায্যে উদ্ভিজ্জ উৎস থেকেও উচ্চমানের ‘লেদার’ তৈরি হচ্ছে, যা প্রকৃত অর্থেই পরিবেশবান্ধব। এগুলিকে বলা হয় প্ল্যান্ট বেসড লেদার। তেমনই কিছু লেদারের নাম জেনে রাখুন—

পিনাটেক্স: আনারসের পাতার ফাইবার বর্জ্য থেকে তৈরি এবং বায়োডিগ্রেডেবল।

মাশরুম লেদার: মাশরুমের শিকড় থেকে তৈরি। এটি খুব দ্রুত পচনশীল অথচ টেকসই।

ক্যাকটাস লেদার: ক্যাকটাস গাছ থেকে তৈরি। আর ক্যাকটাস বাড়ে অত্যন্ত কম জলে। তাই এটি পরিবেশের কোনও ক্ষতি করছে না। অথচ প্লাস্টিকের মতো বর্জ্য বৃদ্ধিও করছে না।

কর্ক লেদার: ওক গাছের বাকল থেকে তৈরি হয়। আর এর জন্য গাছ কাটারও প্রয়োজন পড়ে না।

আর যা খেয়াল রাখবেন

‘ভিগান লেদার’ লেখা দেখেই সন্তুষ্ট না হয়ে কেনার সময় লেবেলে চেক করুন। দেখে নিন সেটি ‘প্লাস্টিক মুক্ত’ বা উদ্ভিজ্জ বা সহজে পচনশীল জিনিস দিয়ে তৈরি কি না। যদি কেবল পিইউ বা পিভিসি লেদার লেখা থাকে, তবে বুঝতে হবে, তা পরিবেশের জন্য প্লাস্টিকের মতোই ক্ষতিকর।

Vegan Leather Environment Friendly Leather
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy