কেউ মুলতানি মাটি মাখেন, কেউ মাখেন চন্দন। পাতা বাটা, ফুলের পাপড়ি, ফলের ক্বাথ, খোসা কোরানো, দই, তেল, মধু— কত জনে কত কিছুই মাখেন ত্বকে। রূপচর্চায় নানারকমের প্রাকৃতিক উপাদানের ব্যবহার প্রাচীন কাল থেকেই হয়ে আসছে। তেমনই এক উপাদানের নাম শাঁখের গুঁড়ো বা ‘শঙ্খ ভস্ম’। উজ্জ্বল ও দাগহীন ত্বক পেতে অনেকেই তা ব্যবহার করে থাকেন। কিন্তু সত্যিই কি তাতে কাজ হয়? মুখে মাখলে কোনও ক্ষতি হয় না তো?
শাঁখের গুঁড়োর উপকারিতা
১। শাঁখের গুঁড়ো প্রাকৃতিক এক্সফোলিয়েটর বা স্ক্রাব হিসেবে কাজ করে। এটি ত্বকে জমে থাকা মৃত কোষ দূর করে ত্বককে তাৎক্ষণিকভাবে উজ্জ্বল ও মসৃণ করে তোলে।
২। শাঁখের গুঁড়ো ত্বকের অতিরিক্ত তেল বা সেবাম শুষে নিতে সাহায্য করে। ফলে ব্রণ ও ব্ল্যাকহেডসের উপদ্রব কমে।
৩। সঠিক নিয়মে ব্যবহার করলে এটি রোদে পোড়া কালচে ছোপ এবং ব্রণের হালকা দাগ দূর করতে সাহায্য করতে পারে।
ক্ষতির সম্ভাবনা আছে কি?
প্রাকৃতিক উপাদান হলেও শাঁখের গুঁড়ো সবার ত্বকের জন্য নিরাপদ নাও হতে পারে। তাই ব্যবহার করার আগে সাবধান হওয়া ভাল।
১। শাঁখের গুঁড়ো যদি খুব মিহি না হয়, তবে এর দানা ত্বকে সুক্ষ্ম আঁচড় তৈরি করতে পারে।
২। এটি ত্বক থেকে অতিরিক্ত তেল টেনে নেয়, তাই শুষ্ক বা সংবেদনশীল ত্বকে এটি ব্যবহার করলে ত্বক আরও রুক্ষ ও খসখসে হয়ে যেতে পারে।
৩। অনেকের ত্বকেই শাঁখের গুঁড়ো ব্যবহারের পর চুলকানি, লালচে ভাব বা র্যাশ দেখা দিতে পারে।
কী ভাবে ব্যবহার করা উচিত?
শাঁখের গুঁড়ো সরাসরি জলে মেখে লেই বানিয়ে ত্বকে না লাগিয়ে ওতে মেশান মধু বা টকদই। সঙ্গে গোলাপ জল মিশিয়ে প্যাক তৈরি করুন। মুখে ব্যবহারের আগে অবশ্যই কানের পেছনে বা হাতের ত্বকে প্যাচ টেস্ট করে নেওয়া উচিত। সপ্তাহে একদিনের বেশি এটি ব্যবহার না করাই শ্রেয়।