রোজের কিছু অভ্যাসের কারণেই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ত্বক। ব্রণ, লালচে ভাব, খসখসে হয়ে যাওয়া, ইত্যাদির সমস্যা দেখা যায় ঘরে ঘরে। কিন্তু নেপথ্য কারণগুলি নিয়ে ভাবতে বসলেই জটিলতার দিকে মন যায়। অথচ রোজের কিছু সাধারণ কাজকর্মেই ক্ষতি হয়ে চলেছে। ফলে, যতই ত্বকের যত্ন নিন, উপকার মিলছে না। কোন কোন অভ্যাস দায়ী হতে পারে?
১. ঘষে ঘষে মুখ ধোয়া: সকালে বা রাতে বাড়ি ফিরে ময়লা তোলার জন্য জোরে জোরে মুখে সাবান ঘষেন অনেকে। মনে করেন, যত বলপ্রয়োগ করা যাবে, ততই উপকার হবে। কিন্তু এ ভাবে আসলে হিতে বিপরীত হচ্ছে। ত্বকের উপরের স্তর অর্থাৎ ডার্মিসের ক্ষতি হচ্ছে। তাই চর্মরোগ চিকিৎসকেরা কর্কশ ক্লিনজ়িংয়ের পদ্ধতি এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেন। গায়ের চামড়া খুব জোরে ঘষলে বা বেশি পরিমাণে স্ক্রাব করলে ত্বকের প্রাকৃতিক তেল চলে যায়। তাতে ত্বকে রুক্ষতা, শুষ্কতা, লালচে ভাব দেখা যায়। সেখান থেকে অনেক সময়ে ব্রণও হতে পারে।
ত্বকের উপরের স্তর অর্থাৎ ডার্মিসের ক্ষতি হচ্ছে। ছবি: সংগৃহীত
২. মুখে হাত দেওয়া: বার বার গালে, নাকে, কপালে হাত দিয়ে ফেলেন অজান্তে? সেখান থেকেও খারাপ প্রভাব পড়তে পারে ত্বকে। সারা দিন ধরে ফোন, ডেস্ক, দরজা, ল্যাপটপ, গাড়িঘোড়া ইত্যাদির পৃষ্ঠস্থল থেকে হাতে ব্যাক্টেরিয়া জমে। তাই বার বার মুখমণ্ডলে হাত দিলে সরাসরি মুখের ত্বকে সঞ্চারিত হয় জীবাণুগুলি। হাতের তালুতে থুতনি ভর দিয়ে রাখা, চোখ চুলকানো, গালে হাত দিয়ে বসা ইত্যাদি অভ্যাস ত্যাগ করা দরকার। নয়তো ত্বকে প্রদাহের সমস্যা বাড়তে পারে। সেখান থেকে ব্রণ হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ে।
৩. মেকআপ নিয়ে ঘুমোনো: আলস্যের জেরে অনেকেই বাড়ি ফিরে মেকআপ তোলেন না। ফাউন্ডেশন বা ক্রিম হোক, কাজল বা লিপস্টিক, বেশি ক্ষণ ধরে ত্বকের উপর থেকে গেলে, এগুলি ত্বকের ছিদ্র বন্ধ করে দিতে পারে। এর ফলে ব্রণর সমস্যা বাড়তে পারে।
৪. সানস্ক্রিন বাদ দেওয়া: সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মি থেকে বাঁচার জন্য সানস্ক্রিন যে অত্যাবশ্যক, তা অনেকেই ভুলে যান। কিন্তু এই একটি ধাপ বাদ দেওয়ার ফলেই ত্বকে নানাবিধ সমস্যা দেখা দিতে পারে। ব্রণ থেকে লালচে ভাব, ত্বকের অসমান রং থেকে অকালবার্ধক্য— সবের সঙ্গে যুঝতে সানস্ক্রিনের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। তাই উচ্চ মানের পণ্য ব্যবহার করা দরকার রোজ। এমনকি, মেঘলা দিনেও ভাল সানস্ক্রিন মাখা উচিত।
৫. জলপানের ঘাটতি থাকা: গরমের সময়ে জলের ঘাটতি হতে পারে শরীরে। সেখান থেকে ত্বকেও জলশূন্যতার সমস্যা দেখা দিতে পারে। উপরন্তু এ সময়ে কার্বোনেটেড পানীয় পান করার প্রবণতা বাড়ে। কিন্তু তাতে জলশূন্যতা বাড়ে বই কমে না। তাই কেবল পর্যাপ্ত পরিমাণে পরিশুদ্ধ পানীয় দিয়েই এই সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।