দিল্লি মেট্রোয় কোলে ব্যাগ নিয়ে সিটে বসে সফর করছিলেন তরুণী। তত ক্ষণ সব ঠিক ছিল। সিট ছেড়ে উঠে দাঁড়াতেই সহযাত্রীদের চক্ষু চড়কগাছ। তরুণীর ঊর্ধ্বাঙ্গে নামমাত্র অন্তর্বাস এবং কোমরে জড়ানো একফালি গোলাপি মিনি স্কার্ট। এ ছাড়া তাঁর পরনে আর কিছুই নেই। তাঁর খোলামেলা পোশাকে কেউ লজ্জিত, কেউ বা হতবাক। মেট্রোর মধ্যে শুরু হল ফিসফাস। কিন্তু যাঁকে নিয়ে আলোচনা, তিনি একে বারে নির্বিকার। গন্তব্য আসতেই মেট্রো থেকে নেমে গেলেন তিনি। অল্প সময়েই সমাজমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যান ওই তরুণী। উরফি জাভেদের সঙ্গে তাঁর তুলনাও শুরু হয়ে যায়। অবশেষে তাঁর পরিচয়ও প্রকাশ্যে এল।
সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে-র এক সাক্ষাৎকার থেকে জানা গিয়েছে, তরুণীর নাম রিদ্ম চানানা। কেন তাঁর এই পরিধান এবং সমাজের কটাক্ষ তিনি কী ভাবে সামলান, সে সব কথা রিদ্ম জানিয়েছেন ওই সাক্ষাৎকারে। তিনি বলেছেন, তাঁর পরিধান নিয়ে তাঁর পরিবারের লোকজনও বিশেষ খুশি নন। প্রতিবেশীদের হুমকির মুখেও তাঁকে বেশ কয়েক বার পড়তে হয়েছে। কিন্তু তিনি এ সব নিয়ে চিন্তিত নন। তিনি বলেছেন, “আমি কী পরব, সেটা সম্পূর্ণ আমার বিষয়। সাময়িক খ্যাতি পাওয়ার কোনও ইচ্ছে আমার নেই। লোকে কী বলবে, আমি সেই সব নিয়ে ভাবতে রাজি নই। উরফি জাভেদের দ্বারা আমি অনুপ্রাণিত নই। কয়েক দিন আগে পর্যন্তও আমি তাঁকে চিনতাম না। আমার এক বন্ধু সম্প্রতি তাঁর ছবি আমাকে দেখিয়েছে। তার পর তাঁর বিষয়ে জেনেছি।”
What is wrong with #delhimetro
— YoursJaskier (@JaskierYours) April 2, 2023
#Girls How can you travel like this in #delhimetro
#DelhiMetroDiaries #delhi #womenempowement #womensafety #delhipolice #CISF #feminism #feminist #feminists
●Lets see if @OfficialDMRC @DelhiPolice have the guts to ans these ques? pic.twitter.com/IsAabGPJi7
এই বিষয়ে নিজেদের বক্তব্যও জানিয়ে দিল্লি মেট্রো কর্তৃপক্ষ টুইটারে লিখেছিলেন, “আশা করা হচ্ছে সকল যাত্রীরা সামাজিক শিষ্টাচার এবং নিয়ম মেনে মেট্রোয় চলাচল করবেন। কেউ এমন কিছু করবেন না, যা সহযাত্রীদের অস্বস্তি কারণ হতে পারে। অন্যথায় অভিযুক্ত যাত্রীর বিরুদ্ধে উপযুক্ত পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এ বিষয়ে রিদমকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, “দিল্লি মেট্রো নিজেদের নিয়মই ভুলে যাচ্ছে। মেট্রোর ভিতরে ভিডিয়ো তোলা নিষিদ্ধ। সেটা মনে হয় কর্তৃপক্ষ ভুলে গিয়েছেন। মেট্রোর মধ্যে ওই রকম জামাকাপড় পরে আমি যদি অপরাধী হই, তবে যিনি বা যাঁরা ভিডিয়োটি তুলেছেন, তাঁরাও সমান অপরাধী।”
১৯ বছর বয়সী রিদ্ম আরও বলেন, “এক দিনে এ সব হয়নি। এটি একটি প্রক্রিয়া। বহু দিন ধরেই আমি এ ভাবে চলাচল করছি। এত দিন এ সব ভাইরাল হয়নি। একটি রক্ষণাত্মক পরিবারে থেকে সব সময় যা খুশি করা যায় না। অবশেষে এক দিন সিদ্ধান্ত নিলাম আমার জীবন, আমি যা খুশি করব।” তিনি যোগ করেন, “এই জন্য আমায় এখনও কোনও সমস্যার মুখে পড়তে হয়নি। আর কেউ যদি কটাক্ষ করেনও, আমি সে সব এড়িয়ে চলি।”
আরও পড়ুন:
রিদ্মের ভিডিয়ো টুইটারে ভাইরাল হতেই এক জন লেখেন, “যাক, দিল্লিও এ বার নিজস্ব উরফি পেল।” হেসে সমর্থন জানান অনেকেই। আর এক জন লেখেন, “উরফির কিন্তু এখন অনেক প্রতিযোগী!” উরফি জাভেদকে নিয়ে যত নিন্দেমন্দই হোক, তারকা থেকে সাধারণ মানুষ, অনেকেই তাঁর অনুরাগী। বুকের উপর জোড়া রাজহাঁস দেখে শোয়ের মাঝখানে তাঁর প্রশংসা করেছেন সানি লিওনি। পোশাক নিয়ে উরফির নতুন নতুন উদ্ভাবন প্রভাবিত করে অনেককেই। সমাজমাধ্যমে চর্চা হয়, বিতর্কও বাড়তে থাকে।