এসি বা এয়ার কুলার এখন আর বিলাসিতা নয়। গত কয়েক বছরে যে ভাবে গরমের দাপট বেড়েছে, তাতে কার্যত সুস্থ থাকতেই এই ধরনের যন্ত্রের প্রয়োজনীয়তা বাড়ছে। দিনে দিনে কমছে সবুজ, তার উপর বাড়ছে দূষণ। গোটা বিশ্বই বিশ্ব উষ্ণায়নের প্রকোপে। এমন পরিস্থিতি খোঁজ চলছে বিকল্প পন্থার। সকলের পক্ষে বাতানুকূল যন্ত্র কেনা সম্ভব নয়। তা ছাড়া যন্ত্র থাকলেও দিনভর তা চললে (এসিতে ব্যবহৃত হাইড্রোফ্লুরোকার্বন গ্যাস বিশ্ব উষ্ণায়নের জন্য দায়ী) পরিবেশের যেমন ক্ষতি তেমনই বিদ্যুতের বিলও আসবে আকাশছোঁয়া। বদলে ফিরতে পারেন আগেকার দিনে। যখন এমন যন্ত্র সহজলভ্য ছিল না, তখনও কিন্তু বাড়ি-ঘর ঠান্ডা রাখতে কিছু কিছু পন্থা চালু ছিল।
চেনা সেই পন্থা হল খসখস। আগেকার দিনে বড় বড় দালান, পুরনো বাড়ির নীচে থাকা ব্যাঙ্ক বা অফিসঘর ঠান্ডা রাখতে এর ব্যবহার ছিল।ভেটিভার ঘাসের লম্বা, মজবুত শিকড় দিয়ে তৈরি এই পর্দাই আবার গরমের দিনে ঘর ঠান্ডা রাখতে প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠছে। নতুন মোড়কে অনলাইনেও মিলছে তা। শুধু জানলা নয়, বারান্দা থেকে বাড়ির যে কোনও অংশেই তাপ নিয়ন্ত্রণে তা ব্যবহার করা যায়।
খসখস বা ঘাসের শিকড় দিয়ে তৈরি পর্দা ঘর থাকবে ঠান্ডা। ছবি:সংগৃহীত।
ভেটিভার বা খস হল ক্রাইসোপোগন জ়িজ়ানিওইডেস ঘাস। তার শিকড় প্রায় ১০ ফুট পর্যন্ত লম্বা হয়। তা দিয়েই তৈরি হয় পর্দা। ঘর ঠান্ডা রাখার পন্থাও সহজ। এই পর্দা ভিজিয়ে রাখতে হয়। সেই জল যখন বাষ্পীভূত হয় তখন, ঘর ঠান্ডা হয়ে যায়। ঘর ঠান্ডা রাখতে কাজ করে বাষ্পীভবন।
আর কী সুবিধা
· ঘর ঠান্ডা হয় প্রাকৃতিক ভাবে, ফলে বিদ্যুৎ খরচ বাঁচে। ঘর বেশি গরম থাকলে এসি চালালে যন্ত্রের উপরেও বাড়তি চাপ পড়ে। কিন্তু ঘর তুলনামূলক কম গরম হলে, এসি চালালে ঘর দ্রুত ঠান্ডা হয়। বিদ্যুৎ খরচ এই ভাবেও সাশ্রয় হতে পারে।
বারান্দাও ঢেকে দিতে পারেন এমন পর্দা দিয়ে। ছবি:সংগৃহীত।
· প্রাকৃতিক এই ঘাস বা শিকড়ের নিজস্ব একটি গন্ধ থাকে। মৃদু গন্ধটি বেশ স্বস্তিদায়ক।
· কিছু কিছু পোকামাকড় এই ধরনের ঘাসের গন্ধ, বা প্রাকৃতিক তেল পছন্দ করে না। ফলে জানলা বা বারান্দা তা দিয়ে ঢেকে রাখলে পোকামাকড় কম ঢুকতে পারে।
· জানলায় ভেটিভারের পর্দা দিয়ে জানলা খুলে রাখা যায়। এই পর্দা ধুলো কিছুটা হলেও আটকাতে সাহায্যে করে। চড়া রোদ আসতে বাধা দিয়ে ঘরে আরামদায়ক পরিবেশ তৈরি করে।