কাজের সময় কাজ, আর বাকি সময়টা পরিবার এবং নিজের জন্য। বহু দিন ধরে চলে আসা এই ধারণাই বদলেছে গত কয়েক বছরে। কাজ এবং ব্যক্তিজীবনের যে সূক্ষ্ম সীমারেখা ছিল, তা আর নেই। বরং বদলে যাওয়া কর্মসংস্কৃতির সঙ্গে সময় এবং ব্যক্তিজীবনকে আলাদা করাই কঠিন হয়ে পড়েছে।
১০টা-৫টার কর্মসংস্কৃতি আর নেই-ই বলা যায়। বরং সৃজনশীল কাজে যেমন সময়ের হিসাব থাকে না, কর্পোরেট জগতের কাজের জায়গাটিও তেমন। অভিযোগ, ‘হাইব্রিড’ বা অফিস-বাড়ি মিলিয়ে মিশিয়ে কাজের সুযোগ দিয়ে, ব্যক্তিগত সময়টাই নিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
তবে কর্পোরেট জগতের পেশাদাররা জানাচ্ছেন, ভাবনায় বদল দরকার এখানেই। কাজের পরিসর যেমন প্রশস্ত হয়েছে, সময়সীমা বৃদ্ধি পেয়েছে, তেমন কাজের ক্ষেত্রেও নিজের মতো করে সময়কে কাজে লাগানোর সুযোগও তৈরি হয়েছে। সময় নয় বরং নিজের শক্তি, ক্লান্তির ঘড়ি বুঝে কাজের জগতে মন দিলেই, বাড়তে পারে উৎপাদনশীলতা। ১০ ঘণ্টা কাজ করছেন, না কি ১২ ঘণ্টা— তার চেয়েও বড় কথা, সেই সময়ের মধ্যে কতটা কাজ হচ্ছে।
কর্মজীবন নিয়ে ক্লান্তির অভিযোগ উঠছে। কাজ বজায় রাখতে গিয়ে ব্যক্তিগত জীবন উপেক্ষিত হচ্ছে। তবে পেশাদারদের পরামর্শ, সময় নিয়ে না ভেবে ভাবা দরকার কর্মপন্থা নিয়ে। কাজের জগৎ যখন বদলেছে, তেমনই বদলানো প্রয়োজন পুরনো ভাবনাও।
বর্তমান কাজের জগতে কী কী জরুরি
সঠিক কৌশলের দ্বারা মিলতে পারে স্বাধীনতা, গুণগত ভাবে উন্নত মানের কাজ এবং নিজের মতো সময় ব্যবহারের সুযোগ। মিলতে পারে নিজস্ব শক্তিকে সঠিক পথে পরিচালনা করা, জীবনকে নিজের মতো করে পরিচালনার সুযোগও। আর এই সব কিছুই সম্ভব, যদি কাজ এবং ব্যক্তিজীবনের ভারসাম্য রক্ষার্থে নিজের মতো করে কাজের ধরন তৈরি করা যায়।
বিশ্বের মানব সম্পদ উন্নয়ন বিভাগের সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, নমনীয় সময়সূচি পছন্দ করছেন কর্মীরা, যেখানে তাঁরা সুবিধামতো সময়ে কাজ করতে পারেন। ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাজের বদলে উৎপাদনশীলতার জন্য দরকার হচ্ছে কর্মক্ষেত্রে স্বাধীনতা এবং সঠিক কৌশল। আবার বাস্তবতাহীন লক্ষ্য, কাজের নকশায় ভুলই কর্মক্ষেত্রে কর্মীর শক্তি অপচয়ের কারণ হতে দাঁড়াচ্ছে।
উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির জন্য কোন কৌশল কাজে আসবে
১। সময়ে নজর না দিয়ে নিজের কর্মক্ষমতাকে সঠিক কায়দায় পরিচালনা করা জরুরি। ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাজ করতে করতে শক্তিক্ষয় হবেই। তাই যখন কাজ করতে ভাল লাগে, সেই সময় গুরুত্বপূর্ণ কাজ সেরে ফেলা দরকার। টানা কাজ না করে মাঝেমধ্যে খানিক বিরতি, একটু হেঁটে এলেও শরীর মন চনমনে বোধ হয়। তা ছাড়া, একের পর এক মিটিং, একসঙ্গে একাধিক দিকে মাথা ঘাামিয়ে কাজ করতে গেলে কাজে ভুল হওয়ার সম্ভবনা বাড়ে, ক্লান্তিও আসে তাড়াতাড়ি। নিজের কর্মক্ষমতাকে কৌশলে ব্যবহার করা জরুরি।
২। কোনও একটি প্রজেক্ট বা কাজের ফলাফল কী হবে, সেই লক্ষ্যে কর্মপন্থা সাজানো দরকার। শুধু বর্তমান নয়, কাজের ভবিষ্যৎ নিয়ে পর্যালোচনাও জরুরি।
৩। প্রতিটি মানুষেরই জীবন প্রত্যেকের থেকে আলাদা। নিজের জীবনের প্রয়োজনের সঙ্গে সাযুজ্য রেখে কোন সময়ে, কী ভাবে কাজ সাজালে ভাল হয়, তা গুছিয়ে রাখা জরুরি। তা হলে ব্যক্তিজীবনও বজায় থাকবে, কাজের জগৎও ক্লান্তিকর মনে হবে না।
৪। কাজের বাস্তবোচিত লক্ষ্যমাত্রা থাকা দরকার। কোন সময়ে কতটা কাজ করা যায়, তা মাথায় রাখা জরুরি। অতিরিক্ত লক্ষ্যমাত্রা নিজের জন্য যেমন ভাল নয়, তেমনই কোনও দল পরিচালনা করলে, বাকিদের উপরে চাপিয়ে দেওয়াও ঠিক নয়।
৫। কাজের পরিবেশও খুব গুরুত্বপূর্ণ। অনেক সময় কাজের চাপ যতটা না থাকে, পরিবেশ ও পরিস্থিতির কারণে তা বেশি মনে হয়। সে ক্ষেত্রে কাজের অনুকূল পরিবেশ যাতে বজায় থাকে, তা-ও দেখা দরকার।