ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে পেন্টাগনের সঙ্গী হতে অস্বীকার করায় এ বার ব্রিটেনকে হুঁশিয়ারি দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সেই সঙ্গে স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতে হরমুজ প্রণালীতে তেহরানের অবরোধের জেরে জ্বালানি সমস্যাকেও জুড়ে দিলেন সেই প্রসঙ্গে।
নিজের সমাজমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মঙ্গলবার ব্রিটেনকে খোঁচা দিয়ে লিখেছেন, ‘‘যে সব দেশ হরমুজ় প্রণালী অবরোধের কারণে জেট জ্বালানি পাচ্ছে না, যেমন ব্রিটেন, যারা ইরানের বিরুদ্ধে অভিযানে যোগ দিতে অস্বীকার করেছিল, তাদের প্রতি আমার পরামর্শ— নম্বর ১, আমেরিকা থেকে কিনুন, আমাদের প্রচুর আছে, এবং নম্বর ২, কিছু বিলম্বিত সাহস সঞ্চয় করুন, প্রণালীতে যান, আর সরাসরি নিয়ে আসুন।’’ এর পরেই ওই পোস্টে তাঁর হুঁশিয়ারি— ‘‘আপনাদের নিজেদের জন্য লড়াই করা শিখতে শুরু করতে হবে। আমেরিকা আর আপনাদের সাহায্য করতে থাকবে না, ঠিক যেমন আপনারা আমাদের জন্য ছিলেন না। ইরান প্রায় ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়েছে। অভিযানের কঠিন অংশ শেষ। নিজেরাই গিয়ে নিজের তেল নিয়ে আসুন।’’
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন সেনার ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরুর কয়েক দিন আগে ব্রিটিশ সংবাদপত্র ‘দ্য টেলিগ্রাফ’ দাবি করেছিল, দক্ষিণ-পশ্চিম ইংল্যান্ডের সুইন্ডনের কাছে ব্রিটিশ বায়ুসেনার (রয়্যাল এয়ার ফোর্স) ঘাঁটি ব্যবহার করে ইরান আক্রমণ করতে চেয়েছিলেন ট্রাম্প। কিন্তু ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টার্মার আন্তর্জাতিক বিধি লঙ্ঘনের যুক্তি দিয়ে অনুমতি দেননি। সে সময় ওয়াশিংটনের তরফে কোনও প্রতিক্রিয়া জানানো না-হলেও ট্রাম্পের মঙ্গলবারের হুঁশিয়ারিতে ‘দ্য টেলিগ্রাফ’-এর প্রতিবেদনের সত্যতার ছাপ স্পষ্ট বলে মনে করছেন অনেকেই।
ট্রাম্প সোমবার সমাজমাধ্যমে তেহরানকে হুঁশিয়ারি দিয়ে লিখেছিলেন, ‘‘ইরানে আমাদের সামরিক অভিযান শেষ করার জন্য একটি নতুন, এবং আরও যুক্তিসঙ্গত এবং গভীর আলোচনা চলছে। উল্লেখযোগ্য অগ্রগতিও হয়েছে। কিন্তু যদি কোনও কারণে খুব শীঘ্রই একটি চুক্তি না-হয়, যা সম্ভবত হবে এবং যদি হরমুজ় প্রণালী অবিলম্বে ‘বাণিজ্যের জন্য উন্মুক্ত’ না-করা হয়, তবে আমরা ইরানে আমাদের ‘নরম উপস্থিতিতে’ ইতি টানব। তাদের সমস্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র, তেলের খনি এবং খার্গ দ্বীপ (এবং সম্ভবত সমস্ত লবণাক্ততা অপসারণ কেন্দ্রও!) উড়িয়ে দিয়ে সম্পূর্ণ ভাবে ধ্বংস করে দেব।’’ কিন্তু তাঁর ওই হুঁশিয়ারির পরেও কোনও নমনীয় অবস্থান দেখায়নি মোজ়তবা খামেনেই-মাসুদ পেজ়েশকিয়ানের দেশ।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- ইরানের বাহিনী তীব্র প্রত্যাঘাতের হুঁশিয়ারি দেওয়ার পর সমাজমাধ্যমে নতুন বিবৃতি দিলেন ট্রাম্প। লিখেছেন, ‘‘ওরা নাকি বলেছে প্রত্যাঘাত করবে। সেটা করার সাহস যেন না দেখায়। যদি করে, আমরা এমন আঘাত করব যা আগে কখনও দেখা যায়নি।’’
- আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই নিহত হয়েছেন। রবিবার সকালে তেহরান এই সংবাদ নিশ্চিত করেছে। তেহরানের রাস্তায় কান্নার রোল। মহিলারা খামেনেইয়ের ছবি হাতে রাস্তায় নেমেছেন। ইরান জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট-সহ তিন সদস্যের কাউন্সিলের হাতে আপাতত দেশ চালানোর ভার থাকবে।
- শনিবার সকাল থেকে ইরানের উপর হামলা শুরু করেছিল ইজ়রায়েল। নেতানিয়াহু দাবি করেন, খামেনেই এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজ়েশকিয়ানকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। আমেরিকাও সেই হামলায় ইজ়রায়েলকে সমর্থন করেছে। ইজ়রায়েলি ও মার্কিন বাহিনীর যৌথ হামলায় মুহুর্মুহু ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র আছড়ে পড়েছে তেহরান-সহ ইরানের বড় শহরগুলিতে। ইরান প্রত্যাঘাত করছে। পশ্চিম এশিয়া জুড়ে যুদ্ধের আবহ।
-
‘আমাদের হাতে ক্ষেপণাস্ত্র না থাকলে ইরানের অবস্থাও হত গাজ়ার মতো’! দাবি পেজ়শকিয়ানের, নিশানায় আমেরিকা
-
‘ভুল, খুব ভুল করছে’! ইরানকে ফের কী নিয়ে হুঁশিয়ারি দিলেন ট্রাম্প? শান্তিবৈঠক বন্ধ করার হুমকিও মার্কিন প্রেসিডেন্টের
-
হিজ়বুল্লা-নিধনে ইজ়রায়েল হামলা চালিয়ে গেলেও ‘স্পিকটিনট’! ৩০০০০ কোটি ডলারে ইরানের মুখ বন্ধ করল আমেরিকা?
-
‘পাকিস্তানে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নেই’! যুদ্ধবিরতির শর্ত প্রকাশে দেরি নিয়ে প্রশ্নে মজাচ্ছলেই খোঁচা ভান্সের
-
হিজ়বুল্লার সঙ্গে ‘যুদ্ধবিরতি’ জানিয়েও ফের ইজ়রায়েলি হানা লেবাননে! শান্তিচুক্তিতে নারাজ নেতানিয়াহুর কৌশল কী?